,

রাজবাড়ীতে এসআই-এর পা ধরে মাফ চেয়ে রক্ষা পেল কথিত সাংবাদিক রিজু

News
কথিত সাংবাদিক রিজু।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুরে ভোটার স্মাট কার্ড বিতরণী কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও পুলিশের এক এসআই’কে শারীরীকভাবে লাঞ্ছিত করেছে রেজাউল করিম রিজু (৪৭) নামে এক কথিত সাংবাদিক। ওই ঘটনার পর লাঞ্ছিত হওয়া সেই এসআই-এর পা ধরে মাফ চেয়ে মুচলেকা দিয়ে এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছে রিজু।

রিজু রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের গাজিপাড়া গ্রামের মৃত শেখ তমিজ উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদাবাজী ও দৌলতদিয়া পতিতালয়ে পতিতা ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে।

খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেজবা বলেন, বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে খানখানাপুর সুরাজ মোহেনী ইনস্টিটিউটে ভোটার স্মাট কার্ড বিতরণ করা হয়। সেখানে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে এজন্য আমি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দায়িত্ব পালন করছিলাম। সে সময় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে রিজু লাইন ভেঙ্গে তার খেয়াল খুশি মতো স্লিপ সংগ্রহ করে ভেতরে লোক ঢুকাচ্ছিলো । আমি রিজুকে এমন বিশৃঙ্খলা করতে নিষেধ করলে সে আমার শরীরে আঘাত করে। পরে তাকে আটক করে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।

খানখানাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আমার সামনেই রিজু আমার অফিসারকে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে আটক করে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। তদন্ত কেন্দ্রে আনার পর রিজু আমার হাতে-পায়ে ধরে মুক্তি চায়। কিন্তু, আমি বিষয়টি আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাই এবং তাকে থানায় নিয়ে যাই।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, কয়েকদিন আগে রিজু খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আরেকজন এএসআই নুরুজ্জামানের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে। যে কারণে সে সময় তার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তার পরেও সে সংশোধন হয়নি। সে পুনরায় এসআই মেজবা’র সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে তাকে আটক করা হয়। পরে সে এসআই মেজবা’র পা জড়িয়ে ধরে অনেক কান্নাকাটি ও ক্ষমাপ্রার্থনা করে। শেষে ভবিষ্যতে সে আর এই ধরণের কাজ করবে না মর্মে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর আর যদি সে পুলিশ অথবা সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটনায় তা হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে খানখানাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম লাল বলেন, রিজু কোন পত্রিকার সাংবাদিক তা আমি জানি না। সে খানখানাপুর বাজারের একাধিক সুদি সমিতি’র নিয়ন্ত্রক, পত্রিকার এজেন্ট এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তবে সে বিশাল বড় একজন সাংবাদিক হিসেবে সব সময় নিজেকে জাহির করে। তাকে গত বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় আমি ও সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন সেখানে উপস্থিত ছিলাম। সে সময় রিজু পুলিশ সুপারের কাছে তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং এসআই মেজবা’র পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করে। কান্নাকাটি দেখে এক পর্যায়ে আমি রিজু’র পক্ষ হয়ে তাকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করি। পরে মুচলেকা দিয়ে রিজুকে ছাড়িয়ে আনা হয়।

তিনি আরও বলেন, রিজুর কারণে আমার সম্মানের ব্যাপক হানি হয়েছে। রিজু আর সাংবাদিকতা এবং মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করবে না মর্মে অঙ্গীকার করেছে।

এদিকে এ বিষয়ে কথা বলতে রিজুর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ছেলে মেহেদী হাসানের ফোনটি খোলা পাওয়া যায়। মেহেদী জানায়, ভোটার স্মাট কার্ড বিতরণী কার্যক্রম চলাকালে তার বাবার সঙ্গে পুলিশের কথাকাটাকাটি হয়। যে কারণে পুলিশ তার বাবাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ তার বাবাকে ছেড়ে দেয়। তার বাবা খানখানাপুরের একাধিক সুদি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলেও সে জানায়।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর