,

সর্বশেষ :
ঢাকাস্থ খানখানাপুর সমিতির উদ্যোগে গুণীজন ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান রাজবাড়ীর বসন্তপুরের মাদক ব্যবসায়ী ছবদুল র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ‌’মানবতার জয়’ এর উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মধ্যে ঈদ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ রাজবাড়ীর মুলঘরের আদর্শ রাজনীতিবিদ রইস উদ্দিন মিয়া আর নেই দৌলতদিয়ায় এক মাদক ব্যবসায়ী ও চার মাদকসেবী আটক রাজবাড়ীর বসন্তপুর ইউনিয়নে ভাতা ভোগীদের বই বিতরণ অ্যাডভোকেট সুদীপ্ত গুহ ও সিএসআই তাজ উদ্দিনের দ্বন্দ্বের অবসান যুবকের দুই হাত বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় গ্রেফতার ১, চাপাতি উদ্ধার কবিরাজ’ই চিকিৎসক; বিশ্বাসকে পুঁজি করে দিনের পর দিন ধরে চলছে অপচিকিৎসা রাজবাড়ীর বসন্তপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী মতিয়ার গ্রেফতার

একটি অন্ধকার ভোর এবং ‘আনিসুর রহমান আনজু’

News

একটি অন্ধকার ভোর এবং ‘আনিসুর রহমান আনজু’ !

“নিভে যায় সব আলো
থেমে যায় সব মুখরতা,
ঢেকে দেয় পারাপার
শুধু অমানিশা ।
তখনও কোথাও জেগে থাকে
একমুঠো জোনাকি পোকা…”

আজ ৩রা আগস্ট। আজ থেকে ১৭ বছর আগে আমাদের পরিবারের জন্যে এটি একটি নৃশংস রাত। নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষে রাজবাড়ী, সুলতানপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আনিসুর রহমান আনজু কে। এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত নৃশংসতা, কিছু ক্ষমতা লোভী নরপিচাশদের দ্বারা হত্যা।

আমি তখন সবে মাত্র গ্রাডুয়েশন করেছি। এই ঢাকার শহরে বেকার হয়ে ঘুরছিলাম। দু চারটি টিউশনি করি আর আত্মীয়র কাছ থেকে ধার করা কম্পিউটার শিখি। বড় ভাই বেকার, আমি বেকার, ছোট ভাইয়ের লেখাপড়া,বাবা চাকুরী থেকে অবসর, কি দূর্বিষহ জীবন ই না ছিল তখন। তবু ও চলছিল জীবন। জীবন থেমে থাকে না, জীবন থেমে থাকবার নয়। কিন্তু মানুষের জীবনে এই দুর্বিষহ সময়টুকুর মধ্যে ই যত যন্ত্রনা, যত অবজ্ঞা, যত লাঞ্ছনা সইতে হয়। আমাকেও সইতে হয়েছিল।

আমি আমার এই লেখাটি ছোট্ট করে লিখে শুরু করলাম কারণ আমার এবং আমার পরিবারের সেই দুর্বিষহ সময়টুকুর যন্ত্রনা, অবজ্ঞা, লাঞ্ছনার পাশে একজন মানুষ ই আমার বাবার, আমার ও আমার ভাইয়ের পাশে ছিলো সেই ভালোবাসার মানুষটি ই ‘আনিসুর রহমান আনজু’।

ছোট বেলা থেকেই আমার একটু সত্য আর সলিড, বলার অভ্যাস ছিলো এখন ও আছে। কে কি ভাববে থোড়াই কেয়ার করি। প্রসঙ্গ যখন এসেই গেল না লিখে কি পারি ?

আমার ভালোবাসার মানুষ, আমার দুর্দিনের মানুষ, আমার পরিবারের অন্যতম শক্তি ‘আনিসুর রহমান আনজু’ কে কেন এতো বিশেষণ দেই বা দিচ্ছি আমার পরিবারের এত্তগুলা বাঘা বাঘা মানুষ কে বাদ দিয়ে কারণ এই মানুষটি ই ছিলো আমাদের জীবনের একমাত্র দুর্দিনের মানুষ।যা আমি কক্ষনোই ভুলতে পারবো না।

যদি লিখতে থাকি এই মানুষটি কে নিয়ে তাহলে অনেক বড় গদ্য হবে । একজন বড় মনের মানুষের সংজ্ঞা দিতে একশোটি গদ্য রচনার প্রয়োজন হয় না। যেহেতু লেখালেখি করি আমার পরিবারের সত্য মিথ্যার গল্প না হয় আরো পড়েই ছাপা হবে বড় করে।

