,

দৌলতদিয়ায় পারের অপেক্ষায় ৪ শতাধিক যানবাহন

News

ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে নদী পার হতে ফেরিগুলোর দ্বিগুণ সময় লাগছে। ফলে দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে ছোট-বড় চার শতাধিক যানবাহন।

বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারি এলাকা পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তায় বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারসহ চার শতাধিক যানবাহন ফেরিতে ওঠার জন্য সিরিয়ালে রয়েছে।

এদিকে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের ফলে বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীদের ঘাট থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের উপর নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘপথ পায়ে হেঁটে লঞ্চঘাটে পৌঁছাতে হচ্ছে সেসব যাত্রীদের। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের।

বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদ শেষে দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকাগামী বিভিন্ন গাড়ি ও মানুষের চাপ বেড়েছে। এসব গাড়ি পারাপারে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। চারটি ঘাটই সচল রয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি পার হতে সময় লাগে আধা ঘণ্টা। কিন্তু পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে এখন একেকটি ফেরি পার হতে দ্বিগুণ সময় লাগছে। সময় বেশি লাগায় ফেরির ট্রিপও কমে যাচ্ছে। এ কারণে ঘাটে যানবাহের চাপ অব্যাহত রয়েছে।

দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের ম্যানেজার মো. নুরুল আনোয়ার মিলন বলেন, ঈদ শেষে কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। তাই দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে কর্মমুখী হাজারো যাত্রীর ঢল নেমেছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যাত্রী পারাপারে ২২টি লঞ্চ চলাচল করছে।

তিনি বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে না। স্বাভাবিক সময়ের মতো এখনো ভাড়া ২৫ টাকাই নেওয়া হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো রকম অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার সালমা বেগম বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদের আগে থেকেই দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ অবস্থান করছে। তারা সার্বক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নজর দারি করছে। যাত্রীদের ফেরিতে ওঠার জন্য সিরিয়ালে আটকে থেকে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া নিরাপত্তার দিক থেকে তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

এদিকে ঘাটে যাহবাহনের চাপ কমাতে রাজবাড়ী জেলা সদরের গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় প্রায় দেড় শতাধিক ট্রাক আটকে রেখেছে আহলাদিপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ। ঘাটের পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই ট্রাকগুলো পর্যায়ক্রমে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে।

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম/ আশিক

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর