সাকিব-রিয়াদের শতকে টাইগারদের অবিস্মরণীয় জয়

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ ,১০ জুন, ২০১৭ | আপডেট: ৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ ,১০ জুন, ২০১৭
পিকচার

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেটে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অনবদ্য শতকে অবিস্মরণীয় এই জয়ে সেমিফাইনালে খেলার আশাও টিকিয়ে রাখল টাইগাররা।

 

৩৩ রানে প্রথম চার ব্যাটসম্যান ফিরে যান সাজঘরে। সেই ম্যাচে আর কী থাকে! শুরুতেই এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ে নিশ্চয় অন্ধকার নেমে এসেছিল বাংলাদেশ শিবিরে। নিউজিল্যান্ড হয়তো ধরেই নিয়েছিল, জিতেই গেছে তারা। কিন্তু ক্রিকেট যে গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা, একথাও বোধহয় ভুলে গিয়েছিল কিউইরা। তাই তো ধ্বংসস্তূপ থেকে শুরু হয় সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর লড়াই। যেমন-তেমন লড়াই নয়, একেবারে তাক লাগানো ব্যাটিং। ২৬৬ করতে নামা বাংলাদেশকে ধাক্কাটা দিয়েছিলেন টিম সাউদি। সেই ধাক্কা বেশ ভালোভাবেই সামলে পাল্টা জবাব দিল বাংলাদেশ মাহমুদউল্লাহ ও সাকিবের ব্যাটে।

 

এ দু’জনের রেকর্ড ২২৪ রানের জুটিতে বাংলাদেশ পাঁচ উইকেটে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে জোরালো করে তুলল সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা। তিন ম্যাচে তাদের তিন পয়েন্ট। শনিবার অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলে বাংলাদেশ চলে যাবে শেষ চারে। তবে অস্ট্রেলিয়া জিতলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রুফি থেকে বিদায় নিতে হবে বাংলাদেশকে। তাই টাইগারভক্তরা যে ইংল্যান্ডকে সমর্থন করবে, তা নিশ্চিত। সেই সঙ্গে প্রার্থনা করবে বৃষ্টির জন্যও। এ-গ্রুপ থেকে আগেই সেমিফাইনালে চলে গেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।

 

শুক্রবার কার্ডিফে বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনল ১২ বছর আগের সুখস্মৃতি। সেবার মোহাম্মদ আশরাফুলের শতকে বাংলাদেশ হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। এদিন সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর দুর্দান্ত শতকে বাংলাদেশ পাঁচ উইকেটে হারায় নিউজিল্যান্ডকে। ২০০৫ সালে সেই জয়ও এসেছিল জুন মাসে এবং পাঁচ উইকেটে। কার্ডিফ ফিরে এল কার্ডিফে। বাংলাদেশ জন্ম দিল আরেক রূপকথার। ম্যাচসেরা সাকিব সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফিরে গেলেও মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত থাকেন ১০২ রানে। ১০৭ বলের ইনিংসে আটটি চার ও দুটি ছয় হাঁকান তিনি। জয়সূচক বাউন্ডারি দিয়ে ম্যাচ শেষ করা মোসাদ্দেক চার বলে সাত রানে অপরাজিত থাকেন। তিনটি উইকেট নেন সাউদি। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজেও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

 

শেষ ৬০ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭০ রান। সাকিব তখন ৭৯ এবং মাহমুদউল্লাহ ৭৭ রানে। দুই সেট ব্যাটসম্যান বাংলাদেশের জয় তখন দৃষ্টির সীমানায় নিয়ে এসেছেন। সাউদিকে চার মেরে সাকিব ২০০ পার করান বাংলাদেশকে। ৮৫-তে রানআউট হওয়া থেকে বেঁচে যান সাকিব। পরের বলেই সাউদিকে বাউন্ডারি মারেন। সমীকরণ আরও সহজ হয়ে যায়। ৩৫ বলে ৩২। ৩০ বলে ২৬।

 

সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ দু’জনই তখন সেঞ্চুরি থেকে দুই রান দূরে। মিলনেকে ছয় মেরে শতক পূর্ণ করেন সাকিব। ওডিআইতে তার সপ্তম সেঞ্চুরি। পরের ওভারে পরপর দুই বলে বোল্টকে চার মেরে তৃতীয় বলে সাকিব বোল্ড। ১১৫ বলে ১১৪ রান। ১১টি চার ও একটি ছয়। তার আউট হওয়ার মধ্যদিয়ে পঞ্চম উইকেটে ২২৪ রানের জুটি ভাঙে। যা যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। এরআগে ওডিআইতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি ছিল ১৭৮ রানের। ২০১৫ সালে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই জুটি গড়েছিলেন মুশফিকুর ও তামিম। সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন কাল।

 

সাকিব বাংলাদেশকে জয় থেকে ৯ রান দূরে রেখে গিয়েছিলেন। ফিনিশিং দিলেন মাহমুদউল্লাহ। আগের ওভারের শেষ বলে বোল্টকে চার মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মাহমুদউল্লাহ। তার তৃতীয় ওডিআই সেঞ্চুরি। পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে মিলনেকে চার মেরে বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন মোসাদ্দেক। ১৬ বল বাকি থাকতে নিউজিল্যান্ডের ২৬৫ টপকে যায় বাংলাদেশ।

 

সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে জিততেই হতো। এই সমীকরণ সামনে রেখে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রুফিতে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। বাঁচা-মরার ম্যাচে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনে মাঠে নামে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ বিরতি দিয়ে ফেরেন মোসাদ্দেক হোসেন। আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রুফিতে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন তাসকিন আহমেদ। শেষ পর্যন্ত এই দু’জনের দারুণ বোলিংয়েই ম্যাচের প্রথম ভাগটা নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ডকে আট উইকেটে ২৬৫ রানে বেঁধে ফেলে টাইগাররা।

 

অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন (৫৭) ও রস টেলরের (৬৩) ফিফটি বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিলেও স্লগ ওভারে ঝড় তুলতে পারেনি কিউইরা। শেষ ১০ ওভারে ৬২ ও শেষ পাঁচ ওভারে আসে ৩০ রান। শেষদিকে বাংলাদেশকে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরান মোসাদ্দেক ও তাসকিন। অফ-স্পিনে তিন ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তরুণ অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক। তাসকিন আট ওভারে ৪৩ রান দিয়ে পেয়েছেন দুই উইকেট। এ ছাড়া রুবেল ও মোস্তাফিজুরের ঝুলিতে গেছে একটি করে উইকেট।

 

বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হয় এক ঘণ্টা দেরিতে। মার্টিন গাপটিল ও লুক রনকির উদ্বোধনী জুটি ভালো শুরু এনে দেয় নিউজিল্যান্ডকে। প্রথম ১০ ওভারে এক উইকেটে কিউইদের স্কোর ছিল ৬০ রান। অষ্টম ওভারে ব্যক্তিগত ১৬ রানে রনকিকে ফিরিয়ে ৪৬ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙেন তাসকিন। ১৩তম ওভারে রুবেলের বলে এলবিডব্ল– হওয়ার আগে গাপটিল করেন ৩৩ রান। তৃতীয় উইকেটে ৮৩ রানের জুটি গড়ে ধাক্কাটা ভালোভাবেই সামাল দিয়েছিলেন উইলিয়ামসন ও টেলর। ৬৯ বলে ৫৭ করে ৩০তম ওভারের শেষ বলে রানআউট হয়ে ফেরেন উইলিয়ামসন। এরপর ৩৯তম ওভারে টেলরকে আউট করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান মূলত তাসকিন। মোস্তাফিজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৮২ বলে ৬৩ করেন টেলর। ৪১তম ওভারে হঠাৎ মোসাদ্দেককে বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা।

 

মোসাদ্দেক জাদু দেখান নিজের দ্বিতীয় ওভারে। ওই ওভারে এক বলের ব্যবধানে নিল ব্রুম (৩৬) ও কোরি অ্যান্ডারসনকে (০) ফিরিয়ে কিউইদের মিডলঅর্ডার ধসিয়ে দেন মোসাদ্দেক। পরের ওভারে তার তৃতীয় শিকার হয়ে ফেরেন জিমি নিশাম (২৩)। ৪৯তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে বোল্ড মিলনে। শেষ পর্যন্ত স্যান্টনার ১৪ ও সাউদি ১০ রানে অপরাজিত থেকে ২৬৫ পর্যন্ত নিয়ে যান নিউজিল্যান্ডকে।


এই নিউজটি 1099 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments