রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে শিবির ও বিএনপি, ঘোষিত কমিটি প্রত্যাখান

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৬:১৬ অপরাহ্ণ ,২০ মার্চ, ২০১৭ | আপডেট: ৬:২১ অপরাহ্ণ ,২০ মার্চ, ২০১৭
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক॥ রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের ১৬৭সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। তবে নতুন কমিটিতে অছাত্র, বিবাহিত এবং শিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মির নাম থাকায় ঘোষিত কমিটি প্রত্যাখান করেছে রাজবাড়ী জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

গত ১৬ই মার্চ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসেন উক্ত কমিটির অনুমোদন দেন। অনুমোদিত কমিটিতে মোঃ জাকারিয়া মাসুদ রাজীবকে সভাপতি এবং মোঃ সাইফুল ইসলাম সুমন এরশাদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

এদিকে অনুমোদিত কমিটি গতকাল ১৯শে মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ পাওয়ার পর রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগ পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখান করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে ঘোষিত কমিটি বাতিল করে কমিটি পুনঃগঠনের দাবী জানানো হয়েছে।

রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ জাকারিয়া মাসুদ রাজীব ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম সুমন এরশাদ, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সামছুল সালেহীন অপু, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন, রাজবাড়ী পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি শাওন মিয়া টাইসন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জালাল পাঠানের অভিযোগ, জেলা ছাত্রলীগের ১৫১সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদনের জন্য গত ৩০/১২/২০১৬ইং তারিখে কেন্দ্রের নিকট দাখিল করা হয়। কিন্তু অনুমোদিত কমিটিতে জেলা কমিটির পাঠানো তালিকা থেকে ১৫জনকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি ৩৮জনের নতুন নাম যুক্ত করা হয়েছে যারা জীবনে কোন দিন ছাত্রলীগ করেনি। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির সদস্যদের ছাত্রত্ব থাকতে হবে, অবিবাহিত হতে হবে এবং বয়স ২৯বছরের মধ্যে থাকার বিধান যুক্ত থাকলেও অনুমোদিত কমিটিতে ১৫জন রয়েছে যারা অছাত্র, বিবাহিত ও বয়স ২৯বছরের ঊর্ধ্বে।

তারা আরো বলেন, জেলা ছাত্রলীগের অনুমোদিত কমিটিতে ইসলামী ছাত্র শিবিরের এক নেতাকে সহ-সভাপতি এবং বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল এবং জামাত ও বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত কিছু পরিবারের সদস্যরাও কমিটিতে পদ পেয়েছে। এ প্রেক্ষিতে নেতৃবৃন্দ অনুমোদিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে শিবির ও বিএনপি মুক্ত কমিটির অনুমোদন দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ জাকারিয়া মাসুদ রাজীব ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম সুমন এরশাদ বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মোবাইলে কথা বলে শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মির কমিটিতে যুক্ত থাকার বিষয়টি জানালে নেতৃবৃন্দ কমিটি সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের অনুমোদিত নতুন কমিটিতে শিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মির অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা।

তারা অভিযোগ করে বলেন, শুধু জেলা ছাত্রলীগেই নয় পৌর আওয়ামী লীগের কমিটিতেও মার্কামারা ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতা সহ-সভাপতি পদ পেয়েছে। এছাড়াও পৌর সভার বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটিতে বিএনপি ও অন্যান্য দলের লোকজনের পদের যেন অন্ত নেই।

শিবির ও বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী সুযোগ সন্ধানী হাইব্রিডদের তাফালিং-এর ফলে দলের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর আর্দশের সৈনিকেরা এখন কোন ঠাসা ও পদবীহীন। অতি সম্প্রতি একাধিক সরকারী সংস্থার তদন্তেও শিবির যোগদানের প্রামাণ মিলেছে বলে জানাগেছে। নব্য এ সকল হাইব্রিড নেতা এখন দলের জাতীয় ও স্থানীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফটোতুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তাদের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস ঢাকার অপচেষ্টা করছে। এতে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মিদের চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জরুরী ভিত্তিতে দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে দলকে জামাত-শিবির এবং বিএনপিমুক্ত করার জন্য হাইকমান্ডের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।

(সূত্র- দৈনিক মাতৃকন্ঠ)


এই নিউজটি 1899 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments