,

সাহস থাকলে প্রতিবন্ধকতা কোন বিষয় নয় : এসপি মিলি

News
পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি।

রাজবাড়ী : পুলিশের কাজ চ্যালেঞ্জে ভরা। আর এ পেশায় বাংলাদেশে শীর্ষ পদে যে ক’জন নারী রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন আসমা সিদ্দিকা মিলি। বর্তমানে তিনি রাজবাড়ী জেলায় পুলিশ সুপার পদে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ সুপার হিসেবে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, বাল্যবিয়ে বা ধর্ষণের মতো ঘটনায় অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন।

রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আসমা সিদ্দিকা মিলির পৈতিৃক বাড়ি মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুর গ্রামে। তার বাবার নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ হামিদ মিয়া ও মায়ের নাম রিজিয়া খানম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শেষে ২৪তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০০৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তি মিশনে কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হিসেবে ডি আর কঙ্গোতে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি জাতিসংঘ শান্তিপদকে ভূষিত হন। ২০১৭ সালে ভাল কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ আইজি ব্যাচ প্রাপ্ত হন তিনি। পুলিশ সপ্তাহ-২০১৮ তে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকায় অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা) পান। ২০১৮ সালের ৫ মার্চ তিনি পুলিশ সুপার হিসেবে রাজবাড়ীতে যোগ দেন। পুলিশ সপ্তাহ-২০১৯ এ তিনি রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) পান।

পুলিশ সপ্তাহ-২০১৮ তে পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলিকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা) র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, গত এক বছরে পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলির নেতৃত্বে ৪৭টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১১৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৩৭টি অস্ত্র মামলার বিপরীতে ৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে মাদক উদ্ধারসহ ৮৪১টি মামলা করা হয়। গ্রেফতার করা হয় ৯৬০ জন আসামিকে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ২৪ হাজার ২০৫ পিস ইয়াবা, ২৬ কেজি গাঁজা, ২১৪ গ্রাম হেরোইন, এক হাজার ৭৭২ বোতল ফেনসিডিল, পাঁচ ক্যান বিয়ার, ২৪০ লিটার বাংলা মদ, ৩৬৩ লিটার চোলাই মদ। এছাড়া ১৫ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা মূল্যের ১৯৫টি ইউএস ডলার ও প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের কষ্টিপাথরের মূর্তিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বাংলাদেশে নারী পুলিশ সদস্যদের সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলির সাক্ষাতকার নিয়েছেন রাজবাড়ী নিউজ২৪.কমের নিউজ এডিটর আশিকুর রহমান।

শুরুতেই রাজবাড়ী নিউজ২৪.কমের প্রশ্ন ছিলো বাংলাদেশ পুলিশে নারী পুলিশ সদস্যদের কি ধরণের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে আপনি মনে করেন ?

আসমা সিদ্দিকা মিলি : নারী পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে আমি মনেকরি কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যে কারণে আমরা অনেকক্ষেত্রে নারী পুলিশ সদস্যদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে উৎসাহী করতে পারিনা। যেমন সংসার একটা বড় যুদ্ধক্ষেত্র নারীদের জন্য। সন্তান-সংসার ও স্বামী নিয়ে পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে নারী পুলিশ সদস্যদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুক্ষীন হতে হয়। একজন নারী পুলিশ সদস্যের স্বামী-সন্তান-সংসার এক জায়গায়, কিন্তু তার পোস্টিং অন্য কোন জায়গায়। এমনসময় নারী পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করা কষ্টকর হয়।

পুলিশ সপ্তাহ-২০১৯ এ পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলিকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম : বাংলাদেশ পুলিশে নারীবান্ধব আর কি কি প্রয়োজন বলে আপনি মনেকরেন ?

আসমা সিদ্দিকা মিলি : প্রতিটি অফিসেই নারীদের জন্য বেবী কেয়ার থাকা উচিত। কারণ বাচ্চা নিয়েই মেয়েদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক পরিবারেই এমন আছে যে বাচ্চার দেখাশোনার কেউ থাকেনা। আমারা পুলিশেরা দীর্ঘক্ষণ ডিউটি করি। বড় কোন ক্রাইসিসে ডিউটির কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকেনা। অনেকসময় ১২ থেকে ২৪ ঘন্টাও ডিউটি করতে হয়। তখন নারী পুলিশ সদস্যদের বেবীদের অনেক বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। এজন্য নারী পুলিশ সদস্যদের বাচ্চাদের দেখভালের জন্য প্রতিটি অফিসে বেবী কেয়ারের ব্যবস্থা করা জরুরি। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, পুলিশে অনেক দম্পতি চাকরি করেন। সেসকল দম্পতির একই স্থানে কিংবা কাছাকাছি স্থানে পোস্টিং হলে সুবিধা হয়। তাছাড়া এখন যেহেতু আমরা নারীরা অনেকটা এগিয়ে এসেছি, আমি মনেকরি সাহস থাকলে প্রতিবন্ধকতা কোন বিষয় নয়।

পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলির সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন রাজবাড়ী নিউজ২৪.কমের নিউজ এডিটর আশিকুর রহমান।

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম :  আমাদের দেশে নারীরা এখও বিভিন্ন স্থানে বঞ্চিত-নির্যাতিত। এমন অবস্থায় আপনি বাংলাদেশ পুলিশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন নারী হিসেবে আপনার অনুভূতির কথা জানাবেন ?

আসমা সিদ্দিকা মিলি : আমি খুবই গর্ববোধ করি যে আমি বাংলাদেশ পুলিশে পুলিশ সুপার পদে কাজ করছি। এটি একটি চ্যালেঞ্জিং পোস্ট। এখানে আমি আমার পেশাদারিত্ব প্রমাণ করেই কাজ করার চেষ্টা করি প্রতি মুহুর্তে। আমি মনেকরি আমরা যারা সরাসরি অফিসার পদে যোগদান করি তাদের প্রত্যেকেরই একটি স্বপ্ন থাকে একটি চ্যালেঞ্জিং পদে কাজ করা। পুলিশ সুপার হিসেবে কাজ করাটা আমার ক্যারিয়ারের জন্যেও প্রয়োজন বলে মনেকরি। কারণ একজন পুলিশ সুপার কাজের মাধ্যেমে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন একটি ডেস্ক ওয়ার্কে সেই ধরণের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ নেই এবং জনগণের কাছাকাছি যাওয়ারও সুযোগ নেই। এজন্যে আমি অবশ্যই গর্ববোধ করি যে আমি ভালো একটি সুযোগ পেয়েছি এখানে কাজ করার ক্ষেত্রে।

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম  : আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

আসমা সিদ্দিকা মিলি : আপনাকেও ধন্যবাদ।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর