,

সর্বশেষ :
দৌলতদিয়ায় নুরু মন্ডলের পক্ষে নৌকায় ভোট চাইলেন শোভন-রাব্বানী উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নুরুল ইসলাম মন্ডলের বিকল্প নেই : ছাত্রলীগ নেতা রুবেল রাজবাড়ীর সামাজিক সংগঠন ‘মানবতার জয়’-এর নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা পদ্মা সেতুতে মাথা লাগার গুজব ছড়ানোয় রাজবাড়ীতে স্কুলছাত্র আটক অসুস্থ আ’লীগ নেতা সামশুল আলমের পাশে দাঁড়ালেন কাজী ইরাদত আলী রাজবাড়ীতে ভুয়া চিকিৎসক আটক, ২০ হাজার টাকা জরিমানা রাজবাড়ীতে আ’লীগ নেতার দুঃসময়ে পাশে দাড়াচ্ছেন না দলীয় নেতৃবৃন্দ! রাজবাড়ীর নবাগত জেলা প্রশাসককে গ্রাম পুলিশ বাহিনীর ফুলেল শুভেচ্ছা কৃষ্ণের ছদ্মবেশ নিয়েও পুলিশের হাতে ধরা পড়লো পলাতক আসামি লাল্টু গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে বিএনপির বিক্ষোভ

৮ মাসেও গ্রেফতার হয়নি কলেজছাত্র রুমানের খুনিরা!

News
কলেজছাত্র রুমান হত্যা মামলার আসামিরা।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বন্ধুর ভাগনিকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় গত বছর জুন মাসে কলেজছাত্র রুমান মোল্লাকে (২০) পিটিয়ে হত্যা করে বখাটেরা। হত্যাকাণ্ডের আট মাস পার হলেও এই মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামির মধ্যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত রুমানের পরিবারের অভিযোগ, আসামিদের গ্রেফতারে গাফিলতি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে হতাশা ও হত্যাকারীদের হুমকিতে আতংকে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

রুমান গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর আন্ধারমানিক গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে। তিনি ফরিদপুর বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। এই হত্যার ঘটনায় রুমানের বাবা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে ছয় জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়। এরা হলেন- গোয়ালন্দ উপজেলার কাশিমা গ্রামের ইউনুছ মোল্লার ছেলে ইলিয়াছ মোল্লা ওরফে টিপু (২৫), সালামের ছেলে রাসেল (২০), মৃত জয়দার মোল্লার ছেলে ইউনুছ মোল্লা (৫০), তেনাপঁচা গ্রামের কালামের ছেলে সোহাগ (২৩), হাউলি কেউটিল গ্রামের নিজামউদ্দিনের ছেলে অনিক (১৯) ও উত্তর চরপাঁচুরিয়া গ্রামের ইদ্রিস চৌধুরীর ছেলে আহসান চৌধুরী (২২)। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

রুমানের বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমার ছেলে রুমানের সুমন নামে এক বন্ধু ছিলো। সুমনের স্কুলপড়ুয়া ভাগনিকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করতো রাসেল নামে এক তরুণ। রাসেল ওই স্কুলছাত্রীকে অপহরণের হুমকিও দিয়েছিলো। এ ঘটনা ওই ছাত্রী তার মামা সুমনকে জানায়। গত বছরের ২৩ জুন বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সুমন তার আরও দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে কাটাখালী বাজারে যায়। এসময় সে বখাটে রাসেলকে পেয়ে তার ভাগনিকে উত্যক্ত করতে নিষেধ করলে রাসেলসহ ৮-১০ জন সুমন ও তার দুই বন্ধুকে মারপিট করে। আহত সুমন তাদেরকে বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আমার ছেলে রুমানকে ফোন করে। খবর পেয়ে রুমান কাটাখালী বাজারে গিয়ে তার তিন বন্ধুকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় বখাটেরা রুমানকেও লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বেধরক মারপিটের পর মৃত্য নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। পরদিন ২৪ জুন এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করি। ’

তিনি আরও বলেন, ‘রুমানের হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসীসহ আমরা কয়েকবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছি। বর্তমানে এই মামলার দায়িত্ব রয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)। মামলাটি সিআইডিতে যাওয়ার পর আসামিদের গ্রেফতারে আর কোন অভিযান চালানো হয়নি। এজাহারভুক্ত আসামি অনিককে আটক করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ফোনে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁকে গ্রেফতার করতে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে হতাশা ও হত্যাকারীদের হুমকিতে আতংকে দিন কাটাচ্ছি আমরা।’

নিহত কলেজছাত্র রুমান।

রুমানের বড়ভাই রেজাউল করিম ক্ষোভ প্রকাশ বলেন, ‘প্রকাশ্য দিবালোকে আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেফতার হয়নি। অদৃশ্য কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদের গ্রেফতারে গাফিলতি করছে। তাদের এই গাফিলতি দেখে আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি।’

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রাজবাড়ী সিআইডির পরিদর্শক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘এরইমধ্যে রুমান হত্যা মামলার সন্দেহভাজন এক আসামিকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। এজাহারভুক্ত এক আসামিকে ধরার বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে থানা থেকে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সেই আসামি পালিয়ে যায়। আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য আমাদের চেষ্টার কোন ঘাটতি নেই।’

এ বিষয়ে গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এজাজ শফী বলেন, ‘এই ধরণের মামলা তদন্তের জন্য সিআইডি উপযুক্ত বিভাগ। তাদের তদন্তের ধরণ অনেকটা নীরবে হয়ে তাকে। এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।’

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর