,

সর্বশেষ :
রাজবাড়ীতে শিশু ধর্ষণ, অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেফতার দৌলতদিয়ায় নুরু মন্ডলের পক্ষে নৌকায় ভোট চাইলেন শোভন-রাব্বানী উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নুরুল ইসলাম মন্ডলের বিকল্প নেই : ছাত্রলীগ নেতা রুবেল রাজবাড়ীর সামাজিক সংগঠন ‘মানবতার জয়’-এর নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা পদ্মা সেতুতে মাথা লাগার গুজব ছড়ানোয় রাজবাড়ীতে স্কুলছাত্র আটক অসুস্থ আ’লীগ নেতা সামশুল আলমের পাশে দাঁড়ালেন কাজী ইরাদত আলী রাজবাড়ীতে ভুয়া চিকিৎসক আটক, ২০ হাজার টাকা জরিমানা রাজবাড়ীতে আ’লীগ নেতার দুঃসময়ে পাশে দাড়াচ্ছেন না দলীয় নেতৃবৃন্দ! রাজবাড়ীর নবাগত জেলা প্রশাসককে গ্রাম পুলিশ বাহিনীর ফুলেল শুভেচ্ছা কৃষ্ণের ছদ্মবেশ নিয়েও পুলিশের হাতে ধরা পড়লো পলাতক আসামি লাল্টু

সেদিন রোদ্দুর হয়নি বলেই আজ বৃষ্টি হলো… এহসান কলিন্স

News

সেদিন রোদ্দুর হয়নি বলেই আজ বৃষ্টি হলো… ( ভালবাসা দিবসের ছোট গল্প )
উৎস্বর্গ : প্রজ্ঞা পারমিতা

“আকাশ ভাঙ্গা বৃষ্টিতে থেমে যায় উপচে পরা অভিমান !
আমি বৃষ্টির কাছে আমার সব কান্না দিয়ে
তোমার হাসি দেখতে চেয়েছিলাম ;
সেই হেমন্ত রোদ্দুরের মত একঝটা হাসি !
বৃষ্টি আমার সব কান্না কেড়ে নিয়ে
দিয়েছে একটি সুখের শহর, শুধুই তোমার জন্যে !
সত্যিই অভিমানে ভালবাসা থেকে যায়”

আমার ছিল কবিতা লেখার নেশা এবং তা ছিল প্রবল। ১৯৯৯ সালে একুশের বই মেলায় আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ বের হয়েছিল। তারপর ধারাবাহিকভাবে অনেক লেখা লিখেছি। ২০০৫ এ আমি পোস্ট গ্রাডুয়েশনের জন্যে লন্ডন এ চলে গেলাম। সেখানেও নিয়মিত লিখতাম। ছাপা হতো লন্ডন সাহিত্য পরিষদ এর বইয়ে ও লিটল ম্যাগাজিনে। বিবিসি’র হেড কোয়ার্টার সাউথহল এর পাশেই ছিল ইন্ডিয়ান রেডিও স্টেশন “আকাশ রেডিও” ; সেখানেও নিয়মিতভাবে প্রত্যেক সপ্তাহে লাইভ কবিতা আবৃতি হতো আমার। আর পাশাপাশি ডকুমেন্টরি করতাম নিয়মিতই। আর তাই তখন বেশ রেগুলার’ই ইউটিউবার ছিলাম। কবিতা, ডকুমেন্টরী আপলোড দিতাম। তখন আমার জীবন যৌবন কেটে যেতো এসব করেই; সারাদিন ইউনিভার্সিটির ক্লাস, সন্ধ্যার শিফট এ জব, আর রাতে ফিরে এম বি এ প্রেজেন্টেশন, থিসিস রচনা করা। এর ফাঁকেই একটু ঘুমিয়ে নিতাম। আর ডে অফ গুলোতে চলতো আমার এইসব কালচারাল কাজগুলো।

যাইহোক এইসব তত্ত্বকথা বলার কারণ একটাই আমার কবিতা দিয়ে কিভাবে একটি মেয়ে/নারী/বন্ধু/বউ এর সাথে পরিচয়,সাক্ষাৎ ও বিবাহ গড়ালো। আমার একটা ইউটিউব কবিতা ভিডিও ছিল “বন্ধু তোর জন্যে” যেটা অনেক আগে করেছিলাম। পরবর্তীতে লেখাটি তাঁকেই ( বউ ) উৎস্বর্গ করেছিলাম। ব্রিটিশদের আমদানি রপ্তানীর হিসাব নিকাশ শেষ করে ব্রোমলি বাই বো এর আমার ছোট্ট ঘরটাতে সারা রাত জেগে কবিতাটি বানিয়েছিলাম। ২০১১ সালে যখন নিজ দেশে এ ফিরে এলাম তখনই আমার জিমেইল এ একটা মেইল পেলাম আমার সেই “বন্ধু তোর জন্যে” কবিতার এপ্রিসিএশন লাইন। ভালো লাগলো।

এবং তারপর … তার আর পর নেই …
এই মেয়েটির (পারমিতা ) সাথে ২০১১ সালের এক বৈশাখী বিকেলে ধানমন্ডি ২৭ এর ‘এল এইচ এফ’ ক্যাফেটেরিয়ার টেবিল এ আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল পাত্রী দেখার উছিলায়। পশ্চিমা শিক্ষা শেষ করে তখন আমি সদ্য দেশে ফিরেছি। আমার মনে আছে বাইরে তখন প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিলো আর আমি বিকেল ৫টায় কথা দিয়েছি আসবো তাই বৃষ্টিতে কাকভিজা ভিজে ঠিক সময়ে হাজির হয়েছিলাম। কি সব আগোছালো কিছু গল্প করেছিলাম তা আমার কিছুই মনে নেই। শুধু এতটুকুই মনে আছে সেইদিনের দেখাটা হয়েছিল শুধুই পরিচয়, বিয়ে হবার নয়। কারণ আমি তখন বেকার আর মেয়েটি তখন সবেমাত্র গ্রাজুয়েশন দিয়েছে ।দুজনেরই মতের অনেক অমিল।

তারপর অনেক দিন কোনো যোগাযোগ ছিল না। কিছুদিন পর আমি জব এ যোগ দেই। আবার কোনো এক রাতে একটা ফোন কল পাই এবং সেই তিনিই ছিলেন ‘প্রজ্ঞা পারমিতা’। অনেক কথা কাটাকাটি ঝগড়া হলো সেদিন। আমাদের আসলে ভালো ভাবে কোনো গল্পই হতো না কেবলই কথা কাটাকাটি। এখনও আমরা ভালো করে গল্প করতে পারি না, শুধুই খুনসুটি। আর এটাই বোধয় আমাদের ভালোবাসা ! ভাগ্যের বিড়ম্বনায় তারপর কত চন্দ্রভুক অমাবস্যার পর পারিবারিক ভাবেই আমাদের বিয়েটা হলো।

ধানমন্ডি ২৭ এর ‘এল এইচ এফ’ ক্যাফেটেরিয়ার কোল্ড কফি সেই আগের মতোই আছে নাকি নেই ই তাও জানি না ; বদলে গেছি শুধু আমরা ! আমরা বুড়ো হতেই চলেছি। আমাদের ঘর জুড়ে এলো চাঁদমাখা ছোট্ট মেয়েটি (নামিহা এহসান রৌদ্রি) এখন আমাদের কফি সঙ্গী !
একদিন আমার চাদমাখা এই ছোট্ট মেয়েটি হয়তো আরও অনেক বড় হবে আর আমি ঠিক এই টেবিল এ বসেই ওকে ওর বাবা মায়ের প্রথম দেখা হবার গল্পটি শুনাবো !

(ভালোবাসা দিনের অফুরন্ত ভালোবাসা সবার জন্যে। ভালোবাসায় ভরে উঠুক প্রতিটি সময়। যে সমস্ত যুগলবন্দীদের হাতে হাত আছে তাঁরা আরও শক্ত করে ধরুন, মুষ্টিবদ্ধ করুন, যেন শত আঘাতেও ছিড়ে না যায় এ বন্ধন !)

ধন্যবাদ,
এহসান কলিন্স | লেখক, কথা সাহিত্যিক | তরু মাধবী ,ঢাকা

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর