,

রাজবাড়ীতে প্রেমিকের বিয়ের খবরে বিয়ে বাড়িতে প্রেমিকা, অতঃপর…

News
মিন্টু ও লাখী।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ীতে প্রেমিক রেজাউল করিম মিন্টুর (৩০) বিয়ের আয়োজনের খবর শুনে তার বাড়িতে গিয়ে উঠেছেন প্রেমিকা লাখী আক্তার (২০)। এ ঘটনার পর প্রেমিক মিন্টুর বিয়ে ভেঙে গেছে।

শনিবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় জেলা সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মিন্টু রঘুনাথপুর গ্রামের ফজলু সরদারের ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। লাখী একই গ্রামের কাশেম শেখ পাখির মেয়ে।

ঘটনার পর স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা শালিসের মাধ্যমে ঘটনাটি মিমাংসা করার আশ্বাস দিয়ে ওই তরুণীকে মিন্টুর বাড়ি থেকে নিয়ে প্রতিবেশী নুরু নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে রেখেছেন।

রোববার (১১ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ওই তরুণী নুরুর বাড়িতে বসে আছেন। এ সময় তিনি বলেন, মিন্টু ও আমার বাড়ি পাশাপাশি। গত পাঁচ বছর আগে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সেই ঘরে আমার একটি মেয়ে হয়। বর্তমানে মেয়ের বয়স সাড়ে তিন বছর। মেয়ে হবার পর আমার স্বামী ডুবাই চলে যান। স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর আমি বাবার বাড়িতে এসে থেকে কলেজে পড়ালেখা করি। গত দুই বছর আগে মিন্টু আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। এক পর্যায়ে আমি তার প্রেমে রাজী হই। এরপর থেকে আমরা স্বামী-স্ত্রীর মতো মেলামেশা করতে থাকি। চার মাস আগে মিন্টু আমাকে বিয়ে করার কথা বলে আমাকে সঙ্গে নিয়ে কোর্টে গিয়ে আগের স্বামীকে তালাক দেওয়ায়।

শনিবার (১০ মার্চ) আমি জানতে পারি যে একদিন পরই মিন্টুর বিয়ে। সে কারণে আমি ওর বাড়িতে গিয়ে উঠি। পরে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা শালিসের মাধ্যমে আমাকে মিন্টুর সঙ্গে বিয়ে দিবেন বলে আশ্বাস দিয়ে এই বাড়িতে এনে রেখেছেন। শালিসে যদি মিন্টু আমাকে বিয়ে না করে তাহলে আমি আত্মহত্যা করবো।

লাখীর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, মিন্টু আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। ওকে আমার মেয়েকে বিয়ে করতেই হবে। তা না হলে আমরা আইনের আশ্রয় নিবো।

তিনি বলেন, মিন্টুর চাচা আমাদেরকে বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। যে আওয়ামী লীগ নেতা শালিস করতে চেয়েছেন তাকেও টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে মিন্টুর বাবা ফজলু সরদার বলেন, রোববার (১১ মার্চ) আমার ছেলের বিয়ের দিন ধার্য্য করা ছিলো। বিয়ের বাজার-সদাই সবই করা হয়ে গেছে। কিন্তু শনিবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় মেয়েটি আমাদের বাড়িতে এসে বিয়েটা পণ্ড করে দিলো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জানে আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শুনেছি শালিস হবে। তবে শালিসের বিষয়টি আমাকে দু’পক্ষের কেউই জানায়নি।

এদিকে, এ ঘটনার পর প্রেমিক মিন্টু এলাকা থেকে গাঁঢাকা দিয়েছেন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মিন্টুর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর