,

পাংশায় ধর্ষণের শিকার ১২ বছরের শিশু এখন মা, ধর্ষক পলাতক

News

পাংশা॥ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের পুঁইজোর গ্রামে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নৈশী প্রহরীর লালসার শিকার হয়ে কন্যা সন্তানের মা হয়েছে ১২ বছর বয়সী এক শিশু। যে বয়সে শিশুটির নিজেরই হেসে-খেলে বেড়ানোর কথা সে বয়সে তাকে সামলাতে হচ্ছে নিজের গর্ভে জন্ম নেওয়া নবজাতক সন্তানকে।

জন্ম নেয়া নবজাতকের পিতৃপরিচয় ও ধর্ষণের শিকার শিশুর স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অভিযুক্ত ধর্ষক আব্দুল মালেকের (৫০) বিরদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হলেও চার মাস ধরে তিনি পলাতক রয়েছেন। ফলে ধর্ষণের শিকার শিশু ও তার কোলের নবজাতককে নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে আব্দুল মালেককে গ্রেফতার করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দাবি পুলিশের।

আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী শিশুটির মামী বলেন, ওর বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। বাবা-মা মারা যাবার পর থেকে আমরা ওকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। ছোটবেলা থেকেই ওর বুদ্ধিসুদ্ধি একটু কম। এক বছর আগে সে পুঁইজোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। মাঝেমধ্যে সে পুঁইজোর বাজারে তার মামার চায়ের দোকানে কাজে সহযোগিতা করতে যেত। সেখান থেকেই পুঁইজোর সিদ্দিকীয় সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার নৈশ প্রহরী মালেক তার ওপর কুদৃষ্টি দেন। এরপর একদিন বিকেলে মালেক তাকে একা পেয়ে ফুঁসলিয়ে মাদ্রাসায় তার থাকার রুমে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে মালেক একইভাবে ফুঁসলিয়ে তাকে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখা দিলে সে আমাদের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। এরপর তাকে পাংশায় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চেকআপ করানো হলে তার ছয় মাসের গর্ভবতীর বিষয়টি ধরা পড়ে।

শিশুটির মামী আরও বলেন, ওর পেটে বাচ্চা আছে এটা বুঝতে অনেক দেরী হয়ে গিয়েছিলো। তাই বাচ্চার জন্ম হয়েছে। বাচ্চার বয়স এখন এক মাস। বাচ্চা ও বাচ্চার মা দু’জনই অসুস্থ। বাচ্চার মা ছোট বয়সী হওয়ায় বাচ্চা দুধ পাচ্ছেনা। ওরা দু’জনই খুব কষ্টে আছে। চার মাস আগে মালেকের বিরুদ্ধে পাংশা থানায় মামলা দায়ের করেছি। কিন্তু গর্ভাবস্থা স্পষ্ট হওয়ার পরই মালেক পালিয়ে গেছে। পুলিশের কাছে অনুরোধ জানাই দ্রুত মালেক কে গ্রেফতার করে সঠিক বিচার করে দেন।

ধর্ষণের শিকার শিশু বলেন, ‘আমি পৃথিবীতে বড় অসহায় হয়ে বেঁচে আছি। আব্দুল মালেক আমাকে বিয়ে করার কথা বলে ধর্ষণ করে। পরে এই শিশুর জন্ম হয়েছে। এখন কোলের শিশু ও আমাকে স্বীকৃতি না দিয়ে মালেক পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি এখন নিজের ও জন্ম নেয়া শিশুর পরিচয় চাই। মালেকের বিচার চাই’।

আব্দুল মালেকের বিচার দাবি করায হুমকির শিকার হতে হচ্ছে বলে দাবি করেছে শিশুটির পরিবার। শিশুটির মামা বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে বাড়ির উপরে লোক এসে নানা ভয় ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছি।’ তবে নির্দিষ্ট করে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি তিনি।

এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই ধর্ষণের শিকার শিশু ও তার কোলের নবজাতককে দেখতে বাড়িতে ভীর জমাচ্ছেন গ্রামবাসী। গ্রামবাসীও এ ঘটনার জন্য আব্দুল মালেককে দায়ী করে তার বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন।

স্থানীয় সমাজসেবক গোলাম মোস্তফা লুলু বলেন, মালেক এলাকায় খারাপ লোক হিসেবে পরিচিত। বিয়ের প্রলোভোন দেখিয়ে মালেক শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণের ফলে শিশুটির পেটে বাচ্চা আসে এবং বর্তমানে একটি কন্যা শিশুর জন্মও হয়েছে। আমরা গ্রামবাসী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করি যেন দ্রুত ধর্ষক মালেককে গ্রেফতার করে সঠিক বিচার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাংশা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. বদিয়ার রহমান বলেন, আগে এ মামলার তদন্তভার অন্য একজন কর্মকর্তার ওপর ছিলো। সস্প্রতি এ দায়িত্বটি আমাকে দেওয়া হয়েছে। আমি সরেজমিনে ভিকটিম ও অভিযুক্ত ধর্ষক আব্দুল মালেকের বাড়িঘর পরিদর্শন করেছি। মামলার একমাত্র আসামি আব্দুল মালেক পলাতক রয়েছেন। নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া, এ মামলায় ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, আব্দুল মালেক অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির একজন লোক। তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভিকটিম ও তার শিশুর খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই মালেককে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) মো. ফজলুল করিম বলেন, এ মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। শুধুমাত্র মামলার তদন্ত অফিসার নয়, প্রত্যেক অফিসারকেই অভিযুক্ত ধর্ষক মালেককে ধরতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম/ আশিক

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর