,

সর্বশেষ :
রাজবাড়ী জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন রাজবাড়ীর ২ টি আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন খালেক-আসলাম-হারুন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে রাজবাড়ী-১ আসন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবো : অ্যাড. খালেক রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাড. আসলাম মিয়ার গণসংযোগ রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন ইমদাদুল হক বিশ্বাস রাজবাড়ীতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন রাজবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন আশরাফুল ইসলাম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম নিলেন মিল্টন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে শান্তি পৌঁছে দেওয়া হবে : রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার

বেহাল দশা মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্রের!

News

স্টাফ রিপোর্টার : অযত্ন ও অবহেলায় বেহাল দশা বাংলা সাহিত্যের দিকপাল, উনবিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম সাহিত্যিক ও কালজয়ী উপন্যাস ‘বিষাদ সিন্ধু’র রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্রের। তার সমাধিস্থল রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার পদমদী গ্রামে এ স্মৃতিকেন্দ্রটি অবস্থিত। যা দেশের একটি সম্ভাবনাময় সাহিত্যের তীর্থস্থান।

জানাগেছে, মীরের সমাধিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলা একাডেমির পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৯৯-২০০৪ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দুই কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে এ স্মৃতিকেন্দ্রটি। অথচ বাংলা একাডেমির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সম্ভাবনাময় এই স্মৃতিকেন্দ্রটি অযত্ন অবেহেলায় দিন দিন তার সৌন্দর্য হারাচ্ছে। নির্মাণের ১৩ বছরে হয়নি কোনো সংস্কার। মূল ভবনে ফাটল, বৃষ্টির পানি পড়ে, মাটি ধসে সীমানা প্রাচীর হেলে পড়েছে।

আরও জানা গেছে, স্মৃতিকেন্দ্রের সংগ্রহ শালায় নেই মীর মশাররফের কোনো স্মৃতিচিহ্ন। সাতটি পদে নিয়োগ থাকার কথা থাকলেও মাত্র তিনজন দিয়েই চলছে কেন্দ্রটির পরিচালনা। লোকোবলের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে সম্ভাবনাময় এই স্মৃতি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা। সাহিত্য প্রেমিক পর্যটকেরা হচ্ছেন বিমূখ।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) ছিল মীর মশাররফ হোসেনের ১৭০তম জন্মবার্ষিকী। জীবনকালে তিনি লিখেছেন, বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য রচনা বিষাদ সিন্ধু, জমিদার দর্পন, গড়াই ব্রিজ, বসন্ত কুমারীসহ অনেক কালজয়ী লেখা। তিনি ছিলেন ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে এক অদম্য লেখক।

মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্রকে ঘিরে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি রাজবাড়ী জেলার মানুষের। সরকারের সুনজর ও সঠিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মীর মশাররফ স্মৃতিকেন্দ্রটি হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র এমনটিই আশা করছেন জেলাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা।

স্মৃতিকেন্দ্রের দৈন্যদশা সম্পর্কে মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ বিনয় কুমার চক্রবর্তী  বলেন, ‌‘বাংলা একাডেমি একটু সুদৃষ্টি দিলেই স্মৃতিকেন্দ্রটি সংস্কার করে পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর করা যায়।‘

স্মৃতি পরিষদের সাহিত্য সম্পাদক সঞ্জীত কুমার দাশ বলেন, ‘স্মৃতিকেন্দ্রে মীর মশাররফ হোসেনের কোনো স্মৃতি নেই। এখানে অন্য অনেক লেখকের বই আছে, কিন্তু যাকে ঘিরে স্মৃতকেন্দ্র তারই কোনো বই পাওয়া যায় না। দীর্ঘদিন ধরে আমি ‘বিষাদসিন্ধু’ উপন্যাসটি এখানে পাচ্ছি না। অথচ এ উপন্যাসের জন্যই মীর মশাররফ এত খ্যাতিমান।’

রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার পাল বলেন, ‘প্রতিবছর মীর মশাররফ হোসেনের জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়। কিন্তু দক্ষ সংগঠকের অভাবে নির্মাণের ১৩ বছরেও আলো ছড়াতে পারছে না স্মৃতিকেন্দ্রটি। তাই স্মৃতিকেন্দ্রের সৌন্দর্য বাড়াতে ডিজিটালাইজেশন করা প্রয়োজন।’

রাজবাড়ী জেলার প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম’-এর সম্পাদক ও সমাজসেবক এম.এ খালেদ পাভেল বলেন, ‘সারাবছর মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্রটি অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকে। শুধু ১৩ নভেম্বর জন্মদিন এলেই স্মৃতিকেন্দ্র ঝকঝক-তকতক করা হয়। কারণ, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে বাংলা একাডেমির শীর্ষ কর্মকর্তারাসহ অনেক অতিথি এখানে আসেন। শুধুমাত্র অতিথিদের সুবিধার্থেই ওই একটি দিন স্মৃতিকেন্দ্রকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়।’

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম রেজা বলেন, ‘মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র সংস্কার করা জরুরি। এ ব্যপারে বারবার বাংলা একাডেমিকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি।’

উল্লেখ্য, ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর মীর মশাররফ হোসেন কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে। তার বাবার নাম সৈয়দ মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ও মায়ের নাম দৌলত নেছা। ১৯১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর পদমদীতেই কালজয়ী এই সাহিত্যিক মারা যান। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে বিবি কুলসুমের সমাধির পশ্চিম পাশে সমাহিত করা হয়।

মীর মশাররফ হোসেনের রচনাবলী :-

উপন্যাস : বিষাদ সিন্ধু, গাজী মিয়ার বস্তানী, উদাসীন পথিকের মনের কথা (আত্মজীবনীমূলক) তহমিনা উল্লেখযোগ্য।

গল্প : রত্নাবতী, এসলামের জয়, প্রেম পারিজাত  উল্লেখযোগ্য।

নাটক : জমিদার দর্পণ, বসন্তকুমারী, বেহুলা গীতাভিনয় উল্লেখযোগ্য।

প্রহসন : এর উপায় কি, টালা অভিনয়, নিয়তি কি অবনতি, ভাই ভাই এই ত চাই উল্লেখযোগ্য।

কাব্য : বিবি খোদেজার বিবাহ, মদীনার গৌরব, মোসলেম বীরত্ব, গোরাই ব্রিজ উল্লেখযোগ্য।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর