রাজবাড়ীতে আ’লীগ নেতার গাড়ি বহরে হামলার চেষ্টাকারীদের বিচারের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৩:২৮ অপরাহ্ণ ,১ আগস্ট, ২০১৭ | আপডেট: ১১:৩১ অপরাহ্ণ ,১ আগস্ট, ২০১৭
পিকচার

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশিক মাহমুদ মিতুল হাকিমের গাড়ি বহরে বোমা হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে জাহিদুল হাসান সবুজ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে পাংশা থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিদুল ইসলাম মারুফ। এছাড়া সবুজসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে পাংশা উপজেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে পাংশা দত্ত মার্কেট সড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কালাম আল মামুন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাহিদুল ইসলাম মারুফ, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার তাজবীর হাসান সিসিল, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল আল মামুন, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জালাল উদ্দিন বিশ্বাসসহ বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, রোববার (৩০ জুলাই) পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম জিন্না খাঁর স্ত্রী মারা যান। ওইদিন সন্ধ্যা ৭ টার দিকে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জিল্লুল হাকিমের ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশিক মাহমুদ মিতুল হাকিম দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মোটর সাইকেলের বহরযোগে জিন্না খাঁর শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানোর জন্য ওই বাড়িতে যান। রাত সাড়ে ৭টার দিকে তিনি সেখান থেকে ফেরার পথে জাহিদুল ইসলাম সবুজ ও অজ্ঞাত আরেকজন যুবক মোটর সাইকেল নিয়ে মিতুল হাকিমের মোটর সাইকেলের বহরে ঢুকে পড়ে। এ সময় তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় মিতুল হাকিমের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করলে সবুজের পিছনের সিটে বসা যুবক মোটর সাইকেল থেকে নেমে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এরপর সবুজকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করাসহ দেহ তল্লাশি করে তার পড়নের পায়জামার ডান পকেট থেকে একটি ককটেল উদ্ধার করা হয়। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ গিয়ে সবুজকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

বক্তারা আরও বলেন, জাহিদুল হাসান সবুজ নাশকতা এবং আশিক মাহমুদ মিতুল হাকিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলের বহরে প্রবেশ করেছিলো। আমরা সবুজের ও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

এদিকে, সবুজের পরিবার ও সঙ্গীদের অভিযোগ, আগামী সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা টিপুর সমর্থক হওয়ার কারণে সবুজকে ফাঁসানো হয়েছে।

সবুজের বন্ধু জিয়া সাংবাদিকদের জানান, উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নে তাদের বন্ধু মিজানের মা মারা যাওয়ার খবর শুনে সবুজসহ চারজন দুটি মোটরসাইকেলে বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় মিতুল হাকিমের গাড়িবহরের ৩-৪টি মোটরসাইকেল এসে সবুজের মোটরসাইকেলকে ব্যারিকেড দেয়। পরে কালো রঙের একটি মাইক্রোবাস এসে সবুজকে তুলে নিয়ে যায়।

সবুজের বাবা পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাব হোসেন জানান, তার ছেলে ঢাকার তিতুমীর কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করে এক বছর ধরে বাড়িতে আছে। ঢাকায় থাকতেই সে সোহেল রানা টিপুর সঙ্গে চলাফেরা করতো।

তিনি বলেন, আমরা এমপি জিল্লুল হাকিমের অনুসারী। আমার ছেলে টিপুর সমর্থক হওয়ায় এর আগেও মিতুল হাকিমের লোকজন আমাকে বেইজ্জতি করেছে। রোববার আমার ছেলেকে মিতুল হাকিমের লোকজন মারধর করে এমপির বাড়িতে আটকে রেখেছে শুনে রাত ১০টার দিকে ওই বাড়িতে যাই। তখন এমপি আমাকে বলেছিলেন, দেখি কী করা যায়। এর কিছুক্ষণ পর আমার সামনে দিয়েই ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে মিতুল হাকিম সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্তেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।


এই নিউজটি 2254 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments