,

রাজবাড়ীর কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আমিন হুজুর চতুর্থবারের মতো গ্রেফতার

News

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী জেলার কুখ্যাত মাদক ব্যাবসায়ী আমিনুল ইসলাম শেখ ওরফে আমিন হুজুর (৩০) কে ৫২ পিস ইয়াবাসহ চতুর্থবারের মতো গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলা সদরের শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের নিমতলা রেলগেট এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে সদর থানার পুলিশ।

এর আগেও ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ তিনবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন আমিন হুজুর। তিনি নিমতলা রেলগেট এলাকার মৃত নুরুল ইসলাম শেখের ছেলে।

রাজবাড়ী সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘আমিনুল ইসলাম মাদরাসায় পড়ালেখা করেছেন। এ কারণে তিনি মানুষের কাছে আমিন হুজুর নামে পরিচিত। বেশ কয়েক বছর ধরে আমিন হুজুর মাদকের ব্যবসা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে মোট চারটি মাদক মামলা রয়েছে। ২০১৬ সালের ২৯ জানুয়ারি তিনি ২৭৫ বোতল ফেনসিডিল ও মাদক বিক্রির ৩৬ হাজার টাকাসহ নিজ বাড়ি থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন। ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ তাকে গ্রেফতার করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। এছাড়া ২০১৮ সালের ২২ জুন ৩০৫ পিস ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। এরপর জামিনে বের হয়ে আমিন হুজুর আবারও মাদক ব্যবসা করতে থাকেন।’

এসআই আরিফুজ্জামান আরও বলেন, ‘রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে আমিসহ এসআই জাহিদুল ইসলাম ও এসআই হিরণ কুমার বিশ্বাস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নিমতলা রেলগেট এলাকায় আমিন হুজুরের বাড়িতে অভিযান চালাই। এসময় ৫২ পিস ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।’

এ ব্যাপারে আমিন হুজুরের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান এসআই আরিফুজ্জামান।

আমিন হুজুরের এলাকার লোকজন জানান, ছোটবেলায় এলাকার ওয়াজ-মাহফিলে সুরেলা কন্ঠে গজল গেয়ে মানুষের মন জয় করতেন আমিন। এ কারণে এলাকাবাসী অত্যন্ত স্নেহও করতেন তাকে। সুরেলা কন্ঠ ও ধর্মীয় দিকে মনোনিবেশ থাকায় প্রাইমারীর গন্ডি পেড়োনোর পর রিকশাচালক বাবা তাকে ভর্তি করে দেন হাফেজিয়া মাদরাসায়। সেখানে পড়ালেখা করে ২৮ পারা কোরআন মুখস্ত করেন তিনি। পরিবারে অস্বচ্ছলতার কারণে পড়ালেখার পাশাপাশি মানুষকে তাবিজ-কবজ দিয়ে প্রতারণার ব্যবসা শুরু করেন আমিন। টাকার প্রতি চলে আসে তার লোভ। আর এই লোভই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জীবনে। এরপর পড়ালেখা বাদ দিয়ে ২০০৮ সাল থেকে কয়েকবছর তাবিজ-কবজের ব্যবসা করেন তিনি। পরে পুরোদমে জড়িয়ে পড়েন মাদক ব্যবসার সঙ্গে।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর