,

সর্বশেষ :
সুষ্ঠু নির্বাচন হলে রাজবাড়ী-১ আসন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবো : অ্যাড. খালেক রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাড. আসলাম মিয়ার গণসংযোগ রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন ইমদাদুল হক বিশ্বাস রাজবাড়ীতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন রাজবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন আশরাফুল ইসলাম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম নিলেন মিল্টন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে শান্তি পৌঁছে দেওয়া হবে : রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার রাজবাড়ীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চরমপন্থি নেতা নিহত রাজবাড়ীতে বিএনপি’র ২৭ নেতাকর্মী কারাগারে

রাজবাড়ীতে ‘ফোর মার্ডারের’ রহস্য উদঘাটন

News
ছবিতে ওপরে বামে হত্যার শিকার হাজেরা বেগম (৪৮) ও ডানে আদুরী আক্তার লিমা (২৫) এবং নিচে শাহিদা বেগম (৪৫) ও তার নাতনী লামিয়া আক্তার (৭)।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ১৫ দিনের ব্যবধানে তিন নারী ও এক শিশুকে গলাকেটে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ বিষয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি।

সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, আগস্ট মাসে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাশাপাশি তিনটি ইউনিয়নে (মুলঘর, আলীপুর ও বানীবহ) ১৫ দিনের ব্যবধানে তিন নারী ও এক শিশুকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর থেকে ওইসব এলাকায় নানা ধরণের গুজব ছড়াতে থাকে। শুরুতে পুলিশ বিষয়টি আমল না দেওয়ায় গুজব ডালপালা মেলে আরও ছড়িয়ে যায়। অনেকেই গলাকাটা আতঙ্কে এলাকায় পাহারা দিতে শুরু করে। অবশেষে আমরা হত্যাগুলোর রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, গত ১৬ আগস্ট দিনগত রাতে সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামে হাজেরা বেগম (৪৮) নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী তমিজউদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে রাজবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। একমাস ধরে এই হত্যা মামলা তদন্ত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অবশেষে তদন্তে আমরা জানতে পারি ওই গৃহবধূর ছেলে হাফিজুল প্রবাসে থাকেন। হাফিজুলের স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে (২৫) অনেক ভালোবাসতেন তার মা হাজেরা বেগম। এ কারণে হাজেরা মাঝেমধ্যেই ছেলের বউয়ের কাছে ঘুমাতেন। কিন্তু, ছেলের বউ স্বপ্নার পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো স্থানীয় সোহেল মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে। ঘটনার দিন রাতে সোহেল তার সহযোগী কবির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে স্বপ্নার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হতে আসে। এসময় স্বপ্না ও তার চার বছর বয়সী ছেলে সানী এবং শ্বাশুড়ি হাজেরা একই বিছানায় শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে ছেলের বউয়ের পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলেন হাজেরা। আর এতেই সোহেল, কবির ও স্বপ্না মিলে গলাকেটে হত্যা করে হাজেরাকে। শুধু তাই নয়, কেউ যাতে স্বপ্নাকে সন্দেহ করতে না পারে এ জন্য সোহেল স্বপ্নার দুই হাতে কোপ দিয়ে জখম করে দিয়ে যায়।

রাজবাড়ীতে ‘ফোর মার্ডারের’ বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন জেলা পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি। ছবি- আশিকুর রহমান।

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরদিন সকালে হাজেরার মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি তার ছেলের বউ স্বপ্নাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ওইসময় মিথ্যা নাটক সাজিয়ে স্বপ্না জানান, ওইদিন রাতে খাবার খেয়ে সে তার ছেলেসহ শাশুড়ি একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখতে পান ঘরের আলো নেভানো এবং তার শাশুড়ির শরীরে রক্ত। এসময় তিনি চিৎকার দিলে পাশের ঘরে থাকা শ্বশুড়সহ অন্যান্যরা ছুটে এসে দেখেন হাজেরা বেগমের গলাকাটা লাশটি খাটের উপর পড়ে আছে। কিন্তু, গত ৭ সেপ্টেম্বর হত্যার মূল হোতা সোহেল ও তার সহযোগী কবিরকে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। পরে শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের শ্বাশুড়িকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন স্বপ্না।

বারবাকপুরে গৃহবধূ হাজেরা বেগমকে হত্যাকারী সোহেল, কবির ও স্বপ্না। ছবি- রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম।

এর আগে ৭ আগস্ট দিনগত রাতে সদর উপজেলার বানীবহ ইউনিয়নের আটদাপুনিয়া গ্রামে নিজ বসত ঘরে দুই সন্তানের জননী গৃহবধু আদুরী আক্তার লিমা (২৫) কে গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পরদিন গত ৮ আগস্ট নিহতের স্বামী রড মিস্ত্রি মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে রাজবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ হত্যার বিষয়ে পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, পিলার থেকে ম্যাগনেট সংগ্রহ চক্রের সদস্য ছিলেন আদুরী বেগম। তার আপন দুই দেবর এবং এক ফুফাতো দেবরও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই ম্যাগনেট ব্যবসার দ্বন্দের কারণেই তিন দেবর মিলে গলাকেটে হত্যা করে আদুরীকে। আদুরীর তিন দেবর বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। তারা পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

এছাড়া, গত ২ আগস্ট দিনগত রাতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মুলঘর ইউনিয়নের পশ্চিম মুলঘর গ্রামে দাদী শাহিদা বেগম (৪৫) ও নাতনী লামিয়া আক্তার (৭) কে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। জোড়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৩ আগস্ট নিহত শিশু লামিয়ার বাবা গার্মেন্টেস কর্মী শহিদুল ইসলাম (৩২) বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ হত্যার বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, দাদি-নাতনি হত্যার ঘটনায় আসামি গ্রেফতার রয়েছে। এ হত্যার রহস্যটিও আমরা ইতোমধ্যে উদঘাটন করেছি। কিন্তু, আমাদের কিছু টেকনিক্যাল বিষয় আছে। আশাকরছি ওই বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে শিগগিরই এ হত্যার বিষয়ে আপনাদের জানাতে পারবো।

সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি ছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাকিব খাঁন, সিনিয়ন সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) মো. ফজলুল করিম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন ভূইয়া ও পরিদর্শক মো. জিয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম/ আশিক

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর