রাজবাড়ীতে বিএনপি কমিটির তালিকা পোড়ানোয় জড়িতদের বহিস্কারের দাবি

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১:১৬ পূর্বাহ্ণ ,১৬ জুলাই, ২০১৭ | আপডেট: ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ ,১৬ জুলাই, ২০১৭
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার॥ রাজবাড়ীতে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সর্ম্পকে কটুক্তি ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং নির্দেশ অমান্য করে নবগঠিত জেলা কমিটির তালিকা পোড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বহিস্কারের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপির একাশং।

শনিবার (১৫ জুলাই) দুপুরে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবে জেলা বিএনপির ‘খালেক-হারুন’ গ্রুপের আয়োজনে এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব অ্যাডভোটেক এম.এ খালেক।

সাংবাদিক সম্মেলনে এ্যাডভোটেক এম.এ খালেক বলেন, গত ১৩জুলাই দলীয় কার্যালয়ে জেলা বিএনপির একাংশের (খৈয়ম গ্রুপ) সাংবাদিক সম্মেলনে যে সমস্ত লিখিত এবং বাচনিক বক্তব্য পেশ করেছেন তা সম্পূর্ণ রুপে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যে প্রনোদিত। ব্যক্তিস্বার্থে আঘাত এনেছে বলেই এই ধরণের বক্তব্য পেশ করা হয়েছে। ওই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে রাজবাড়ী জেলা বিএনপির কমিটির তালিকা পোড়ানো হয়েছে। যা সম্পূর্ণরুপে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ওই সাংবাদিক সম্মেলনে তথা কথিত যে সকল নেতা বক্তব্য রেখেছেন ও উপস্থিত ছিলেন তারা কখনও বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী নয় এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব মানেন না। তারা ২০০১সালে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সাথে বিএনপিতে যোগদান করেন। আবার ১/১১ এর পরে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম যখন সংস্কারে চলে যান তখন ওই সকল নেতাও সংস্কার পন্থি হিসাবে বিএনপি ছেড়ে খৈয়মের সাথে চলে যান।

ওই সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা বিএনপির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক আঃ হক সম্পর্কে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে তার জবাবে এডঃ এম.এ খালেক বলেন, আঃ হক বিএনপির জন্মলগ্ন থেকেই দলের সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯২ সালের উপ-নির্বাচনে এবং ২০০১সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে তিনি বলিষ্ট ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮২ সালে তিনি সৌদি আরব চলে যান। দীর্ঘ ২৭বছর প্রবাসে থাকাকালীন জেদ্দা বিএনপির কমিটির সাথে তিনি জড়িত থেকে জেদ্দা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যা দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার তৎকালীন পিএস মোছাদ্দেক আলী ফালু, সাবেক রাষ্ট্রদূত বিএনপি নেতা মীর নাসির, তৎকালীন বিএনপি নেতা কর্নেল অলি আহম্মদ, মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমান, বর্তমান বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোঃ শাহজাহান অবগত আছেন। তিনি কখনো আওয়ামীলীগে যোগ দেননি। এমনকি আওয়ামীলীগের কোন প্রাথমিক সদস্যও নন। বিগত ২০১৫সালের ৩০শে ডিসেম্বর রাজবাড়ী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে তিনি নির্বাচন করেন। নির্বাচনী কৌশল হিসেবে তিনি আওয়ামীলীগের সমর্থনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন মাত্র। তিনি কখনও আওয়ামীলীগের কোন মিছিল মিটিং করেননি।

তিনি আরো বলেন, ঠিক একইভাবে অ্যাডভোকেট কামরুল আলম সম্পর্কেযে সমস্ত লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণরুপে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যে প্রনোদিত ও বানোয়াট। তিনি দলের জন্ম লগ্ন হতেই জড়িত রয়েছে। তিনি ১৯৭৯সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলেরজেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক ওকেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন। তিনি জাতীয়তাবাদীস্বেচ্ছাসেবক দলের রাজবাড়ীজেলা শাখারসভাপতি ছিলেন। তিনিকখনো আওয়ামীলীগেযোগদেননি। এমনকি আওয়ামীলীগেরকোন প্রাথমিক সদস্যও নন। ২০১৫সালেপৌর নির্বাচনকেকেন্দ্র করে ৯নং ওয়ার্ডে সিলিমপুরস্কুল মাঠেযে সভার কথা উল্লেখ করা হয়েছেসেটি ছিল সিলিমপুরসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুনভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠান। যে অনুষ্ঠানে রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি আলহাজ্ব কাজীকেরামত আলী প্রধান অতিথি ছিলেন।সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন বিশেষ অতিথি। এছাড়াও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রকৌশলীসহ অন্যান্য সরকারী কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অ্যাডভোকেট কামরুল আলম ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্ষণ ছাত্র হিসাবে বক্তব্য রাখেন। তিনি ওই স্কুলের কমিটিরও সাবেক উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৭বছর রাজবাড়ী জেলা বার এসোসিয়েশন নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়াও সিলিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রাজবাড়ী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের মধ্যে নয়। সেটি মিজানপুর ইউনিয়নের মধ্যে। এথেকেও প্রমানিত হয় তার সম্পর্কে মিথ্যাচার করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট এম.এ খালেক বলেন, মোঃ খায়রুজ্জামান খায়রু সম্পর্কে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটাও ভিত্তিহীন। তিনি আদৌ বাবলু হত্যার সাথে জড়িত নয়। মামলার এজাহারকারী শহিদুল ইসলাম খায়রুকে প্রথমে সন্দেহ করিলেও পরবর্তীকালে স্থানীয় তদন্তের মাধ্যমে জানতে পারেন খায়রু হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত নয়। বাদী শহিদুল ইসলাম খায়রুকে এখন আসামী হিসাবে মনে করেন না। খায়রু পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে শহিদুল ইসলাম ও খায়রুজ্জামান খায়রু একত্রে আন্দোলন সংগ্রাম ও মিছিল মিটিং-এ অংশ গ্রহণ করেন।

অ্যাডভোকেট কে,এ বারী সম্পর্কে যে সমস্ত অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে তাও সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও অসত্য। তিনি ১৯৯৮সালে জেলা বিএনপির সম্মেলনের মাধ্যমে আইন বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরাম হতে প্রার্থী হয়ে ২০১৪, ১৫,১৬ সালে পরপর ৩বার রাজবাড়ী জেলা বার এ