,

সর্বশেষ :
রাজবাড়ী জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন রাজবাড়ীর ২ টি আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন খালেক-আসলাম-হারুন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে রাজবাড়ী-১ আসন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবো : অ্যাড. খালেক রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাড. আসলাম মিয়ার গণসংযোগ রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন ইমদাদুল হক বিশ্বাস রাজবাড়ীতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন রাজবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন আশরাফুল ইসলাম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম নিলেন মিল্টন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে শান্তি পৌঁছে দেওয়া হবে : রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার

জোর করে পদে থাকতে চান মুনছুর আলী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ!

News

বালিয়াকান্দি : অধ্যক্ষের বয়স ৬৫ পেরিয়েছে। চাকরির বয়স শেষ হয়েছে আরও সাড়ে পাঁচ বছর আগে। এরপর চার বছরের এক্সটেনশনের মেয়াদও শেষ হয়েছে দেড় বছর হলো। চাকরিবিধি অনুসারে এখন তার অবসরে থাকার কথা। কিন্তু পদ ছাড়তে রাজি নন তিনি। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তার স্বামী এবং সদস্য পদে ঘনিষ্ঠজনরা। তাই তাদের সহায়তায় তিনি নানা কৌঁশলে জোর করে ধরে রেখেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদ।

এমন অভিযোগ উঠেছে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের মুনছুর আলী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নূরুন নাহারের বিরুদ্ধে। অধ্যক্ষের এমন স্বেচ্ছাচারিতায় কলেজটির শিক্ষার মান দিন দিন কমতে বসেছে। ভয়ে কেও সামনে কথা বলার সাহস না পেলেও চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে সেখানকার ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৯৯৭ সালের ৪ আগস্ট মুনছুর আলী ডিগ্রী কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান নূরুন নাহার। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি স্বাভাবিক অবসরে যান। এরপর কলেজ পরিচালনা কমিটি তাকে তিন দফায় চার বছরের এক্সটেনশন বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন। এই এক্সটেনশনের মেয়াদ শেষ হয় ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর আবারও এক্সটেনশন পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন নূরুন নাহার। তারই ধারাবাহিকতায় কলেজ পরিচালনা কমিটি তাকে এক্সটেনশন দেওয়ার জন্য আবারও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সেই আবেদনটি নাকচ করে দিয়ে চলতি বছরের ২২ মার্চ কলেজ পরিচলনা কমিটির সভাপতি বরাবর একটি চিঠি দেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক ড. মো. মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘অত্র কলেজের অধ্যক্ষ জনাব নূরুন নাহার-এর পুনঃনিয়োগের আবেদন সার্বিক বিবেচনায় অনুমোদন করা হলো না। এমতাবস্থায়, বিধি মোতাবেক অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণপূর্বক বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহিত করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো।’

কিন্তু, ওই চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগের পদক্ষেপ না নিয়ে নূরুন নাহারের এক্সটেনশনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও আবেদন করে কলেজ পরিচালনা কমিটি। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন হচ্ছেন অধ্যক্ষ নূরুন নাহারের স্বামী। এছাড়া বাকী সদস্যদের মধ্যে বেশিরভাগই অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠজন। যে কারণে সকলে মিলে যোগসাজস করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বার বার নূরুন নাহারকে এক্সটেনশন দেওয়ার জন্য পাঁয়তারা করছেন।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, ‘অধ্যক্ষ নূরুন নাহারের দুই মেয়েসহ পরিবারের আরও কিছু লোকজন আমেরিকায় থাকেন। যে কারণে এক্সটেনশনে থাকা চার বছরের মধ্যে তিন বছরের অধিক সময় তিনি আমেরিকায় কাটিয়েছেন। এখনও নূরন নাহার নিজের ইচ্ছামতো ছুটি নিয়ে প্রায় পাঁস মাস ধরে আমেরিকায় বসবাস করছেন। অথচ এদিকে কলেজের শিক্ষার মান দিন দিন কমে আসছে। তারপরেও পদ ছাড়তে নারাজ নূরুন নাহার। শিগগিরই তাকে অধ্যক্ষের পদ থেকে অপসারনের দাবি জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মচারীরা।’

বর্তমানে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন উপাধ্যক্ষ মো. হারুন-অর-রশিদ। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ‘এইচএসসি’তে কলেজে ২০১৪ সালে পাসের হার ছিলো ৯০ শতাংশ। এরপর থেকেই অধ্যক্ষ নূরুন নাহারের অনুপস্থিতির কারণে কমে আসতে শুরু করে পাসের হার। ২০১৫ সালে পাসের হার নেমে আসে ৪৬ শতাংশে। ১৬ সালে ৪৫ শতাংশে। ১৭ সলে ৫১ ও ১৮ সালে ৫৬ শতাংশে নেমে আসে পাসের হার।’

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় চলতি বছরের ১২ জুন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজে) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা জারি করেন। ওই নীতিমালা বলা হয়েছে, কর্মরত শিক্ষকদের বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহ. প্রধান, শিক্ষক-কর্মচারীকে কোন অবস্থাতেই পুনঃনিয়োগ কিংবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। অথচ এই নীতিমালা লক্সঘন করে কলেজের অধ্যক্ষের পদটি দখল করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন নূরুন নাহার।

অধ্যক্ষ নুরুন নাহার আমেরিকায় থাকায় এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার স্বামী কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ক্ষুব্ধ কন্ঠে তিনি বলেন, ‘কিভাবে প্রিন্সিপাল থাকবে না থাকবে সেটা ম্যানেজিং কমিটি ভালো জানে এবং বোঝে। আপনারা কেন আসবেন আমাদের এই বিষয় নিয়ে। বুঝলাম আপনারা সাংবাদিক, কিন্তু আপনারা কেন আসবেন। আপনারা যেটা ভালো বোঝেন করবেন। আপনারা রিপোর্ট করে দেন।’ এ কথা বলেই মোবাইলের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম রেজা বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। এই প্রথম আপনার কাছ থেকে জানলাম। খোঁজ-খবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর