,

সর্বশেষ :
রাজবাড়ী জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন রাজবাড়ীর ২ টি আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন খালেক-আসলাম-হারুন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে রাজবাড়ী-১ আসন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবো : অ্যাড. খালেক রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাড. আসলাম মিয়ার গণসংযোগ রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন ইমদাদুল হক বিশ্বাস রাজবাড়ীতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন রাজবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন আশরাফুল ইসলাম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম নিলেন মিল্টন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে শান্তি পৌঁছে দেওয়া হবে : রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার

রাজবাড়ীর উড়াকান্দায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে জখম

News
মাথায় পাঁচ সেলাই নিয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যবসায়ী আনোয়ার। ছবি- রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম।

রাজবাড়ী : পদ্মা নদীতে বালির ট্রলার থেকে টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে বিরোধে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা চৌরাস্তা মোড় বাজারে আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীকে মারপিট করে মাথা ফাটিয়েছেন প্রতিপক্ষ। আহত আনোয়ার মাথায় পাঁচটি সেলাই নিয়ে বর্তমানে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত ৩০ অক্টোবর দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আনোয়ারের অভিযোগ, তাকে মারপিট করার পর প্রতিপক্ষের লোকজন বরাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে উল্টো তাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করছে। এ ঘটনায় আহত আনোয়ারের বাবা বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আনোয়ার বরাট ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর গ্রামের শাজাহান শেখের ছেলে। উড়াকান্দা চৌরাস্তা মোড় বাজারে ‘মা টেলিকম’ নামে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০১ নভেম্বর) দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আনোয়ার বলেন, ‘পাবনা থেকে আসা বালির ট্রলারগুলো উড়াকান্দা বাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে এলে সেখান থেকে ‘রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া-পাবনা নৌকা মালিক সমিতির’ পক্ষ থেকে ট্রলার প্রতি ১০০ টাকা করে তোলা হয়। বিনিময়ে ট্রলারের চালকদের পদ্মায় চলাচলের জন্য দিক-নির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। ‘রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া-পাবনা নৌকা মালিক সমিতি’ আমাকে ও স্থানীয় অহেদকে এই টাকা তোলার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের সহযোগি মিলন নৌকা নিয়ে এই কাজটি করে।’

গত ২৮ অক্টোবর উড়াকান্দার স্থানীয় মুরাদ, আলম ও মজনু মিলনের নৌকায় গিয়ে বালির ট্রলার থেকে ৫০০ টাকা তুলে নিয়ে আসে। মিলন বাঁধা দিতে গেলে তারা মিলনকে গালাগালি করে। এর একদিন পর ৩০ অক্টোবর স্থানীয় জিয়া, মহাই ও জিন্নাত গিয়ে একইভাবে বালির ট্রলার থেকে ২০০ টাকা নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ওইদিন দুপুরেই আমি উড়াকান্দা বাজারে জিয়াকে জিজ্ঞেস করি কেন সে বালির ট্রলার থেকে টাকা এনেছে। এক পর্যায়ে জিয়ার ও আমার মধ্যে কিছু কথা কাটাকাটি হয়। এরপর আমি উড়াকান্দা বাজারের মুঞ্জুর দোকানের সামনে গিয়ে বসা মাত্রই স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা সবুজ গিয়ে আমাকে মারপিট শুরু করে। পরে জিয়া, জিন্নাত, মহাই, মুরাদ, আলম, মজনুসহ তাদের অন্যান্য লোকজন চারপাশ থেকে আমাকে ঘিরে ধরে লোহার রড ও কাঠের চলা দিয়ে বেধরক মারপিট করে। পরে আমি দৌঁড়ে গিয়ে উড়াকান্দা চৌরাস্তা মোড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ওষুধের দোকানদার শামীমের দোকানে গিয়ে উঠি। এসময় স্থানীয় লোকজন দিয়ে শামীম আমাকে দ্রুত রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠান। হাসপতালে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার মাথায় পাঁচটি সেলাই দেন। পরে আমি জানতে পারি যে উড়াকান্দা চৌরাস্তা মোড় বাজারে অবস্থিত বরাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে আমার দোষ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাকে মারপিট করার কারণে আমি মামলা করবো জেনে জিয়া ও তার দলবল আওয়ামী লীগের অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে উল্টো আমাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করছে। আমি যুবলীগের একজন কর্মী। আওয়ামী লীগের অফিস ভাংচুরের কথা আমার মাথায়ও আসবে না কখনো।

রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া-পাবনা নৌকা মালিক সমিতির সভাপতি মো. তাঁদু খাঁ’র ছেলে তাজু খাঁ বলেন, পাবনা থেকে আসা বালির ট্রলারগুলো উড়াকান্দা বাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে এলে ট্রলারের চালকদের পদ্মায় চলাচলের জন্য দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য ‘রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া-পাবনা নৌকা মালিক সমিতির’ পক্ষ থেকে আনোয়ার ও অহেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিনিময়ে ট্রলার প্রতি ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। কিন্তু জিয়াসহ কয়েকজন লোক জোড়পূর্বক ট্রলার থেকে টাকা তুলতে গেলে আনোয়ার তাদের নিষেধ করে। পরে তারা আনোয়ারকে মারপিট করে মাথা ফাটিয়ে দেয়।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে উড়াকান্দা চৌরাস্তামোড় এলাকার কয়েকজন বলেন, ‘ট্রলার থেকে টাকা তোলাকে কেন্দ্র দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এতে আনোয়ারের মাথা ফেটে গেছে। পরে জিয়া ও তার গ্রুপের লোকজন নিজেদের পার্টি অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে ঘটনাটি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।‘

বরাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসজাদ হোসেন আরজু বলেন, ‘রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া-পাবনা নৌকা মালিক সমিতির পক্ষে আনোয়ার ও অহেদ উড়াকান্দা এলাকায় বালির ট্রলার থেকে টাকা তোলেন। কিন্তু কয়েকদিন ধরে জিয়াসহ কয়েকজন সেখান থেকে জোড় করে টাকা তুলতে যায়। আনোয়ার তাদের নিষেধ করলে তারা আনোয়ারকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয়। এ নিয়ে মামলা হবে জেনে বরাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দিন শেখের ইন্ধনে জিয়ারা তাদের পার্টি অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে নাটক সাজিয়েছে। আনোয়ার যুবলীগের একজন কর্মী। উড়াকান্দা চৌরাস্তা মোড় বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস ভাংচুরের মতো নোংরা কাজের সঙ্গে জড়িত নয়।’

এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জিয়া বলেন, ‘আমি একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। ওই কোম্পানিটি রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ এলাকায় নদী শাসনের কাজ করছে। আনোয়ারসহ কয়েকজন প্রায়ই উড়াকান্দা এলাকায় আমাদের কাজের সাইডে গিয়ে টাকা দাবি করতো। টাকা না দিলে তারা কাজের যন্ত্রপাতি নদীতে ফেলে দিবে বলে বলতো। আমি আনোয়ারকে এসব করতে নিষেধ করায় ৩০অক্টোবর দুপুরে সে তার লোকজন নিয়ে আমাকে মারার জন্য উড়াকান্দা বাজারে ধাওয়া করে। এসময় আমি উড়াকান্দা চৌরাস্তা মোড় বাজারে অবস্থিত আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে আশ্রয় নিই।  পরে তারা ওই অফিসে গিয়ে চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করাসহ আমাকে মারপিট করে।’

এ বিষয়ে বরাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দিন শেখ বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর ইন্ধনে আনোয়ারসহ কয়েকজন আমাদের পার্টি অফিস ভাংচুর ও জিয়াকে মারপিট করেছে। মূলত তারা চায় না যে বরাটে আমাদের পার্টি অফিস হোক। অফিস ভাংচুরের ঘটনায় আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।’

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার বলেন,   ‘আমি উড়াকান্দা চৌরাস্তার মোড় বাজারে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস পরিদর্শন করেছি। ওখানে মূলত ট্রলার থেকে টাকা তোলাকে কেন্দ্র দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে। আনোয়ার নামে একজন হাসপাতালে রয়েছে। উভয় পক্ষের লোকজনই থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর