,

সর্বশেষ :
রাজবাড়ী জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন রাজবাড়ীর ২ টি আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন খালেক-আসলাম-হারুন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে রাজবাড়ী-১ আসন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবো : অ্যাড. খালেক রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাড. আসলাম মিয়ার গণসংযোগ রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন ইমদাদুল হক বিশ্বাস রাজবাড়ীতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন রাজবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন আশরাফুল ইসলাম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম নিলেন মিল্টন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে শান্তি পৌঁছে দেওয়া হবে : রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার

শিপন দুই পা ধরে রাখে, বক্কার শ্বাসরোধে শাকিলকে হত্যা করে

News
হত্যার শিকার শাকিল মৃধার মরদেহ। ইনসেটে হত্যাকারী বক্কার ও শিপন।

বালিয়াকান্দি : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের পোটরা গ্রাম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের দুই মাস পর ওই যুবকের পরিচয় ও হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) ওই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

হত্যার শিকার ওই যুবকের নাম শাকিল মৃধা (২৩)। তিনি ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামের আফজালের মৃধার ছেলে। হত্যাকারী দু’জন হলেন- বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামের আকমল শেখের ছেলে বক্কার শেখ (২৫) ও বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের অভয়নগর গ্রামের আক্কাস শেখের ছেলে শিপন শেখ (২৫)।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বালিয়াকান্দি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কায়সার হামিদ জানান, গত ২৮ আগষ্ট সকালে জঙ্গল ইউনিয়নের পোটরা গ্রামের সুভাষ মন্ডলের ধানক্ষেতের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যু্‌বকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী মর্গে পাঠানো হয়। লাশের কোন পরিচয় না পাওয়ায় আঞ্জুমান-ই-মফিদুল ইসলাম দাফন করে। এ ব্যাপারে অজ্ঞাত আসামি করে বালিয়াকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। দুই মাস পেরোলেও এ হত্যার কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছিলো না। সোর্সের মাধ্যমে হঠাৎ খবর পাওয়া যায় জঙ্গল ইউনিয়নের অভয়নগর গ্রামের আক্কাস শেখের ছেলে শিপন শেখ এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানে। সোমবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে জঙ্গল বাজার থেকে শিপনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায়, সে ও তার চাচাতো শ্যালক ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামের বক্কার মিলে ওই যুবককে হত্যা করেছে। হত্যার শিকার ওই যুবকের নাম শাকিল মৃধা। এরপর শিপনের দেওয়া তথ্যমতে ওই রাতেই বক্কারকে জঙ্গল ইউনিয়নের একটি গরুর ফার্ম থেকে আটক করা হয়। শিপনের বাবার সহযোগীতায় পরিচয় গোপন করে বক্কার ওই গরুর ফার্মে ঘাস কাটার কাজ করছিলো। এরপর মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু হাসান খায়রুল্লাহ’র কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

জবানবন্দিতে তারা জানায়, বক্কার বাড়িতে না থাকায় তার স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই গল্প করতো ফল ব্যবসায়ী শাকিল। হঠাৎ একদিন দুপুরে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে শাকিলকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে বক্কার। তখনই বক্কার পরিকল্পনা করে যে সে শাকিলকে হত্যা করবে। এ পরিকল্পনার কথা সে তার চাচাতো দুলাভাই শিপনকে জানায়।

২৭ আগস্ট শাকিলকে দিয়ে স্থানীয় আজিজার শেখের মোটর সাইকেল ভাড়া করায় বক্কার। তখন সে শাকিলকে বলে যে মোটরসাইকেলে করে বালিয়াকান্দিতে তার দুলাভাই শিপনের বাড়িতে টাকা নিতে আসবে। শাকিলও সরল মনে মোটরসাইকেল নিয়ে বক্কারের সঙ্গে বালিয়াকান্দির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শিপন রাস্তাতেই অপেক্ষা করছিলো। রাস্তায় দেখা হওয়ার পর শিপনও মোটরসাইকেলে ওঠে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে তারা তিনজন মিলে আসে বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানি মোড়ে। সেখানে তারা তিনজন চা পান করে। এদিকে শিপন পরিকল্পনা আটে শাকিলকে শেষ করে মোটরসাইকেলটি হাতিয়ে নিবে। এ অনুযায়ী সে আগে থেকেই ঘুমের ট্যাবলেট কিনে রাখে। ঢোলজানি বাজারের দোকান থেকে সে দু’টি জুস কিনে একটি জুসের মধ্যে ঘুমের ট্যাবলেট মিশায়। এরপর তারা চলে যায় পোটরা গ্রামে। সেখানে প্রসাব করবে বলে বক্কার মোটরসাইকেল থেকে নামে। প্র্রসাব শেষে ঘুমের ট্যাবলেট মেশানো জুসটি তারা শাকিলকে খাওয়ায়। অপরটি বক্কার ও শিপন খায়। পরে রাস্তার পাশে নিয়ে তারা শাকিলকে হত্যার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তিতে শাকিলের লুঙ্গি ও পায়ের সেন্ডেল খুলে যায়। পরে শিপন শাকিলের দুই পা ধরে রাখে, আর বক্কার গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে শাকিলের মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তারা শাকিলের লাশটি স্থানীয় একটি ধানক্ষেতের পাশে খালের পানির ভেতর রেখে প্লাটিনা মোটরসাইকেলটি নিয়ে চলে যায়। পরে ধরা খাওয়ার ভয়ে তারা মোটরসাইকেলটি পাংশার কসবামাঝাইল এলাকায় হাওর নদীতে ফেলে দেয়। আর শিপনের বাবার সহযোগীতায় পরিচয় গোপন করে বক্কার জঙ্গল ইউনিয়নের একটি গরুর ফার্মে ঘাস কাটার কাজ নেয়।

এসআই কায়সার হামিদ আরও বলেন, কসবামাঝাইলে নদীর পানি শুকিয়ে গেলে সেখান থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় ফাঁড়ির পুলিশ শাকিলকে হত্যার সময় ব্যাবহৃত প্লাটিনা মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) সেটি আমরা আমাদের হেফাজতে নিই।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) মো. ফজলুল করিম ও বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদার দিকনির্দেশনায় এই হত্যার রহস্য উদঘাটনে বালিয়াকান্দি থানার এসআই অংকুর ভট্টাচার্য, এসআই দীপন মণ্ডল, এসআই হিরণ কুমার বিশ্বাস, এএসআই আজিজ ও এএসআই সোহেলসহ সঙ্গীয় ফোর্সরা তাকে সহযোগিতা করেন বলে জানান এসআই কায়সার হামিদ।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর