,

সর্বশেষ :
সুষ্ঠু নির্বাচন হলে রাজবাড়ী-১ আসন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবো : অ্যাড. খালেক রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাড. আসলাম মিয়ার গণসংযোগ রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন ইমদাদুল হক বিশ্বাস রাজবাড়ীতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন রাজবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন আশরাফুল ইসলাম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম নিলেন মিল্টন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে শান্তি পৌঁছে দেওয়া হবে : রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার রাজবাড়ীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চরমপন্থি নেতা নিহত রাজবাড়ীতে বিএনপি’র ২৭ নেতাকর্মী কারাগারে

পিকেএসএফ কর্তৃক বিশেষ সম্মাননা পেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর জব্বার

News

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কমঃ মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য রাজবাড়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও এনজিও কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থার (কেকেএস) নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বারকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে।

রোববার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আয়োজনে উন্নয়ন মেলা-২০১৭ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বারের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, পিকেএসএফ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।

উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী আয়োজনের সম্মাননা পর্বে মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্য বিমোচনে বিশেষ অবদানের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবুল মাল আবদুল মুহিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বারের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী ফকীর আব্দুল জব্বারকে উত্তরীয় পড়িয়ে দেন।

এ সময় অতিথিরা ফকীর আব্দুল জব্বারকে বাংলাদেশের একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।মেলায় পিকেএসএফ এর সহযোগী ২৭০টি সংগঠনের প্রধানদের মধ্যে থেকে বাংলাদেশের বিশিষ্ট ২জন ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বিশেষ সম্মাননা প্রাপ্ত হয়ে ফকীর আব্দুল জব্বার তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন,‘‘আজ আমার বয়স ৭০ পেরিয়ে যাচ্ছে। আমি যেন নতুন করে নিজেকে তারুণ্যের উদ্দীপনা অনুভব করছি। যেভাবে আজ আমাকে সম্মাননা প্রদান করা হল আমি মনে করি আমি এর যোগ্য নই। মনে হয় এখনো দেশের জন্যে কিছুই করতে পারিনি। আজকের এই অনুষ্ঠানে পিকেএসএফ মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনে বিশেষ অবদানের জন্য আমাকে সম্মানিত করেছেন। এ সম্মান দিয়ে পিকেএসএফও সম্মানিত হয়েছে। সেই সাথে আপনারাও এ সম্মানের ভাগীদার। আপনারা আমার ভাই-এই আন্দোলনের সাথী। আমি একজন উন্নয়ন কর্মী। কাজ করি দেশের জন্যে। মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের সার্বিক উন্নয়নে যতদিন বেঁচে আছি এভাবেই কাজ করে যাব। বিশেষ ব্যতিক্রমধর্মী কর্মকাণ্ড দেশের পিছিয়ে পড়া অন্ধগলির পতিতাপল্লীর শিশু সন্তানদের নিয়ে কেকেএস সেফহোমে রেখে তাদের পড়াশোনাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সমাজের মূল স্রোতধারায় প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে একশ পনের জন শিশু সমাজে প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছে। অনেকের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়েছে। অনেকে ইঞ্জিনিয়ার, স্কুলের শিক্ষক, নার্স ও কেকেএস এ নিয়োজিত আছে। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়েও অধ্যয়নরত। একই সাথে প্রতিষ্ঠা করেছি বৃদ্ধা ও কন্যা শিশু পরিচর্যা নিবাস। আমি কখনও হতাশ নই। আমি কাজ করে যাই আগামী প্রজন্মের জন্যে। এ সমাজের যুবকদের সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা গল্প শোনাতে হবে। তাদের সমস্যা শুনতে হবে বন্ধু বেশে।

তিনি আরও বলেন,‘‘ব্যক্তি জীবনে আমি এগুলি লালন পালন ও ধারন করি। আমি জেগে স্বপ্ন দেখি। এ প্রজন্মকে ভাল স্বপ্ন দেখাই। যে স্বপ্ন সূর্যালোকের মত, তবে এ স্বপ্ন ঘুমিয়ে নয়। আসুন সত্যের সন্ধানে নিজ দিগকে উৎসর্গ করে বিলিয়ে দিই মানবতার সেবায়। কাজের আরো সুযোগ পেলে তৃণমূল পর্যায়ে নিজেকে সার্বিকভাবে সম্পৃক্ত রাখতে পারবো বলে আমি মনে করি। দৈনন্দিন কার্যসম্পাদনে মনে হয় যদি সূর্যমামা এক ঘন্টা আগে উঠতো আর এক ঘন্টা পরে অস্ত যেত তাহলে এই ক্ষণজন্মা জীবনে মানবতার সেবায় দৈনিক আরও দুই ঘন্টা বেশি কর্মসম্পাদন করতে পারতাম। আসুন ত্যাগের মহিমায় সকলকে নিয়ে ভাল থাকার, ভাল রাখার মানসিকতা তৈরী করি। বিবেকের তারনা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। কোন সেবামূলক কর্মকান্ড সাসটেইনেবল হয় না যতক্ষণ না সে কাজ ওয়েল ফেয়ার ওরিয়েন্টেড হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সারা জীবনের লালিত স্বপ্ন যা তিনি পূরণ করে যেতে পারেননি। তারই স্বপ্নসাধ পূরণের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। আমি গর্বিত আমার বাবা মার জন্যে, যারা আজ দুজনই পৃথিবীতে নেই। কিন্তু সকল সীমাবদ্ধতার পরেও ঐ দৌলতদিয়া ইউনিয়নের এক অজপাড়া গায় আমাকে বড় করে তুলেছেন। আমার ছাত্রজীবন খুব সুখের ছিল না। আমি ছাত্র জীবন থেকেই একজন ব্যবসায়ী ছিলাম। কলেজের ছাত্র সংসদে ভিপি, সেক্রেটারী ছিলাম। ৮ ভাই বোনের সংসার ছিল আমাদের। ছাত্রজীবন থেকেই নিজের খরচ চালানোর জন্যে নিজেই উপার্জন করতাম। কখনও বইয়ের দোকান, কখনও খবরের কাগজের দোকান করে নিজে চলতাম। ভাই বোনদের পড়াশোনা চালাতাম। আমি গর্বিত আমি একজন শিক্ষক, শিক্ষক আমার পরিবারের সবাই স্ত্রী, তিন ছেলে মেয়ে। সবসময় আমার কাজে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে আমারই সহধর্মীনি শরিফা বেগম।

তিনি বলেন, আমার প্রিয় সংগঠন কেকেএস এর জন্যে ইতিপূর্বে ৪ একর জমি যার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা, ১টি গাড়ি দান করেছি। সংস্থার উন্নয়নের স্বার্থে বিগত ২ বছর সম্মানী ভাতা গ্রহণ করছি না। আমার সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও আমি তিনটি বেসরকারী উন্নয়নমূলক সংগঠন, চারটি কলেজ, পাঁচটি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, চারটি প্রাইমারী স্কুল, পাঁচটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, তিনটি মাদ্রাসা, তিনটি মসজিদ,একটি শশ্মান ও একটি মন্দিরসহ মোট ২৯টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। এ সবই সম্ভব হয়েছে আমার জেলার সাধারণ মানুষের সহযোগীতায়। রাজবাড়ী জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটে সম্পাদক ও সভাপতি নির্বাচিত হয়ে আসছি। আমি আবারও ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদকে। সেই সাথে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মো. আবদুল করিম স্যার, ফজলুল কাদের স্যার, মো: জসীম উদ্দিন স্যার, গোলাম তৌহিদ স্যার ও পিকেএসএফ এর সকল সম্মানীত কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ সেই সাথে যারা আমাকে সম্মাননা প্রদানের জন্যে মনোনীত করেছেন। সকলের প্রতি রইল আমার এবং কেকেএস এর পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা ভালবাসা এবং কৃতজ্ঞতা’’।

তিনি আরও বলেন,‘‘আপনাদের দোয়ায় বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে অসহায় মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, দরিদ্র মানুষের কাছে বর্তমান সরকারের অনুদানসহ বিভিন্ন সুবিধা আমি স্বশরীরে পৌঁছে দিই ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত আছি। ইনশাআল্লাহ কোন দুনীর্তির সুযোগ এইখানে নেই। ৩০ লাক শহীদের রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন। সকল স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সকল শ্রেণীর আমলা সকল ধরনের দুর্নীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানাই। আমি দূর্নীতি থেকে দূরে ছিলাম, আছি এবং থাকব। এটা শিখেছি আজকের এই পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের আদর্শ থেকে’’।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর