পদ্মার ভাঙনে হুমকিতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ ,১৯ মে, ২০১৭ | আপডেট: ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ ,১৯ মে, ২০১৭
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার॥ পদ্মা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে রাজধানীর সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়ার সবকটি ফেরিঘাট। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ঐতিহ্যবাহী এ ঘাট নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কায় রয়েছে।

গত বছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙনে সবগুলো ঘাট বিলীন হয়ে প্রায় ১৫দিন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিলো। তখন ঘাটগুলো পুণঃনির্মাণ করা হলেও ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবার গত বছরের চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যানবাহন চালক ও ফেরি সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া, প্রস্তাবিত নতুন ঘাট নির্মাণে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  প্রাথমিকভাবে ভাঙন থেকে ঘাট রক্ষার্থে বিআইডব্লিউটিএ প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যায়ে বল্লি পাইলিং ও বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে। এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে- ঘাট এলাকায় ভাঙন রোধের জন্য বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে পারছে না তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দুই নম্বর ঘাটের পাশে মিড ওয়াটার লেভেলে ঘাট তৈরী করছে। পাশাপাশি ভাঙন রক্ষায় বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে। এছাড়া চার নম্বর ঘাটের কাছে ভাঙন আরো বেড়েছে। ঘাট এলাকার কয়েকটি পরিবার আতঙ্কিত হয়ে অন্যত্র চলে গেছে। যে কোনো মুহুর্তে ঘাটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মন্ডল বলেন, নতুন ফেরী ঘাটের প্রস্তাবিত রাস্তার উপর অবস্থিত পরিবারগুলোকে আশ্রয়ণ প্রকল্পে পুর্নবাসনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে ৪নম্বর ঘাট রক্ষায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা প্রয়োজন।

লঞ্চ ঘাট মালিক সমিতি প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী বলেন, পাশের দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার তার বাড়ির সামনে মরা পদ্মায় বাঁধ দেওয়ায় পানি বাঁধা পেয়ে স্রোত এসে সরাসরি ঘাটে লাগে বলে ঘাট ভাঙছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, ঘাট রক্ষায় গত ৪ এপ্রিল থেকে ফেরি ঘাটের ৪৫০মিটার দৈর্ঘের এলাকায় বল্লি পাইলিং, বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এক নম্বর ফেরি ও লঞ্চ ঘাটের মাঝামাঝি স্থানে নতুন দুটি ফেরি ঘাট নির্মাণে সওজ এখনো সড়কের কাজ শুরু না করায় তারা ঘাট তৈরি করতে পারছে না। দুই থেকে চার নম্বর ঘাট পর্যন্ত রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা প্রয়োজন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তিন ও চার নম্বর ঘাট যে কোন মুহুর্তে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়ার ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, চার নম্বর ঘাটে ভাঙন শুরু হয়েছে, যা আসছে বর্ষা মৌসুমে ঘাট থাকবে না। ঘাটের সামনে থাকা চর ভেঙে যাওয়ার কারণে পানির স্রোত এসে সরাসরি ঘাটে আঘাত করায় ঘাট ভেঙে যাচ্ছে। নতুন ফেরি ঘাটের সংযোগ সড়ক দ্রুত নির্মাণের জন্য তিনি সওজ’র প্রতি অনুরোধ জানান।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গৌরপদ সূত্রধর জানান, ফেরি ঘাটে কাজের জন্য কোন বরাদ্দ নেই বলে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছেনা। বরাদ্দ প্রদানের জন্য উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দেবগ্রামের মরা পদ্মায় বাঁধের কারণে পানির স্রোত ফেরি ঘাটে চাপ সৃষ্টি করছে। বাঁধটি অপসারণ করা দরকার।

সওজ রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, নতুন ফেরি ঘাটের জমি বুঝে পেয়েছি, কার্যাদেশ হয়েছে। রাস্তার উপর কিছু বাড়ি-ঘর রয়েছে। আদালতে মামলা করায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ঘর-বাড়ি সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতা কামনা করেন। সমাধান হলেই দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

জেলা ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেলের আহবায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মানেয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, প্রস্তাবিত নতুন দুটি ফেরি ঘাট নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করাসহ আনুসঙ্গিক কাজ শেষ হয়েছে। দেবগ্রামের বাঁধের ব্যাপারে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বর্ষার আগেই(ঈদের আগে) ঘাটের সকল কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Comments

comments


এই নিউজটি 1698 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]