হঠাৎ করে একদিন আমার বাবা আমাকে ফোন দিলো তাড়াতাড়ি বাড়িতে যেতে। জরুরী দরকার আছে। আমি আর আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই ( ফরিদুল ইসলাম ) সেদিন বাড়িতে গিয়েছিলাম। রাতেই বসলাম। আমার পরিবারের ই কে বা কেউ আমার সহজ সরল আদর্শবান বাবাকে আমার ভাইয়ের সরকারি চাকুরীর অফার দিয়েছেন । বেতন ভালো, সিভিল সার্জন অফিস এ।
আমার সহজ সরল আদর্শবান বাবা তাঁর বেকার ছেলের চাকুরীর লোভ আর সামলাতে পেড়েছিলেন না। সেই লোভনীয় চাকুরীদাতা, বাবাকে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ ও চেয়ে বসেছে। যেমন গল্প তেমন কাজ। আমার বাবা পারলে তখনই জমি বিক্রি করে দেয়। এটাই স্বাভাবিক। অভাবের সংসারে বেকার ছেলের চাকুরী হবে এর থেকে সৌভাগ্য আর কি হতে পারে।
যাই হোক অবশেষে সেই মহান চাকুরীদাতার হাতে পুরো টাকাটা তুলে দিলেন। আর আমার বাবা সুখের নিঃস্বাশ ফেললেন। কিন্তু দিন যাই মাস যায় চাকুরীর আর খবর থাকে না। একটা সময় সেই মহান চাকুরীদাতা আমার বাবার সাথে দেখা করা , কথা বলাই বন্ধ করে দিলেন। আর আমার বাবা নির্বোধ হয়ে গেলেন। শুধূ বলতো আপন লোক এমন করে। আসলে সিভিল সার্জন অফিস এর চাকুরী বলতে কিছু ছিল না। ওটা ছিলো একটা সাজানো নাটক বৈকি। আমার বাবার সেই হালাল টাকাগুলোই হারাম পথে নেশা এবং রঙ্গ করেছিল সেই মহান চাকুরীদাতা।

এই সাজানো নাটক এর গল্পটার শেষ দৃশ্য বলার জন্যেই এতো কিছু বলা। সেই মহান চাকুরীদাতার, পুরো টাকার দায় ভার আমার এবং আমাদের সেই ভালোবাসার মানুষ, আমার দুর্দিনের মানুষ, আমার পরিবারের অন্যতম শক্তি ‘আনিসুর রহমান আনজু’ ই দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আমার পরিবারের কোনো একটা মানুষ সেদিন প্রতিবাদ করেনি বরং কুকুর লেলিয়ে দিয়েছিলো। শুধু আমার চাচা ‘আনিসুর রহমান আনজু’ বলেছিলো চিন্তা করিস না আমি দায়িত্ব নিলাম, আমিতো আছি।

ঢেলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। থলের কালো বিড়াল সহজেই কি বের হয় ? সর্ষে ক্ষেতে ভূত, এই বলে শুধু গল্পই করলাম ভূত আর দেখলাম না অথবা ভূত বের ও করলাম না. তাহলে সর্ষে ক্ষেতে ভুতের গল্প করে কি লাভ?

আজ হয়তো আমার চাচা ‘আনিসুর রহমান আনজু’ বেঁচে থাকলে বলতাম দেখেন সকালের সাদা কুয়াশা ভেঙ্গে হলুদ সর্ষে ক্ষেত থেকে আস্তে আস্তে সব ভূত গুলো বের হস্ছে।
খুব আফসোস হয় এইসব কালো ভূতদের দেখে যারা আমার চাচার ক্ষমতায় নিজেকে পরিচয় দিয়ে জীবন বাঁচাতো এক সময় , যারা ‘আনিসুর রহমান আনজু’ র ক্ষমতার কারণেই আজ কালো কেদারায় বসে রাইফেল তাক করে আছে।

ধিক্কার এই কালো ভূতদের যারা ক্ষমতার লোভে এখনও আমার চাচার হত্যাকারীদের কে লালন করছে, যারা স্বগর্ভেই আনজু হত্যার দলিল নিচ্ছিন্নহ করেছে, অথবা হত্যার দলিলটি ই ভূল প্রেস এ ছাপিয়েছে। আগেই ই বলেছি ঢেলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। থলের কালো বিড়াল আবয়বেই বের হয়ে আসছে সর্ষে ক্ষেতের ভূত তাড়ানোর মতো।

‘আনিসুর রহমান আনজু’ আমরা এখনো আপনার হত্যার প্রতিশোধ নিতে পারিনি, আমরা এখনো আপনার তৈরি ইউনিয়ন এ একজন যোগ্য নেতা তৈরী করতে পারিনি, আমরা এখনো আপনার মৃত্যুর প্রতিবাদ মিছিল করিনি, আমরা এখনো আপনার প্রকৃত হত্যাকারীদের ধরতে পারিনি, এখনও আপনার খুনিরা প্রকাশ্য দিবালোকে ক্ষমতার মসনদে বসে রাইফেল তাক করে আছে আমাদের দিকে, এখনো আপনার’ই সৃষ্টি আপন লোকগুলো আপনার হত্যাকারীদের সাথে আলিঙ্গনবদ্ধ। অথচ আপনি জীবন বাজি রেখেই তাদের কে আগলে রেখেছিলেন। কথা দিলাম সময় একদিন আসবেই সময় কে বাঁচিয়ে রাখবার। আপনার বিদ্রোহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

এর থেকে আরো অনেক বড় কিছু বাকি রয়ে গেলো।

ধন্যবাদ,
এহসান কলিন্স | লেখক, কথা সাহিত্যিক | তরু মাধবী ,ঢাকা,
ahasan.collins@gmail.com

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর