,

সর্বশেষ :
ঢাকাস্থ খানখানাপুর সমিতির উদ্যোগে গুণীজন ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান রাজবাড়ীর বসন্তপুরের মাদক ব্যবসায়ী ছবদুল র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ‌’মানবতার জয়’ এর উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মধ্যে ঈদ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ রাজবাড়ীর মুলঘরের আদর্শ রাজনীতিবিদ রইস উদ্দিন মিয়া আর নেই দৌলতদিয়ায় এক মাদক ব্যবসায়ী ও চার মাদকসেবী আটক রাজবাড়ীর বসন্তপুর ইউনিয়নে ভাতা ভোগীদের বই বিতরণ অ্যাডভোকেট সুদীপ্ত গুহ ও সিএসআই তাজ উদ্দিনের দ্বন্দ্বের অবসান যুবকের দুই হাত বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় গ্রেফতার ১, চাপাতি উদ্ধার কবিরাজ’ই চিকিৎসক; বিশ্বাসকে পুঁজি করে দিনের পর দিন ধরে চলছে অপচিকিৎসা রাজবাড়ীর বসন্তপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী মতিয়ার গ্রেফতার

পাত্রী দেখানোর কথা বলে পাংশায় এনে হত্যা করা হয় শাফিনকে!

News

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম : রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউপির চরপাড়া গ্রামের একটি আখ ক্ষেত থেকে গত ১৭ ডিসেম্বর দুপুরে শাফিন খান ওরফে শফিক (৪০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহ উদ্ধারের ১২ দিনের মধ্যেই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রুহুল আমিন প্রমাণিক ওরফে রুহুল মেম্বার (৪২) নামে এক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার ও হত্যার কারণ উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজবাড়ীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফরহাদ মামুনের কাছে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেফতারকৃত ইউপি সদস্য রুহুল।

রুহুল মেম্বার কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। তিনি আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত. ইব্রাহিম প্রমাণিকের ছেলে। নিহত শাফিন খান একই গ্রামের আবু বকর খানের ছেলে।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাংশা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহিন মোল্লা বলেন, প্রায় দুই ঘন্টা ধরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন রুহুল মেম্বার।

আদালতের কাছে রুহুল বলেছেন, শাফিন খান দির্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি প্রবাস থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসে কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ড্রেজার কিনে এলাকায় বালি উত্তোলণ ও বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। এ ব্যবসা শুরুর পর স্থানীয় আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সাত্তার মোল্লার ছেলে রাজিব মোল্লা, ভাতিজা আরিফ মোল্লা, সবুজ, সাগর ও সুমনসহ বেশ কয়েকজন শাফিনের ড্রেজারের পাইপ কেটে ফেলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই মারামারি সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যানের ভাতিজা আরিফ মোল্লা’র হাত জখম হয়। এতে আরিফ ক্ষিপ্ত হন এবং শাফিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরই অংশ হিসেবে তারা শাফিনের সঙ্গে ইউপি সদস্য রুহুলের সু-সম্পর্কের বিষয়টি মাথায় এনে রুহুলকে অপকর্মে লাগান। তারা রুহুলকে বলেন- যে কোনো উপায়ে শাফিনকে নির্জন জায়গায় নিয়ে যেতে।

এদিকে, প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর শাফিনের এক সন্তানের জননী স্ত্রীর সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং তালাক হয়। এ কারণে শাফিন নতুন করে বিয়ে করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় পাত্রী দেখছিলেন। আর এ পাত্রী দেখার কৌঁশলকেই কাজে লাগান ইউপি সদস্য রুহুল। তিনি শাফিনকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় পাত্রী দেখতে যাবার প্রস্তাব দেন।

এতে রাজী হয়ে গত ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৩টার দিকে শাফিন রুহুল মেম্বারের বাড়িতে যান এবং রুহুলের মোটরসাইকেলে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এরপর তারা দু’জন হাবাসপুর ইউনিয়নের সেগ্রাম কালিতলা বাজারে এসে একটি দোকানে বসে চা পান করেন। এক ফাঁকে রুহুল মেম্বার স্থানীয় সুজা মাষ্টারের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে আমবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যানের ভাতিজা আরিফ মোল্লাকে বলেন- সন্ধ্যার পর তিনি শাফিনকে নিয়ে হাবাসপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় থাকবেন, তারা যেন প্রস্তুত থাকেন। এরপর সেখান থেকে তারা হাবাসপুর বাজারে যান। ওই বাজারে বসে তারা আরেক দফা চা পান করেন এবং স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

এরপর রাত ৮টার দিকে রুহুল মেম্বার কৌঁশলে শাফিনকে হাবাসপুর ইউনিয়নের চরপাড়া বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে যান। এ সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আমবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাত্তার মোল্লার ছেলে রাজিব মোল্লা, ভাতিজা আরিফ মোল্লা, সবুজ, সাগর ও সুমনসহ ৮-১০ জন লাঠিশোঠা দিয়ে শাফিনের মাথা ও মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান পিটিয়ে জখম করেন। এরপর তারা শাফিনের মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহটি বেড়িবাঁধের পাশে থাকা খালের কাঁদার মধ্যে ফেলে টেনে হেঁচড়ে পাশের আখ ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে আখের পাতা দিয়ে ঢেকে রেখে চলে যান। পরদিন ১৭ ডিসেম্বর দুপুরে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে শাফিনের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরে থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এ মামলায় জামাল মন্ডল, টিপু মুন্সি, তুহিন ও কানন নামে চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তবে রুহুল মেম্বারকে গ্রেফতার করা হয় বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে। রুহুলকে গ্রেফতারের পরই বেড়িয়ে আসে এ হত্যাকান্ডের মূল রহস্য।

ওসি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে রুহুল মেম্বার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাত্তার মোল্লার ছেলে রাজিব মোল্লা, ভাতিজা আরিফ মোল্লা, সবুজ, সাগর ও সুমনসহ ৮-১০ জন জড়িত রয়েছে। এদের গ্রেফতারে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর