অসাধু হোটেল ব্যবসায়ীর রাজত্বে অসহায় সাধারণ মানুষ

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ ,২১ জুন, ২০১৭ | আপডেট: ৩:০২ অপরাহ্ণ ,২১ জুন, ২০১৭
পিকচার

বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি:

আপ্যায়নের ক্ষেত্রে মিষ্টি একটি অপরিহার্য বস্তু। কারও বাসা বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া হোক কিংবা বিয়ে শাদী অথবা কোন আনন্দের উপলক্ষ, যা–ই হোক না কেন, মিষ্টি নিয়ে যাওয়া আর মিষ্টি খাওয়ানোর রেওয়াজ চালু রয়েছে বহুকাল আগে থেকেই। কিন্তু মিষ্টির নামে কি খাচ্ছি আমরা। কিভাবে তৈরি হচ্ছে রসে ভরা, সুস্বাদু এসব মিষ্টি। আর ঈদে তো কথাই নেই। আর এই ঈদকে সামনে রেখে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি গুদামজাত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি হাতে নিয়েছেন হোটেল মালিকরা। যেভাবে তৈরি হচ্ছেছ এই মিষ্টি তা স্বচোখে দেখলে আতকে উঠবে যে কেউ। আর এই মিষ্টি তৈরি করে যে সব জায়গায় রাখা হচ্ছে তা কেউ বিশ্বাসই করতে পারবে না এটা কোন মানুষের কাজ ! আর এই সব মিষ্টি আমরা কিনে আমাদের সন্তান আত্মীয় স্বজনের বাসায় নিয়ে যাচ্ছি খুশি মনে। অবশ্য প্রদর্শনী মিষ্টি জাতীয় খাদ্যপণ্য দৃষ্টিনন্দন ও সুস্বাদু। কারখানার মধ্যে অবস্থা খুবই খারাপ। সচেতন মহলের ধারণা, বাজারে ভেজালমুক্ত খাদ্য সামগ্রী পাওয়াটাই কষ্টকর। তবে সাধারণ মানুষের দাবী আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করে শাস্তি দেওয়া হোক অসাধু হোটেল ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে এই সব ভেজাল মিষ্টি বিক্রেতারা অল্প সময়ের মধ্যে হোটেল মালিক হিসেবে পুঁজিপতি বনে যাচ্ছেন। এদিকে স্যানিটারি কর্মকর্তার দাবী খাবার সুন্দর এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশেই তৈরি হচ্ছে।

 

খাদ্যে কোন ধরনের ভেজালের প্রমাণ পেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন স্যানিটারি ইন্সপেক্টররা “নিরাপদ খাদ্য আইনের” ধারায় পাঁচ বছরের জেল অথবা পাঁচ লাখ টাকার জরিমানার মামলা করবেন। রমজান উপলক্ষে সে আইন আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সারা দেশের স্যানিটারি পরিদর্শকের কাছে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা পাঠানা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়। ঐ সূত্র আরো জানায়, মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় পরিদর্শকরা খাবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্রেড লাইসন্সে দেওয়া ও নবায়ন, ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ ও তাদের তালিকা তৈরিসহ প্রতিদিন কম পক্ষে আটটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন।

 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে বালিয়াকান্দি উপজেলার সদরে প্রায় ৬০-৭০ মন, নারুয়া ৩০-৪০ মন, বহরপুর ৪০-৪৫ মন, ইসলামপুর ২০-২২ মন, নবাবপুরে ২০-২৫ মন, জামালপুর ৩০-৪০ মন মিষ্টি তৈরি করা হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানায়। আর এসব মিষ্টি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন হোটেলে তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ঈদের ১০-১২ দিন আগেই কয়েকটি মিষ্টির দোকান মিষ্টি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। রাত-দিন ২৪ ঘন্টা চলছে হোটেল কর্মচারীদের এই মিষ্টি তৈরির কাজ। তৈরিকৃত মিষ্টি দোকানে বা দোকানের বাইরে অন্য কোন ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা ভাবে কোন রকম ঢাকনা ছাড়াই রাখা হচ্ছে। ঈদের প্রচুর পরিমাণ মিষ্টি বিক্রি হয় হোটেলগুলোতে। এক দিকে অধিক মুনাফার চিন্তা আর অন্যদিকে ঈদে ব্যাপক বিক্রি। সারা বছর থেকে ঈদে উপলক্ষে প্রচুর পরিমাণে রসগোল্লা, চমচম, কালোজাম, সন্দেশসহ বিভিন্ন প্রকারের মিষ্টি বিক্রয় হয়। এই সুযোগে অনেক হোটেল মালিক নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি করে এই সব মিষ্টি। এসব খাদ্য তৈরি করতে কারখানাগুলোতে রয়েছে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং কর্মচারীরা কাজ করছে উদ্যম শরীরে। কর্মচারীদের শরীরের ঘাম পড়ছে তৈরিকৃত মিষ্টিতে। যে সব জায়গায় তৈরি হচ্ছে মিষ্টি সেখানেও নেই কোন পরিবেশ। উপজেলাতে এমনও হোটেলও আছে যেখানে কারখানার পাশেই টয়লেট এবং প্রসাবখানা। কারণ মিষ্টি তৈরিতে এমন সব বিষাক্ত কেমিকেল দিচ্ছে তাতে করে মিষ্টি দেখে বা ও খেয়ে বোঝার উপায় নেই এটা কতটা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। চোখের আড়ালে এই সব মিষ্টি এমন জায়গায় রাখা হচ্ছে যেখানে যেখানে একজন মানুষের থাকার মতো পরিবেশই নেই আর সেখানে বড় বড় চাড়ির মধ্যে মজুত করা হচ্ছে মিষ্টি। আর বিড়াল, ইদুর, ছাড়পোকা, তেলোপোকার, টিকিটিকির সুইমিংপুল যেন মিষ্টির চাড়ি।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিয়মিত মিষ্টি ক্রেতা জানান, বাড়ীতে ছোট ছেলে মেয়ে থাকায় আমি প্রতি সপ্তাহেই মিষ্টি কেনা হয় আমার। তাছাড়া বাড়ীর বড়রাও মিষ্টি অনেক পছন্দ করে। দোকানের সোকেচ সাজানো থাকে দেখতে ভালই লাগে স্বাদও ভাল তাই কিনি। কত দিন আগের মিষ্টি আপনি কিনেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আসলেও হোটেল মালিকদের উপর বিশ্বাস করে কিনি তারা যদি ভেজাল বা বাসি মিষ্টি দেন কিছু করার নেই আমার। ভ্রাম্যমান আদালত হলে জরিমানা হয়, দুই দিন পর যা তাই।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হোটেল কর্মচারী জানান, পেটের দায়ে হোটেলে থাকি। আমার রোজগারের উপরই চলে আমার সংসার। ঈদ উপলক্ষে নূন্যতম ১০ দিন পূর্বেই মিষ্টি তৈরি করতে হয় আমাদের। না হলে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হই কারণ ঈদ এবং ঈদের পরে সকাল ১০ টা থেকে রাত পর্যন্ত এক টানা মিষ্টি বিক্রি হয়। সবাই আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে যায় তো তাই এতো বেশি বিক্রি হয়। আর বিক্রির কথা মাথাই রেখেই কোন দেখার মত করে মিষ্টি বানালেই হয়। ভাল খারাপ দেখার সময় কই ক্রেতাদের। আপনার সন্তানের জন্য নেন না মিষ্টি ? প্রশ্নের উত্তরে কোন সদুত্তর পাওয়া যাইনি। কথা ঘুরিয়ে অন্য প্রসঙ্গে বলেন, দেখিতো সব কিন্তু কিছু করার নেই আমাদের। আমরা তো দিনমজুর।

 

এ প্রসঙ্গে ভোক্তারা বলেন, খাদ্যে ভেজাল বাংলাদেশের এক জাতীয় অভিশাপের নাম। এটা মানুষ হত্যা সমতুল্য পাপ। আমরা কী খাচ্ছি-এ প্রশ্ন আজ এক ধরনের আতংকে পর্যবসিত হয়েছে। অবস্থাটা এমন-খাদ্যে ভেজাল নাকি ভেজালে খাদ্য, তা নিয়েও চলে উপহ