গোয়ালন্দ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কারাগারে

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৮:৩৯ অপরাহ্ণ ,১১ জুলাই, ২০১৭ | আপডেট: ৮:৪০ অপরাহ্ণ ,১১ জুলাই, ২০১৭
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : স্ত্রীর মর্যাদা ও সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে যৌনকর্মীর দায়ের করা মামলায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মাহবুব রব্বানীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১১ জুলাই) তিনি রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোরা নির্দেশ দেন।

২০১৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর যৌনকর্মী মুন্নি বেগম রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে রব্বানীর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে মুন্নি উল্লেখ করেন, প্রায় ১০ বছর আগে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে পতিতাবৃত্তি করার সময় গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মাহবুব রব্বানীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এক সময় তাকে বিয়ে করার জন্য মাহবুব প্রলুব্ধ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মাহবুবের বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হন। এরপর  তাদের দাম্পত্য জীবনে সৌরভ নামে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। ওই ছেলের বয়স এখন নয় বছর। এ অবস্থায় হঠাৎ মাহবুব অন্য নারীর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন এবং তাকে নির্যাতন করতে থাকেন। এরই মধ্যে তার আয়ের সব টাকা মদ এবং জুয়া খেলে নষ্ট করে ফেলেন মাহবুব।

মামলায় আরো বলা হয়, মুন্নিকে পুনরায় পতিতাবৃত্তি করে আয় রোজগার করার জন্য চাপ দিতে থাকেন মাহবুব। তার কথায় রাজি না হলে মুন্নির কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। টাকা না দিলে সৌরভের পিতৃপরিচয় দেবেন না বলে হুমকি দেন মাহবুব। মামলায় দৌলতদিয়া পতিতা পল্লীর বাসিন্দা চারজনকে সাক্ষী করা হয়। এরা হলেন বেবি, মাজেদা, পারভিন ও তপন।

 মামলা দায়েরের দুই দিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে আদালত দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মণ্ডলকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি নুরুল ইসলাম মণ্ডল আদালতে প্রতিবেদেন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে মাহবুব রব্বানীর বিরুদ্ধে মামলার আর্জিতে উল্লেখিত বিষয়টি সত্য বলে উল্লেখ করা হয়।

এ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে গোলাম মাহবুব রব্বানী আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

এদিকে, ২০১৬ সালে গোলাম মাহবুব রব্বানীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কাছে অভিযোগটি মিথ্যা দাবি করে বলেন, ওই যৌনকর্মীর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তার গর্ভে আমার সন্তান জন্ম নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম/ আশিক

Comments

comments


এই নিউজটি 1891 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]