,

সর্বশেষ :
রাজবাড়ী জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন রাজবাড়ীর ২ টি আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন খালেক-আসলাম-হারুন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে রাজবাড়ী-১ আসন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবো : অ্যাড. খালেক রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাড. আসলাম মিয়ার গণসংযোগ রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন ইমদাদুল হক বিশ্বাস রাজবাড়ীতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন রাজবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন আশরাফুল ইসলাম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম নিলেন মিল্টন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে শান্তি পৌঁছে দেওয়া হবে : রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার

হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বসন্তপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সেক্রেটারী মান্নানের বিরুদ্ধে জিডি

News

রাজবাড়ী : হুমকি দেওয়ার অভিযোগে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মিয়ার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এক কৃষক।

বুধবার (১৭ অক্টোবর) খানখানাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে এই জিডি করা হয়। জিডি নম্বর- ৪১১। জিডিতে মান্নান মিয়া ছাড়াও নুর ইসলাম মোল্লা ও ইমান মোল্লা নামে দুইজনের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

জিডি করা ওই কৃষকের নাম মো. আবু হায়াত মোল্লা (৫২)। তিনি বসন্তপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত ছাদেক আলী মোল্লার ছেলে।

কৃষক আবু হায়াত বলেন, ‘আমার চাচাতো ভাই নুর ইসলাম মোল্লা ও ইমান মোল্লার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমার জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ বিষয়ে আদালতে আমাদের উভয় পক্ষের তিনটি মামলা চলমান রয়েছে। সম্প্রতি এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি আমাকে বলে, ‘নিজেদের মধ্যে জমি নিয়ে আর কতোদিন বিরোধ করবে, আসো আমরা ঝামেলাটি মিটিয়ে দেই।’ আমি তাদের কথায় সম্মতি জ্ঞাপন করি। এরপর তারা আমার চাচাতো ভাই নুর ইসলামের সঙ্গে কথা বললে সে জানায় দেড় লাখ টাকা পেলে সে তাদের দু’টি মামলা তুলে নিবে এবং জমি নিয়ে তারা আর কোনো বিরোধে যাবে না। আমিও চিন্তা-ভাবনা করে দেখি যে নিজেদের ভেতর জমিজমা নিয়ে আর কোনো বিরোধ রাখবো না। এ কারণে আমি স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে লিখিত দলিল করে নুর ইসলামকে দেড় লাখ টাকা দিই। কিন্তু বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও নুর ইসলাম মামলা উঠায় না। যাদের মাধ্যমে আমি নুর ইসলামকে টাকা দিই বিষয়টি আমি তাদের বলি। তারা গত ১৫ অক্টোবর নুর ইসলামের বাড়িতে শালিসের আয়োজন করে। বসন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মিয়ার নেতৃত্বে শালিসে বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মীর্জা বদিউজ্জামান বাবুসহ গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

শালিসে মান্নান মিয়াসহ অন্যান্য শালিসদারগণ আমাকে বলে ‘আমি নুর ইসলামকে দুই লাখ ৬০ হাজার দিলে তবে নুর ইসলাম মামলা তুলে নিবে’। আমি এই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে জানাই, ‘আমি এতো টাকা দিতে পারবো না। মামলা চলুক, যা হবার আদালতে হবে।’ এসময় মান্নান মিয়া আমাকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘এই শালিস না মানলে, কিভাবে শালিস মানাতে হয় সেই ব্যবস্থা তার কাছে আছে।’ এছাড়াও মান্নান মিয়া, নুর ইসলাম ও তার ভাই ইমান আমার জমি দখলসহ আমাকে দেখাইয়া দিবে বলে হুমকি দেয়।

আবু হায়াত বলেন, এই জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয় নিয়ে মান্নান মিয়া নুর ইসলামের পক্ষ নিয়ে ৩-৪ বছর আগে আমাকে মারধর করে। তার পেশাই হচ্ছে অবৈধ শালিসের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা খাওয়া। এইসব ঘটনা উল্লেখ করে ১৭ অক্টোবর আমি খানখানাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে একটি জিডি করেছি। জিডি নম্বর- ৪১১।

এ বিষয়ে বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মীর্জা বদিউজ্জামান বাবু বলেন, ‘আমি শালিসে উপস্থিত ছিলাম, মান্নান মিয়াও ছিলেন। কৃষক আবু হায়াত শালিস না মানলে আমাদের কিছুই করার নেই। শালিস না মানার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা তার আছে।’

তবে মান্নান মিয়া কর্তৃক আবু হায়াতকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি ইউপি চেয়ারম্যান মীর্জা বাবু।

এ বিষয়ে কথা বলতে মান্নান মিয়ার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘শালিসে আমি ছাড়াও বসন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আমি সেখানে কাউকে কোনো হুমকি দেইনি। আমার বিরুদ্ধে কেনো জিডি হবে।’

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর