আদম বেপারির খপ্পড়ে স্বপ্ন চুরমার লিটনের!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৯:০০ অপরাহ্ণ ,২৫ মে, ২০১৭ | আপডেট: ৯:০১ অপরাহ্ণ ,২৫ মে, ২০১৭
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার॥ ৩৫ বছর বয়সী লিটনের স্বপ্ন ছিলো বিদেশে গিয়ে ভাগ্য পরিবর্তন করবেন। পরে দেশে ফিরে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করবেন। তাই তো ধার-দেনা করে ও লোন নিয়ে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা তুলে দেন আদম বেপারির হাতে। কিন্তু স্বপ্ন পূরণ হয়নি লিটনের। আদম বেপারির অবৈধ ভিসার ফাঁদে পড়ে কাতারে গিয়ে আট মাস পালিয়ে থাকার পর শূণ্য হাতে দেশে ফিরে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাকে।

রাজবাড়ী জেলার সদরের বাণীবহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়নপুর গ্রামের বাসিন্দা লিটনের পুরো নাম মো. হোসেন পাটোয়ারী লিটন।

লিটন বলেন, আমাদের গ্রামের আদম বেপারি খলিল ভূইয়ার দুই ছেলে কাতারে কাজ করে। সেই সুবাদে খলিল আমাকে কাতারে পাঠানোর প্রলোভণ দেখিয়ে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা চায়। তার কথায় বিশ্বাস করে আমি ধার-দেনা করে ও বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নিয়ে তার হাতে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা তুলে দেই। এরপর ২০১৬ সালের ১১সেপ্টেম্বর আমি কাতারে যাই। কাতারে বিমান বন্দরে পৌঁছে চার ঘন্টা বসে থাকার পর কয়েকজন দালাল এসে আমাকে নিয়ে একটি গোডাউনে আটকে রাখে। সেখানে সামান্য খাবার দেওয়া হতো আমাকে। তখনই আমি বুঝতে পারি আমাকে অবৈধ ভিসার মাধ্যমে এখানে আনা হয়েছে। পরে সেখান থেকে আমাকে মরুভূমির ভিতর দিয়ে অন্যস্থানে নিয়ে আটকে রাখা হয়। আমি বার বার তাদেরকে কাজের কথা বললেও তারা আমাকে কোনো কাজ দেয়নি। পরবর্তীতে এক বাংলাদেশীর সহযোগিতায় আট মাস কাতারের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াই। এরমধ্যে কাতারের পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ১২দিন জেলেও থেকেছি। অবশেষে গত ২মে আমি দেশে ফিরে আসি।

তিনি আরও বলেন, দেশে ফিরে এসে আদম বেপারি খলিল ভূইয়ার কাছে টাকা ফেরত চাইলে প্রথমে তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। ফলে গত ২৩মে আমি খলিল ভূইয়া ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগমের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি।

ধার-দেনা ও লোনের সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন লিটন। সংসার চালাতে এখন একটি ফার্ণিচারের দোকানে কর্মচারি হিসেবে কাজ নিয়েছেন তিনি। কেউ যেন তার মতো আদম বেপারির খপ্পড়ে পড়ে বিদেশে না যান, বিদেশ গমণইচ্ছুকদের এই পরামর্শ দিয়েছেন লিটন। সেই সাথে তিনি আদম বেপারি খলিল ভূইয়া ও তার কাতার প্রবাসী দুই ছেলের বিচার দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে আদম বেপারি খলিল ভূইয়া বলেন, আমি ও আমার দুই ছেলে লিটনকে কাতারে যাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করেছি। কিন্তু, তাকে ভিসা দিয়েছে অন্য একজন। তার কাছ থেকে আমি কোনো টাকা নেইনি।

বাণীবহ বাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী আরব আলী বলেন, ধার-দেনা করে ও লোন নিয়ে লিটন খলিল ভূইয়ার মাধ্যমে কাতারে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে কাজ না পেয়ে তিনি দেশে ফিরে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এলাকার অনেকেই তার কষ্ট দেখে তার বাড়িতে গিয়ে খাবার জন্য ধান-চাল দিয়ে আসছেন। আমিও গত তিনদিন ধরে আমার দোকানে কর্মচারি হিসেবে লিটনকে কাজ দিয়েছি।

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম/ আশিক

Comments

comments


এই নিউজটি 1508 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]