স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর ফেসবুক একাউন্ট এখন গোয়েন্দা নজরদারিতে

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ ,২৩ এপ্রিল, ২০১৪ | আপডেট: ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ ,২৩ এপ্রিল, ২০১৪
পিকচার

ডেস্ক নিউজ : : স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর ফেসবুক একাউন্ট এখন গোয়েন্দা নজরদারিতে। প্রতিটি লাইক, আপলোড করা ছবি এবং বিভিন্ন মন্তব্য গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন পর্যবেক্ষণের পর এ নিয়ে চূড়ান্ত অ্যাকশনে যাবেন গোয়েন্দারা। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি’র) লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থাটি এ উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত স্পিকার নিজেও। কারণ তিনি ফেসবুক ব্যবহার করেন না। অথচ তার নামে রয়েছে ফেসবুক একাউন্ট। শুধু তাই নয়, স্পিকারের ফেসবুকে নিয়মিত ছবি আপলোড করা হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে নানা ধরনের কমেন্ট। স্পিকারের ওই ফেসবুকে ফলোয়ার রয়েছেন ৫৩৪২ জন। মিউচুয়াল বন্ধুর তালিকায় আছেন ৩৯ জন। এদের বেশির ভাগই বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদকর্মী। এ প্রসঙ্গে স্পিকার মানবজমিনকে বলেন, এগুলো হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার। আমি নিজে কখনও ফেসবুক ব্যবহার করি না। অথচ আমার নাম দিয়ে কে বা কারা ফেসবুক ব্যবহার করছে। শুনেছি আমার নাম দেখে অনেকেই ফেসবুকে বন্ধু হওয়ার অনুরোধ পাঠিয়েছেন। কিন্তু তারা তো আর সত্যিটা জানেন না। এটা আমার জন্য বিব্রতকর। এদিকে স্পিকার বিষয়টি জানার পর ওই ফেসবুক বন্ধ করতে বিটিআরসিকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানান।  স্পিকারের একান্ত সচিব এমএ কামাল বিল্লাহ বলেন, চিঠি দেয়ার পরও ফেসবুক বন্ধ না হওয়ায় আবারও বিটিআরসি’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা জানান, বিষয়টি একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে পর্যবেক্ষণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তারা এখন ফেসবুক নজরদারিতে রেখেছেন।
শিরিন শারমিন চৌধুরী নামের ফেসবুকে কভার ছবি দেয়া হয়েছে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের কাছ থেকে স্পিকার হিসেবে শপথের ছবি। বাম পাশে রয়েছে স্পিকারের ছবি। নিজের সম্পর্কে  ফেসবুকে বলা হয়েছে, জন্ম-তারিখ ১৯৬৬ সালের ৬ই অক্টোবর। কাজ করছেন বাংলাদেশ সরকারের। রাজনৈতিক ভিউ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে-বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ। ফেসবুকে ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত ২৭২টি ছবি আপলোড করা হয়েছে। বেশির ভাগ ছবিতে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া রয়েছেন বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধান, স্পিকার ও কূটনীতিকদের সঙ্গে তোলা নানা ছবি। ফেসবুকে দেখা গেছে গত ১৪ই এপ্রিল বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে সর্বশেষ স্ট্যাটাস দেন স্পিকার। এর আগের দিনের স্ট্যাটাসে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতা। ১২ই এপ্রিলের স্ট্যাটাসে দেয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫টি আলোচিত উক্তি। সংশ্লিষ্টরা জানান, স্পিকার যখন সংসদ পরিচালনা করেন তখনও তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও ছবি আপলোড করা হয়।
শুধু স্পিকার নন এর আগে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নামেও ফেসবুক আইডি খোলা হয়। এ নিয়ে বিটিআরসি’র কাছে রয়েছে অভিযোগের পাহাড়। কেউ সুনির্দিষ্টভাবে বিটিআরসি’র কাছে অভিযোগ জানালে ওই ফেসবুক বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের নামে আবারও খোলা হয় ফেসবুক আইডি। বিটিআরসি জানিয়েছে, ফেসবুক আইডি খোলার ক্ষেত্রে তাদের হাতে কোন ক্ষমতা নেই। যে কেউ যে কোন নামে ফেসবুক খুলতে পারে। এ সুযোগটাই নিচ্ছে ফেসবুকের অপব্যবহারকারীরা। তাই এই আইডি বন্ধ করলেও তারা আবার নতুন আইডি খুলতে পারে।

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০১৪/সকাল-৬.২৩/ স্বপ্ন

 


এই নিউজটি 1927 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments

More News from জাতীয়