রাজবাড়ীতে ২৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১১:০২ অপরাহ্ণ ,১৭ আগস্ট, ২০১৭ | আপডেট: ১১:৫৫ অপরাহ্ণ ,১৭ আগস্ট, ২০১৭
পিকচার

ফকীর আশিকুর রহমান, নিউজরুম এডিটর : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত কয়েকদিনে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাজবাড়ী জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে চারটি উপজেলার নদী তীরবর্তী ও বাঁধের ভেতরে বসবাসরত নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এছাড়া পানিবন্দির কারণে বন্ধ রয়েছে জেলার ৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নষ্ট হয়েছে ১ হাজার ৯৪৪ হেক্টর ফসলি জমি। এতে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন বানভাসি মানুষরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া গেজ স্টেশন পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ১০২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে গত ১২ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধ পেয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বন্যায় কবলিত হয়েছে গোয়ালন্দ উপজেলার নদী তীরবর্তী মানুষ। বন্যায় কবলিত রাজ্জাক, আনোয়ার, মনোয়ারা বেগম, রফিকসহ কয়েকজন বলেন, বন্যায় বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি, মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে কর্মহীন হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছি। সরকার থেকে যে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে তা দিয়ে তিনদিনও সংসার চলবে না। দুশ্চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে গেছে আমাদের। এছাড়া পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধ এবং গৃহপালিত পশু নিয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে বলে জানান তারা।

গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবু সাঈদ জানান, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম, উজানচর ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের ১৬ হাজার ৯শ’ টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। এদের জন্য ৭৫ মেট্রিক টন চাল ও এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সরকারের জিআর (জেনারেল রিলিফ) প্রকল্পের আওতায় দুইশ’ পরিবারকে ৫শ’ করে টাকা এবং দুইশ’ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল ত্রাণ হিসেবে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও পরিবারকে ত্রাণ দেয়া হবে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এসএম মনোয়ার মাহমুদ জানান, সদর উপজেলার বরাট, মিজানপুর, চন্দনী ও খানগঞ্চ ইউনিয়নের ৩ হাজার ৯৩১টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। এদের জন্য ৩৩ মেট্রিক টন চাল এবং এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে সরকারের জিআর (জেনারেল রিলিফ) প্রকল্পের আওতায় দুইশ’ পরিবারকে ৫শ’ করে টাকা এবং দুইশ’ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল ত্রাণ হিসেবে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও পরিবারকে ত্রাণ দেয়া হবে।

কালুখালী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোকসেদুল আলম জানান, কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর ও রতনদিয়া ইউনিয়নে বন্যায় ৩ হাজার ৮৯৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। এদের জন্য ৩৮ দশমিক ৪৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ আগস্ট পর্যন্ত পানিবন্দির সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৯৮ জন। এদের পরিবার প্রতি গত সপ্তাহেই ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। এই এক সপ্তাহে আবার নতুন করে ৮৯৬টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। এদেরকেও খুব গিগগিরই ১০ কেজি করে চাল দেয়া হবে।

পাংশা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিজানুর রহমান জানান, পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ও বাহাদুরপুর ইউনিয়নে ১ হাজার ৬৪৩টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। এদের জন্য ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই তা বিতরণ করা হবে।

এদিকে জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। পানিবন্দির কারণে ইতোমধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বন্যায় পানিবন্দি হয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ৮টি, গোয়ালন্দে ১৩টি, কালুখালীতে ৪টি ও পাংশায় ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পানিবন্দির কারণে গোয়ালন্দে ৩টি, কালুখালীতে ১টি ও পাংশায় ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এছাড়া গোয়ালন্দের আরও দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যা কবলিতরা আশ্রয় নেয়ার কারণে ওই উপজেলায় মোট ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী বলেন, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর সঙ্গে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। যতদিন বন্যার পানি থাকবে ততদিন পর্যন্ত বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ দেয়া হবে। এছাড়া বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর জন্য ৪টি উপজেলায় ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টিতে ১১৯টি পরিবার ইতোমধ্যে আশ্রয় নিয়েছে।

বন্যায় জেলার ৪টি উপজেলায় ১ হাজার ৯৪৪ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।


এই নিউজটি 4010 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]