,

বালিয়াকান্দির ১২কি. মি. সড়কের বেহাল দশা, বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি!

News

বালিয়াকান্দি : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন সেটি চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বালিয়াকান্দির চৌরাস্তার মোড় হতে নারুয়া পর্যন্ত সড়কের সাত কিলোমিটার এলাকা এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

বেশী ভোগান্তিতে পড়েছে বালিয়াকান্দি বাজারের ব্যবসায়ীরা। একটু বৃষ্টি হলেই বাজারের মধ্যে সড়কটিতে হাঁটু পানি জমে যায়। পানি জমে থাকার কারণে সড়কের দু’পাশের ব্যবসায়ীরা মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় সড়কটির এমন বেহালদশা হলেও নজর নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে খুব দ্রুতই সড়কটি সংস্কার করা হবে।

গতকাল ২১ অক্টোবর সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের দক্ষিণ গেটের সামনের এই সড়কটি দীর্ঘদিন থেকে বেহালদশা হলেও নজর নেই কর্তৃপক্ষের। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ছোট-বড় প্রায় সহস্রাধিক যানবাহন চলাচল করে থাকে। বালিয়াকান্দি-নারুয়া-পাংশা সড়কের সাত কিলোমিটার রাস্তা এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সমস্ত রাস্তায় ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। বালিয়াকান্দির চৌরাস্তার মোড় থেকে ওয়াপদা পর্যন্ত ৭/৮শত গজ রাস্তাটির মাঝে মাঝে বিশাল আকৃতির গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তার মাঝে গর্তের ভিতর হাঁটু পানি জমেছে।

সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে বালিয়াকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিয়াকান্দি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, বালিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মনি মুকুর কিন্ডার গার্টেনের শত শত শিক্ষার্থী। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রধান সড়ক দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

বাজারের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বালিয়াকান্দির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক হচ্ছে এটি। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। যেহেতু সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কার করার দাবী জানাচ্ছি।

বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাস্তার মাঝের গর্তে পানি জমে থাকা এবং রাস্তাটির বেহালদশার বিষয়টি আমি জানি। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব অল্প সময়ের মাধ্যেই সড়কটি মেরামতের কাজ শুরু হয়ে যাবে।

উপজেলা প্রকৌশলী সজল দত্ত জানান, এই সড়কের ১২.৩ কিলোমিটার রাস্তা মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, এ বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে কাজ শুরু হবে।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর