পান-বিড়ির দোকানে যৌন উত্তেজক!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ ,২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ | আপডেট: ৯:০০ পূর্বাহ্ণ ,২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
পিকচার

ফকীর আশিকুর রহমান, নিউজরুম এডিটর : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লী ও এর আশেপাশের এলাকায় চলছে অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধের রমরমা ব্যবসা।

ফার্মেসি থেকে শুরু করে মুদি দোকান, খাবারের হোটেল, এমনকি পান-বিড়ি ও চায়ের দোকানেও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে অনুমোদনহীন এসব পানীয় ও ট্যাবলেট জাতীয় ওষুধ। হকাররাও ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছেন সেগুলো।

 মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এসব ওষুধ খেয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন যৌনপল্লীতে আগতরা। কেউ কেউ ঢলে পড়ছেন মৃত্যুর কোলে।

দীর্ঘদিন ধরে অবাধে এসব ওষুধ বিক্রি হয়ে এলেও প্রশাসন রয়েছে একদম নীরব। তারা বিষয়টি জানেনই না বলে ‘রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম’-এর কাছে দাবি করেছেন।

সরেজমিনে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর ভেতরে ও বাইরে ঘুরে দেখা গেছে, ফার্মেসি, মুদি দোকান, খাবারের হোটেল, পান-বিড়ি ও চায়ের দোকানে প্রকাশ্যে সাজানো রয়েছে যৌন উত্তেজক পানীয় ওষুধগুলোর বোতল। এসব ওষুধের প্রতিটি বোতল ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বোতলের গায়ে জিনসিন প্লাস, লাহমিনা, ইকলিপ, হরমো-ডি, ফাইটন, গুরু, ফাস্ট, সেভেন হর্স প্লাসসহ বিভিন্ন বাহারি নামের লেবেল লাগানো থাকলেও তাতে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর বা বিএসটিআই’র কোনো সিল নেই।

এছাড়াও বিক্রি হচ্ছে নামি-বেনামি বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট। ২০-৬০ টাকা মূল্যে বিক্রি হওয়া এসব ট্যাবলেটের গায়েও নেই মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ। দামে সস্তা হওয়ায় যৌনপল্লীতে আসা যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও দেদারছে সেবন করছেন এসব যৌন উত্তেজক পানীয় ও ট্যাবলেট। কেউ কেউ আবার একাধিক ওষুধ একসঙ্গে সেবন করে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

ক্ষতিকর জেনেও প্রকাশ্যে এসব ওষুধ বিক্রি করছেন দোকানিরা। ওষুধের ছবি তুলতে গেলে কয়েকজন দোকানি বলেন, ‘ছবি তুলে লাভ কি? যৌনপল্লী আমোদ-ফুর্তি করার জায়গা। এখানে এগুলো বিক্রি হবে না, তো কোথায় বিক্রি হবে?’

‘এসব ওষুধ মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে, তা জানেন?’ এমন প্রশ্নে দোকানিরা বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও তো দুইজন মরলো। রাজা হওয়ার জন্য বেশি বেশি খায়, শেষে প্রজা হয়ে মরে ফিরে আসে’। কথাগুলো বলেই অট্টহাসিতে মেতে ওঠেন বিক্রেতারা।

যৌনপল্লীতে আসা এক যুবক জিনসিন প্লাস পানীয় কিনছিলেন। ক্ষতিকর এ ওষুধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কতোটুকু ক্ষতি করে, তা জনি না। তবে এটি খাওয়ার পর শরীরে এক ধরনের ফিলিংস আসে, তাই খাই’।

চিকিৎসকদের মতে, এসব ওষুধ সেবনে তাৎক্ষনিকভাবে দৈহিক মিলনে স্থায়িত্ব বাড়ালেও শরীরের রক্তচাপ অনেক বেড়ে যায়। ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একইসঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনির মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন সেবনে দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি কমে যায়। এতে লিভার ও নার্ভ ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (স্যাকমো) জাকির হোসেন বলেন, গত দেড়মাসে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে যৌন উত্তেজক ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে বেশ কয়েকজন রোগী আমাদের এখানে এসেছেন। এর মধ্যে গত ১৪ জুলাই নুরুল ইসলাম ও ২০ জুলাই ইকলাস হোসেন নামে দু’জন অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে এসে মারা যান’।

তিনি আরও বলেন, ‘এসব ওষুধ বিক্রি ও সেবন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব প্রশাসনের। এ বিষয়ে মানুষকে শুধুমাত্র সচেতন করা ছাড়া আমাদের তেমন কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই’।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর্জা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘যৌনপল্লীতে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তরল জুসের বোতলের গায়ে বিভিন্ন লেবেল লাগিয়ে বিক্রির কথা সম্প্রতি জেনেছি। আমরা অভিযান চালাবো। যদি সেগুলো নিষিদ্ধ কোনো ওষুধ হয়, তাহলে দোকানিদের গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান হাবীব বলেন, ‘যৌনপল্লীতে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির বিষয়টি এর আগে আমার জানা ছিলো না। আপনাদের কাছেই কেবল শুনছি। ওষুধ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ ধরনের ওষুধ বিক্রির ব্যাপারে শিগগিরই জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে’।


এই নিউজটি 578 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments