কাজ করেন ১৩ জন, কাগজে-কলমে ৭৮ জন!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:৫২ অপরাহ্ণ ,২ জুন, ২০১৭ | আপডেট: ১০:৫২ অপরাহ্ণ ,২ জুন, ২০১৭
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা সরেজমিনে ১৩ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে কাগজে-কলমে ৭৮ জন ভূয়া শ্রমিক দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করছেন

এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (০১ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মদাপুর ছোট ব্রীজ থেকে গান্ধিমারা বাজার পর্যন্ত রাস্তারর দুই পাশে সোল্ডারের মাটি ফেলানোর কাজ করছেন ১৩জন শ্রমিক। এদের মধ্যে ৭জন নারী ৬জন পুরুষ শ্রমিক। অথচ তালিকা অনুযায়ী সেখানে কাজ করার কথা ছিল ৭৮জন শ্রমিকের। শুধু একটি সাইডেই শ্রমিক কম ৬৫জন

এলাকাবাসীর অভিযোগ- একই অবস্থা ইউনিয়নের কাটাবাড়িয়া সূর্যদিয়া এলাকার অপর দুটি সাইডেও। সেখানেও তালিকার থেকে অনেক কম শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে

১৩ জনের মধ্যে নারী শ্রমিকরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তারা একই পরিমাণ শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। তবে এখানকার সরদার বললেন ভিন্ন কথা। তার ভাষায়- শ্রমিকরা আজকেই কম। কিছু হিন্দু শ্রমিক আছে, বাড়িতে পূজা থাকায় তারা আজ আসেননি

পরিসংখ্যান বলছে- শুধু একটি সাইডেই যদি গড়ে প্রতিদিন ৬০জন শ্রমিক কম থাকে তাহলে এই ৬০জনের বেতন আসে ২০০টাকা হারে ১২হাজার টাকা। আর ৪০দিনে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৪লাখ ৮০হাজার টাকা

অভিযোগ রয়েছে- উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউনিয়নের ট্যাক অফিসারেরে যোগসাজশে প্রকল্পটি থেকে অর্থ আত্মসাৎ বাণিজ্য চলছে

বিষয়ে কালুখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মকসুদুল আলম বলেন, মদাপুর ছোট ব্রীজ থেকে গান্ধিমারা বাজার পর্যন্ত রাস্তার সোল্ডারের কাজে রাস্তার ধারে মাটি না থাকায় সেখানে অল্প শ্রমিক কাজ করছেন। তবে মাটিগুলো ট্রাকে করে অন্য স্থান থেকে এনে সেখানে ফেলানো হবে

মদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারমান আবুল কালাম মৃধা বলেন, নিয়মিত তালিকা অনুযায়ী শ্রমিকরা কাজ করেন। আদিবাসী কিছু শ্রমিকদের আজকে পূজা থাকায় তারা কাজে আসেননি। এছাড়া ২০০টাকায় কোনো শ্রমিক পাওয়া যায় না। অনেক বুঝিয়ে এদের দিয়ে কাজ করানো হয়

পূজার কারণে এক দিনে ৬৫ জন শ্রমিক অনুপস্থিত হয় কিভাবে? এমন প্রশ্নের কেনো সদুত্তর দিতে পারেননি চেয়ারম্যান আবুল কালাম

কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও, ভারপ্রাপ্ত) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, মদাপুর ছোট ব্রীজ থেকে গান্ধিমারা বাজার পর্যন্ত রাস্তারর কাজে অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (০১ জুন) সকালে সেখানে পরির্দশন করেছি। সেখানে শ্রমিক কম রয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই প্রকল্পের বিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের ট্যাক অফিসার যখন বলবেন কাজ ঠিকমতো হচ্ছে, তখনই বিল দেওয়া হবে। এছাড়া অপর দুটি সাইডের কাজ মোটামুটি ঠিক আছে

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম/ আশিক


এই নিউজটি 2689 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments