,

সেই তরুণীর মরদেহ ভুল সনাক্ত করা হয়েছিল!

News

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের একটি মেহগনি বাগান থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণীর মরদেহের ভুল সনাক্ত করেছিলেন সালেহা বেগম নামে এক নারী।

শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজবাড়ী সদর থানায় ওই তরুণীর মরদেহের ছবি দেখে সালেহা বেগম মরদেহটি তার মেয়ে কোহিনুরের বলে সনাক্ত করেছিলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন রাতে ‘রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম’-এ ‘রাজবাড়ীতে উদ্ধার হওয়া তরুণীর মরদেহের পরিচয় মিলেছে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে কোহিনুরকে তার স্বামীর বাড়ি থেকে জীবিত উদ্ধার করে পুলিশ।

সালেহা বেগম ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের মিলনপালের ডাঙ্গীর আদর্শ গুচ্ছ গ্রামের হোসেন শেখের স্ত্রী।

শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজবাড়ী সদর থানায় বসে ‘রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম’-এর সঙ্গে কথা হয় সালেহা বেগমের। ওই সময় উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিজের মেয়ে কোহিনুরের দাবি করে সালেহা বলেন, গত পাঁচ মাস আগে বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বাকশীডাঙ্গী গ্রামের খোয়াজ শেখের ছেলে সুমন শেখের সঙ্গে প্রেম করে কোহিনুরের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর সে সুখে ছিলো না। সুমন তাকে মারপিট করে ঘরে আটকে রাখতো। বেশ কিছুদিন ধরে কোহিনুর আমাদের বাড়িতে ছিল। গত দুইদিন আগে শ্বশুরবাড়ির লোকজন গিয়ে তাকে নিয়ে আসে। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে আমি কোহিনুরের স্বামী সুমন শেখের ভাগ্নে শাহিদের মোবাইলে ফোন করে কোহিনুর কেমন আছে জানতে চাইলে পাশে কোহিনুরের চিৎকারের শব্দ শুনতে পাই। যে কারণে রাত থেকেই আমার মনটা খারাপ ছিল। সকাল হলেই আমি কোহিনুরকে দেখার জন্য বাড়ি থেকে তার স্বামীর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেই। পথে রাজাপুর গ্রামে এসে লাশ পাওয়ার খবর শুনে থানায় আসি এবং ছবি দেখে আমার মেয়ে কোহিনুরের লাশ সনাক্ত করি।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. কামাল হোসেন ভূইয়া বলেন, সালেহা বেগমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোহিনুরের স্বামী সুমন শেখকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে কোহিনুরকে তার স্বামীর বাড়ি থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সালেহা বেগম উদ্ধার হওয়া ওই তরুণীর মরদেহের ছবি দেখে মরদেহটি ভুল সনাক্ত করেছিলেন। মরদেহটির পরিচয় না মেলায় ময়নাতদন্ত শেষে সেটি রাজবাড়ী আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বসন্তপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য লিটনের মেহগনি বাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

রাজবাড়ীর খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে ওই মেহগনি বাগানে মরদেহটি দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে গত শুক্রবার দিনগত রাতের কোনো এক সময় ওই তরুণীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহটি ওই স্থানে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর