,

পারের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না দৌলতদিয়ায়

News

রাজবাড়ী: পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দৌলতদিয়া ঘাটে জমেছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। অপেক্ষারত যানবাহনের মধ্যে পশু বোঝাই ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও কাভার্ড ভ্যান রয়েছে।

রোববার (১৯ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাজার এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কে অপেক্ষা করছে শত শত গাড়ির চালক ও যাত্রীরা। পারের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না তাদের।

যাত্রীবাহী বাসের চালকরা জানান, তারা অনেকে মধ্যরাত বা ভোরের দিকে দৌলতদিয়া প্রান্তে এসে আটকা পড়েছেন। প্রচণ্ড গরমে যাত্রী ও তারা অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছেন। এদিকে নদী পারের আপেক্ষায় আটকে থেকে সময়মতো ঢাকায় পৌঁছতে পারছে না গাড়িগুলো। ফলে ঢাকা থেকে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

গরুর বেপারীরা জানান, লাখ লাখ টাকার গরু নিয়ে তারা একটু লাভের আশায় ঢাকায় যাচ্ছেন। কিন্তু দৌলতদিয়া প্রান্তে এসে ফেরির জন্য এই গরমে গরু নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। ফলে গরুগুলোও গরমে কষ্ট পাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি গরু মারাও গেছে। পশুবাহী গাড়ির সিরিয়াল আগে দিলেও অপেক্ষার যেন শেষ নেই।

বিআইডাব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শফিকুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ছোট-বড় ২০টি ফেরি চলাচল করছে। দৌলতদিয়া পাড়ে ছয়টি ঘাটের মধ্যে পাঁচটি সচল রয়েছে। তবে নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি ধীর গতিতে চলছে।

নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে পাটুরিয়া থেকে ফেরি ছেড়ে আসতে সময় দ্বিগুণ লাগছে। এতে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। ফলে দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। এছাড়া রাজধানীমুখি পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের চাপ একসঙ্গে বৃদ্ধি পাওয়ায় দৌলতদিয়া প্রান্তে যানবাহনকে সিরিয়ালে থাকতে হচ্ছে, বলেও জানান ‍ তিনি।

গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস পারাপার করা হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীদের নিরাপত্তায় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার প্রায় ১৯টি পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর