,

কালুখালীতে ব্রিজের অভাবে দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

News

কালুখালী : রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় ২৫টি গ্রামকে উপজেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে পদ্মা নদীর ছোট একটি শাখা। পদ্মার এই শাখাটি স্থানীয়দের কাছে নদীর কোল হিসেবে পরিচিত। এখানে একটি বাঁশের সাঁকো থাকলেও ব্রিজের অভাবে বছরের পর বছর যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে গ্রামগুলোর প্রায় ২০ হাজার মানুষ। শুকনো মৌসুমে কষ্ট করে যাতায়াত করতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের শেষ থাকে না এসব গ্রামের মানুষের। এসময় অনেক শিক্ষার্থীর স্কুল-কলেজে যাতায়াতও বন্ধ হয়ে যায়।

সরেজমিনে জানা গেছে, রতনদিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলে পশ্চিম হারুয়া, মাধবপুর, কামিয়া, হরিনবাড়ীয়া, কৃষ্ণনগর ও বাঘলপুরসহ প্রায় ২৫টি গ্রামে ২০ হাজার মানুষ বসবাস করে। কিন্তু এই গ্রামগুলোকে উপজেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে পদ্মা নদীর ছোট্ট একটি শাখা। শাখাটি স্থানীয়দের কাছে নদীর কোল হিসেবে পরিচিত। এসব গ্রামের অধিকাংশ মানুষ যাতায়াত করেন গঙ্গারামপুর হিরু মোল্লার ঘাট দিয়ে। এই ঘাটে রয়েছে এসব গ্রামগুলোর সঙ্গে উপজেলা শহরের সংযোগ স্থাপনকারী প্রায় ১০০মিটার লম্বা একটি বাঁশের সাঁকো। শুকনো মৌসুমে সবার ভরসা এই সাঁকো। শুধু মানুষই নয় মোটরসাইকেলসহ রিকশা ও ভ্যানের ভরসাও এই সাঁকো। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায় এটি দিয়েই।

তবে পরিস্থিতি পাল্টে যায় বর্ষা মৌসুমে। পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়তে থাকে এই নদীর কোলের পানিও। ফলে একাংশ তলিয়ে গিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় এই সাকোঁ দিয়ে। তখন এ অঞ্চলের মানুষ স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও হাট-বাজারে যাতায়াত করেন খেয়া নৌকা দিয়ে।

স্থানীয় বৃদ্ধ মোহন মিয়া বলেন, বছরের পর বছর তারা এভাবে যাতায়াত করে আসছেন। আগে এই সাঁকোও ছিল না। শুকনো মৌসুমে কোলের (নদীর) তলদেশ দিয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতের কোন সুযোগ থাকে না। তিনি বলেন, এই ঘাট দিয়ে একটি ব্রিজ হলে এসব অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমতো।

আলামিন হোসেন নামে এক ছাত্র বলেন, সাঁকোর ওপর দিয়ে পানি উঠে গিয়ে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে গেছে। তাই আমরা স্কুল কলেজে যেতে পারছি না।

রতনদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লতিফ মোল্লা বলেন, ‘চরাঞ্চলের প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষের চলাচল এই সাঁকো দিয়ে। পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে এই নদীর কোলের পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে সাঁকোটির কিছু অংশ। ফলে এই সাঁকো দিয়ে মানুষ এখন আর চলাচল করতে পারছে না। বিকল্প হিসেবে খেয়া নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে মানুষ। কিন্তু মাত্র একটি খেয়া নৌকা থাকায় সেখানেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মেহেদী হাসিনা পারভীন বলেন, ‘চার বছর আগে উপজেলা পরিষদ এই সাঁকোটি নির্মাণ করে দেয়। পরবর্তীতে আমি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দুই লাখ টাকা ব্যয়ে সাঁকোটি সংস্কার করে দিয়েছি। শুকনো মৌসুমে এই সাঁকোর ওপর দিয়ে মানুষ চলাচল করে। এখন সাঁকোর ওপর দিয়ে বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় সেটি চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে গেছে। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে এসব অঞ্চলের মানুষ।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর