,

সর্বশেষ :
সুষ্ঠু নির্বাচন হলে রাজবাড়ী-১ আসন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবো : অ্যাড. খালেক রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাড. আসলাম মিয়ার গণসংযোগ রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন ইমদাদুল হক বিশ্বাস রাজবাড়ীতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন রাজবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন আশরাফুল ইসলাম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম নিলেন মিল্টন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে শান্তি পৌঁছে দেওয়া হবে : রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার রাজবাড়ীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চরমপন্থি নেতা নিহত রাজবাড়ীতে বিএনপি’র ২৭ নেতাকর্মী কারাগারে

অবৈধভাবে দখলকৃত জমি বৈধ করতে ‘বঙ্গবন্ধু’ নামের অপব্যবহার!

News

ফকীর আশিকুর রহমান, নিউজরুম এডিটর রাজবাড়ীতে আদালতে বিচারাধীন বিরোধপূর্ণ কোটি টাকা মূল্যের জমি অবৈধভাবে দখল করে রাতের আধারে টিনশেড মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ওই মার্কেটটি এখনো পর্যন্ত চালু করা না হলেও মার্কেটে ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’ সংগঠনের একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলা সদরের গোয়ালন্দ মোড়ে অবস্থিত ওই জমির মালিক দাবিকারী সেকেন্দার মিয়ার অভিযোগ, মার্কেটের কর্মকাণ্ড পরিচালনা বন্ধ করতে যাতে কেউ দুঃসাহস না দেখান সে কারণে কৌঁশলে ওই সাইনবোর্ডটি টাঙিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ নামের অপব্যবহার করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গেলে সেকেন্দার মিয়া ‘রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম’-কে বলেন, আমি ১৯৬৭সালে রাজবাড়ী জেলার সদরের শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের আহলাদীপুর গ্রামের (গোয়ালন্দ মোড়) আ. ছামাদ শেখের কাছ থেকে ওই মৌজার ৭১৪নং দাগের ৩৮শতাংশ জমি কিনি। ছামাদ মিয়া ৩৮শতাংশ জমি আমার নামে দলিলমূলে রেজিষ্ট্রি করে দেন। এরপর থেকে আমি ওই জমি ভোগ করে আসছি। আমি ওই ৩৮শতাংশ জমির মধ্যে ১৯শতাংশ জমিতে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছি। বাকী ১৯শতাংশ জমিও আমার ভোগদখলে ছিলো। কিন্তু ওই ১৯শতাংশ জমি আমার ছোটভাই সেলিম মিয়া নিজের দাবি করলে আমি রাজবাড়ী সদর সহকারী জজ আদালতে মামলা করি। দেওয়ানী মামলা নম্বর-১৮৭/২০০৮। আদালতে মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ওই জমি একই ইউনিয়নের নিমতলা গ্রামের আ. লতিফ গাজী দখল করার পাঁয়তারা করে আসছিলেন। এ জের ধরে গত ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় লতিফ গাজী স্থানীয় নারী সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ট আত্মীয় রাজীব তালুকদারের সহযোগীতায় ওই জমি দখল করতে আসেন। এসময় তারা আমার ও স্থানীয় লোকজনের বাঁধার মুখে ফিরে যান। যাবার সময় তারা ওই জমি দখল করার হুমকি দিলে গত ১৪ডিসেম্বর আমি রাজবাড়ীর বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ধারায় মিস,পিটিশন-৫৯৬/২০১৭নম্বর মামলা করি।

মামলায় আ. লতিফ গাজী ও রাজীব তালুকদারসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়। মামলা থাকা শর্তেও লতিফ গাজী ও রাজীব তালুকদার ওই জমিতে রাতের অন্ধকারে একটি বড় আকারের টিনশেড মার্কেট নির্মাণ করে জমি দখল করে নেন।  ওই মার্কেটের কর্মকাণ্ড পরিচালনা বন্ধ করতে যাতে কেউ দুঃসাহস না দেখান সে কারণে পরবর্তীতে তারা কৌঁশলে মার্কেটে ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার’ একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আ. লতিফ গাজী ‘রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম’-কে বলেন, আমি ওই ১৯শতাংশ জমি ২০০৮সালে সেকেন্দার মিয়ার ছোটভাই সেলিম মিয়ার কাছ থেকে দশ লাখ টাকা দিয়ে কিনি। সেলিম মিয়া আমার নামে দলিল করে দেন। এরপর থেকে আমি ওই ১৯শতাংশ জমির খাজনাও দিয়ে আসছি। কিন্তু, সেকেন্দার মিয়া ওই ১৯শতাশং জমি নিজের দাবি করে আদালতে মামলা করেন। যেহেতু ওই জমি আমি কিনেছি, আমার নামে দলিলও আছে। যার কারণে আমি ওই জমিতে টিনশেড মার্কেট নির্মাণ করেছি।

অপর অভিযুক্ত রাজীব তালুকদার ‘রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম’-কে বলেন, লতিফ গাজী আমার আত্মীয়। তার জমিতে তিনি মার্কেট নির্মাণ করেছেন। আমি ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার’ রাজবাড়ী জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। তাই ওই মার্কেটের একটি রুম ভাড়া নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার’ আঞ্চলিক কার্যালয় করেছি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ‘রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম’-কে বলেন, ওই জমির মালিক সেকেন্দার মিয়া। এতোদিন আমরা সেটাই জেনে এসেছি। কয়েকদিন আগে ওই জমিতে দিনের বেলায় কয়েকটি খুটি গাড়তে দেখি। এরপর রাতের অন্ধকারে ওই জমিতে টিনশেড মার্কেট নির্মাণ করে ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’ নামে সাইন বোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম ‘রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম’-কে বলেন, গোয়ালন্দ মোড়ে ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার’ অফিস করা হয়েছে শুনেছি। তবে কার ঘর ভাড়া নিয়ে করা করেছে তা জানি না। যদি কেউ অবৈধভাবে জমি দখল করে রাতের আধারে মার্কেট নির্মাণ করে ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার’ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই তিনি অপরাধ করেছেন।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর