,

কালুখালীতে ধর্ষণে প্রতিবন্ধী যুবতী অন্তঃসত্ত্বা, টাকায় ধামাচাপা

News

আশিকুর রহমান, নিউজরুম এডিটর॥ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের হাট মদাপুর গ্রামে এক লম্পটের ধর্ষণের শিকার হয়ে বাক প্রতিবন্ধী এক যুবতী (৩০) অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। এদিকে, ধর্ষণকারী লম্পট রিপন (৩৫) তার দোষ স্বীকার করে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে ওই যুবতীর পরিবারের মতের বিরুদ্ধে শালিস করিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়েছেন।

এ অবস্থায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই প্রতিবন্ধী যুবতী ও তার পরিবারের লোকজন অনাগত শিশুর ভবিষ্যত পিতৃপরিচয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

ধর্ষণকারী রিপন কুষ্টিয়া জেলা শহরের হাউজিং এস্টেট এলাকার সুলতানের ছেলে।

ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী যুবতীর বাবা বলেন, প্রায় তিন মাস আগে আমার মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখতে পেয়ে পাংশা শহরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে আলট্রাস্নোগ্রাম করাই। এতে আমার মেয়ের তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ধরা পরে। এরপর আমার মেয়েকে জিজ্ঞেস করা হলে সে কথা বলতে না পারায় ইশারা ইঙ্গিতে জানায়, আমার প্রতিবেশী বিষু সরদারের মেয়ের জামাই রিপন তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে এই অঘটন ঘটিয়েছে। এরপর আমি বিষু সরদারকে বিষয়টি জানাই এবং রাজবাড়ী আদালতে মামলা করতে যাই।

কিন্তু, স্থানীয় নাদের, ছেরো, ফিরোজ, জয়নাল, আছামত ও মেছো আমাকে আদালত থেকে ফেরত নিয়ে আসে। এরপর রিপন তার দোষ স্বীকার করে বিষয়টি মিমাংসার জন্য নাদের, ছেরো, ফিরোজ, জয়নাল, আছামত ও মেছোর কাছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দেয়। পরে নাদের, ছেরো, ফিরোজ, জয়নাল, আছামত ও মেছো শালিসে বসে ৬০ হাজার টাকা রেখে বাকি ৬০ হাজার টাকা আমাকে দিয়ে ৩শ’ টাকার অলিখিত স্ট্যাম্পে টিপসই নেয় এবং বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। এখন আমার প্রতিবন্ধী মেয়ের অনাগত সন্তানের ভবিষ্যত কি হবে তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

মেয়ের জামাইয়ের দোষ স্বীকার করে রিপনের শ্বশুর বিষু সরদার বলেন, রিপন আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসে হঠাৎ করে অঘটনটি ঘটিয়ে ফেলেছে। সে তার দোষ স্বীকার করে আমার মাধ্যমে স্থানীয় নাদের, ছেরো, ফিরোজ, জয়নাল, আছামত ও মেছোর কাছে এক লাখ ২০ হাজার টাকাও দিয়েছে। পরে নাদের, ছেরো, ফিরোজ, জয়নাল, আছামত ও মেছো শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছে।

এ বিষয়ে শালিসদার নাদের ও ছেরোর সঙ্গে যোগাযোগ করা গেলেও বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি মিমাংসা করার কথা স্বীকার করে নাদের ও ছেরো বলেন, মেয়ের পরিবার ও রিপনের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের উপস্থিতিতে আমরা স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি মিমাংসা করেছি। তবে আমরা কোনো-টাকা পয়সা খাইনি।

এরকম একটি স্পর্শকাতর ঘটনায় স্থানীয়ভাবে শালিস-মিমাংসা করার বৈধতা আপনাদের আছে কি না ? তাছাড়া এই অনাগত শিশুর জন্মের পর তার পিতৃপরিচয় কি হবে ? নাদের ও ছেরোর কাছে এমন প্রশ্ন করা হলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরবর্তীতে তারা এ প্রতিবেদককে প্রতিবেদন না করার জন্য টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে মদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম মৃধা বলেন, ঘটনাটি আমাকে কেও জানায়নি। এই প্রথম আপনার কাছ থেকে শুনলাম। স্থানীয় সাধারণ ব্যক্তিরা তো দূরের কথা ইউপি চেয়ারম্যানই এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে মিমাংসা করার এখতিয়ার রাখে না। যারা শালিস করে বিষয়টি ধামাচাপার চেষ্টা করেছেন তাদের সনাক্ত করে আমি আইনের হাতে তুলে দিবো।

কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর