,

রাজবাড়ীতে ৩ গুণীজনকে বিশেষ পদক প্রদান

News

রাজবাড়ী :  বঙ্গবন্ধু সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে বৃহত্তর ফরিদপুরের তিন পরীক্ষিত সমাজসেবককে বিশেষ পদক প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের জালদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ পদক প্রদান করা হয়।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন- গোপালগঞ্জ জেলার থানাপাড়া গ্রামের প্রকৌশলী এ,এম,এন সোবহান, একই জেলার ব্যাংকপাড়া গ্রামের ডা. হাফিজুর রহমান ও রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামের আবুল হাছিম জেহাদ মিয়া।

পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রাজবাড়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার।

বঙ্গবন্ধু সমাজকল্যাণ পরিষদ ফরিদপুর শাখার উপদেষ্টা আবুল হোসেন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক বিশ্বাস ও রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিন উদ্দিন বতু।

অন্যান্যের মধ্যে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য মীর্জা ফরিদুজ্জামান হাবিবুল, নারী সদস্য কহিনুর বেগম, বঙ্গবন্ধু সমাজকল্যাণ পরিষদের ফরিদপুর শাখার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আলিমুজ্জামান খান মিস্টার, অ্যাডভোকেট আফজাল স্মৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমেদ, জালদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জালদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এক সেট ক্রিকেট খেলার সরঞ্জাম, দুইটি ফুটবল ও দুইটি ভলিবল উপহার দেন। এছাড়া তিনি ওই বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকা ব্যায়ে বাথরুম এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫০হাজার টাকা বিতরণের ঘোষণা দেন।

বঙ্গবন্ধু সমাজকল্যাণ পরিষদের ফরিদপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন মিলন বলেন, বঙ্গবন্ধুর সাফল্যজনক কর্মকান্ডকে প্রসারিত করতে গঠিত হয় বঙ্গবন্ধু সমাজকল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি। পরবর্তীতে বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি ফরিদপুরেও ২০১১ সালে জেলা শাখা কমিটি গঠিত হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রামবাংলাকে প্রচ- ভালোবাসতেন। তার এই ভালোবাসাকে সম্মান জানাতে পরিষদ থেকে সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রতিবছর বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের গুণী তিনজন ব্যক্তিকে পদক প্রদানসহ সম্মানিত করা হবে। তারই আলোকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের জালদিয়া গ্রামে পদক প্রদান অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পদকপ্রাপ্ত তিনজন গুণী ব্যক্তির পরিচয় তুলে ধরে মো. জাকির হোসেন মিলন বলেন, প্রকৌশলী এ,এম,এন সোবহান ১৯৪৪ সালের ২৮শে মে কোলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মরহুম অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন ও মায়ের নাম মরহুমা সাদেকা খাতুন। তার বাবা ছিলেন প্রক্ষাত সমাজসেবক ও মা রত্মগর্ভা হিসেবে একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বাল্যকাল থেকেই এ,এম,এন সোবহান নিজ কর্মের পাশাপাশি সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, স্কুলসহ শতাধিক সংগঠনকে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করেছেন। এছাড়াও তিনি বিনা পারিশ্রমিকে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের কার্যালয়ের ডিজাইন করে দিয়েছেন। তার বাবার সমাজসেবামূলক কাজকে প্রসারিত করতে করতে প্রায় এক যুগ আগে তিনি ‘অ্যাডভোকেট আফজাল পরিষদ’ গঠন করেন। বর্তমানে তিনি পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা। এই পরিষদের মাধ্যমে তিনি ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার অবহেলিত গ্রামের দরিদ্রদের মধ্যে বিণামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান, দুঃস্থ্য নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান ও মেধাবী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করেন। সমাজসেবার জন্য তিনি বিভিন্ন সংগঠন থেকে একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

ডা. হাফিজুর রহমানের পরিচয় তুলে ধরে মিলন বলেন, হাফিজুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৪শে জুলাই গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম আব্দুল খালেক উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। চিকিৎসক একটি সেবামূলক পেশা এটাকে অনুধাবন করে হাফিজুর রহমান দেশের বিভিন্ন জেলার গ্রাম-গঞ্জে দরিদ্রদের মধ্যে বিণামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের সিন্ধান্ত নেন। ডাঃ হাফিজুর রহমান ‘অ্যাডভোকেট আফজাল স্মৃতি পরিষদের’ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। ২০১৬ সালে এই পরিষদের মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলার ১০১টি গ্রামে ৫হাজারের অধিক দরিদ্রদের মধ্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের ব্যবস্থা করেন। যা একটি ইতিহাস বলা চলে।

আবুল হাছিম জেহাদ মিয়ার পরিচয় তুলে ধরে মো. জাকির হোসেন মিলন বলেন, জেহাদ মিয়া ১৯৫১ সালের ১১ই নভেম্বর রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম হাজী আবু মোঃ ইসহাক বাদশা মিয়া এলাকার সু-পরিচিত একজন দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। জেহাদ মিয়া একজন অবসরপ্রাপ্ত উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা। একজন সফল সমাজসেবক হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠানে তার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। জালদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সমস্ত জায়গা তিনি দান করেছেন। তিনিও একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

এই তিন গুণী ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করতে পেরে বঙ্গবন্ধু সমাজকল্যাণ পরিষদ অত্যান্ত আনন্দিত হয়েছে বলে জানান মো. জাকির হোসেন মিলন।

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম/ আশিক

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর