,

বালিয়াকান্দিতে শহীদ মিনারের বেদীতে অশ্লীল গানের তালে নাচ! (ভিডিও)

News

বালিয়াকান্দি : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের আড়কান্দী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে শহীদ মিনারের বেদীতে মঞ্চ বানিয়ে হিন্দি ও অশ্লীল গানে নৃত্য পরিবেশন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধারা।

স্থানীয় ইশারত, রহিম, রাকিবসহ কয়েকজন বলেন, ‘বুধবার (০৬ মার্চ) আড়কান্দী উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ কুমার দে। ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চ বানানো হয় বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের বেদীতে। ওই মঞ্চে হিন্দি ও বাংলা গান এবং গানের তালে নৃত্য পরিবেশন করে শিক্ষার্থীরা।  শুধু শিক্ষার্থীরাই নয় বহিরাগত শিল্পী এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও জুতা পায়ে দিয়ে গান পরিবেশন করেন।

তারা আরও বলেন, ‘শহীদ মিনারের বেদীতে মঞ্চ বানানোর আগে এলাকার অনেকেই প্রধান শিক্ষককে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি কারও কথা না শুনে ভাষা শহীদদের ও শহীদ মিনারের চরম অবমাননা করেছেন। শহীদদের বুকের উপরে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে গানের তালে তালে নৃত্য করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তারেক বলেন, ‘গত দুই বছর যাবৎ আমাদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারের বেদীতে মঞ্চ বানিয়ে এরকম অনুষ্ঠান করা হয়। প্রতিবছরই অনুষ্ঠান করার জন্য আমরা শিক্ষার্থীরা টাকা দিই। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে আলাদা মঞ্চ না বানিয়ে টাকা বাঁচানোর জন্য শিক্ষকরা শহীদ মিনারের বেদীতে মঞ্চ বানিয়ে অনুষ্ঠান করেন।’

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মো. সুলতান আলী বলেন, ‘এই শহীদ মিনার বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। এই মিনার ভাষা শহীদদের স্মরণ করার জন্য, শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। এটা নাচ-গান করার জায়গা না। এই ন্যাক্কারজনক কাজ যারা করেছে তাদের বিচার হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনেকরি।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ কুমার দে শহীদ মিনারটির বেদীকে মঞ্চ আখ্যায়িত করে বলেন, বহরপুর ইউনয়নের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম শহীদ মিনারের সঙ্গে সংযুক্ত করে ওই মঞ্চটি বানিয়ে দিয়েছেন। গত দুই বছর ধরে আমরা ওই মঞ্চে অনুষ্ঠান করে আসছি। আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা হিন্দি, বাংলা গান ও নাচসহ বিভিন্ন পরিবেশনা করে থাকে। এটি কোন ভুল নয়।’

বহরপুর ইউনয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি যখন ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলাম তখন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বড় আকৃতির শহীদ মিনারটি নির্মাণ করে দিই। সেখানে নাচ-গান হবে তা আমি আশা করিনি এবং এটি জাতির জন্যেও দুর্ভাগ্যজনক। আর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যেটাকে মঞ্চ বলছেন সেটি মূলত শহীদ মিনারের বেদী। উনি যদি শহীদ মিনারের বেদী আর মঞ্চের পার্থক্য না বুঝেন তাহলে সে দায়ভার ওনারই।’

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বালিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম সূফী বলেন, ‘শরীর খারাপ থাকার কারণে আমি ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারিনি। শহীদ মিনারের বেদীতে মঞ্চ বানিয়ে নাচ-গান করার বিষয়টি স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে শুনেছি। এরকম ঘটে থাকলে তা একটি ন্যাক্কারজনক কাজ। ’

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম রেজা বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। শহীদ মিনার মূলত ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নির্মিত। যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে শহীদ মিনারের বেদী নির্মিত হয়ে থাকে সেখানে মঞ্চ তৈরি করে কোন ধরণের অনুষ্ঠান করা একেবারেই কাম্য নয়। এটি আমাদের বিধি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী। বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং যারা শহীদ মিনারকে অপব্যবহার করে অপসংস্কৃতির চর্চা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভিডিওটি আপলোড হচ্ছে। অনুগ্রহ করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন………………..

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর