,

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন সাংবাদিক

News

রাজবাড়ী : গ্রামের রাস্তার উন্নয়নে পদক্ষেপ না নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জিটিভি (গাজী টিভি) ও সারাবাংলার রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি এবং রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম-এর বার্তা সম্পাদক মো. আশিকুর রহমান।

স্ট্যাটাসটি তিনি রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি ও শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম.এ খালেক ও বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মীর্জা বদিউজ্জামান বাবুকে ট্যাগ করেছেন।

সোমবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কাদাযুক্ত রাস্তার ছবিসহ পোস্ট করা স্ট্যাটাসে সাংবাদিক আশিকুর রহমান লিখেছেন, ‘রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর বাজার থেকে বড় ভবানীপুর ফকীরপাড়া গ্রামে যাতায়াতের রাস্তা এটা। সৌভাগ্যক্রমে এই গ্রামেই আমার বাড়ি। প্রতিদিন আমি এই রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে তারপর মহাসড়কে উঠি। আমার মতো কয়েক শ’ অধম মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে কয়েক দফায় বলা হলেও, রাস্তাটির উন্নয়নে কোনো ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমাদের সম্মানিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই। আপনারা এই ছবি দেখে এখনই সিদ্ধান্ত নিন- ‘আগামী নির্বাচনে এই এলাকায় ভোট চাইতে ঢুকবেন, নাকি ঢুকবেন না’!!!’

সাংবাদিক আশিকুর রহমানের স্ট্যাটাসটির নিচে অনেকেই দু:খ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন। ** ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী বড় ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা দেওয়ান ফয়েজ লিখেছেন- ভাই মনের কথাটাই বলেছো। সহমত।

** শরিফুল ইসলাম লিখেছেন- রাস্তার কাজ শুরু করার দাবি জানাই।

** রাফেজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন- জনপ্রতিনিধরা আমাদের মনেহয় মানুষই মনে করেন না।

** মো. জিল্লুর রহমান লিখেছেন- প্রতিবেদন করেন ভাই। আমরা জয়পুর, গৌরিপুরের মানুষ এখান দিয়ে যাতায়াত করি। লুংগি, হাফ প্যান্ট ছাড়া হাটাই মুশকিল।

** রাজবাড়ী ব্যাপ্টিষ্ট চার্সের পালক জেমস হালদার লিখেছেনলজ্জা লাগে।

** সাংবাদিক কবির হোসেন লিখেছেন- সরকারের উন্নয়ন জনগণের দোরগোড়ায় পোঁছে দিতে স্থানীয় চেয়ারম্যানদের এগিয়ে আসতে হবে।

** মজিবর রহমান নামে একজন লিখেছেন- এখন ওনাদের তো জনগনের ভোট লাগেনা।

** আজিবর রহমান লিখেছেন- এটাই ডিজিটালের উন্নয়ন।

** ইমরান আল মাহমুদ রিয়াজ লিখেছেন- কিছু বলার ভাষা নাই।

** অ্যাডভোকেট তসলিম আহমেদ তপন লিখেছেন- জব্বর ভয় দেখা‌চ্ছেন ভাই। আমরা ভয় পাইনা, জনগ‌নের ভোট এখন লা‌গে না। কারণ কবর থে‌কে মৃত মানুষ এ‌সে ভোট দি‌য়ে যায়। আর তাও য‌দি না আসে, ত‌বে আমরা নি‌জেরাই কে‌টে ঢু‌কি‌য়ে দিবো।

** অ্যাডভোকেট মাসুদুল আলম লিখেছেন- ভাই ধানের চারা লাগিয়ে দেন। তাতে ধান হবে খেয়ে জীবন বাঁচবে।

** রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক বিশ্বাস লিখেছেন- আমি মনে করি বিষয়টি নিয়ে কথা হওয়া উচিৎ। অভিযোগ করাটা এভাবে ঠিক হবেনা।বসন্তপুরসহ প্রতিটি এলাকায় এই সরকারের উন্নয়ন দেখার মত। আমি রাস্তাটির উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আসুন মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আপনাদের নিয়ে কথা বলবো। আশা করি কাজটি করা যাবে। বিষয়টি উপস্থাপন করার জন্য ধন্যবাদ।

** তৃষ্ণ্না বিশ্বাস নামে একজন লিখেছেন- এখনো এমন রাস্তা আছে।

** মোহাম্মদ তালুকদার শাহীন লিখেছেন- সমস্যা কি ? এ পথে তো আর কোনো ভিআইপি চলাচল করে না।

** বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মির্জা মো. হাফিজ মাহমুদ লিখেছেন- প্রিয় আশিকুর রহমান ভাই, আপনাকে ধন্যবাদ। ভাই বসন্তপুর ইউনিয়নে অনেকগুলি রাস্তা এমত অবস্থা। তবে, এটাই আশাকরি আমাদের এই সরকারের উন্নয়নের ধারা অনুযায়ী আগামী কিছুদিনের মধ্যে এই রাস্তাগুলির উন্নয়ন হবে। ইন শা আল্লাহ্।

এ বিষয়ে সাংবাদিক আশিকুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘অনেক পুরনো এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন আমাদের গ্রামসহ আশেপাশের গ্রামের কয়েক শ’ মানুষ যাতায়াত করেন। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাটু পর্যন্ত পানি জমে যায় এবং প্রচুর কাঁদা তৈরি হয়। যে কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমেই এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী মানুষদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তাটির উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কয়েকবার স্থানীয় ইউপি সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যান এমনকি উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে পর্যন্ত বলা হয়েছে। কিন্তু, জনপ্রতিনিধিরা এই বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দেন নি।‌’

‘আর স্ট্যাটাসটি আমি সাংবাদিক হিসেবে নয়, দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিজের আক্ষেপের জায়গা থেকে দিয়েছি’- যোগ করেন আশিকুর রহমান।

এদিকে, এ বিষয়ে কথা বলতে বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মীর্জা বদিউজ্জামান বাবুর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওই রাস্তার বিষয়টি আমার মাথায় আছে। কাজটি আমি করে দিবো।’ তবে কবে নাগাদ কাজটি করা হবে তা জানাতে পারেননি ইউপি চেয়ারম্যান।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর