,

রাজবাড়ীতে বিকাশ প্রতারক চক্রের এক সদস্য গ্রেফতার

News

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের এলাইল গ্রামের অটো চালকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৭৭ হাজার ৪৪৩ টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় সাদ্দাম হোসেন ওরফে আপন (২২) নামে বিকাশ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১০  সেপ্টেম্বর) রাতে বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল বাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার ডোমাইন গ্রামের মৃত শাহীদ মীরের ছেলে।

এ ঘটনায় বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) অটো চালক আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করাসহ অজ্ঞাত ২-৩জনকে আসামি করে রাজবাড়ী থানায় ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪(২)/৩৫(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। রাজবাড়ী থানার মামলা নং-১৪।

মামলার অন্যান্য আসামীরা হলো ঃ ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার ডোমাইন গ্রামের খালেক শেখের ছেলে আশরাফুল ওরফে শোয়েব (২৫),  বোবা বিশ্বাসের ছেলে বাবুল (৩০), মন্টু (৪০), পিতা-অজ্ঞাত, শাপলু (২৮), পিতা-অজ্ঞাত ও কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন(৩৭)।

জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট বিকাশ প্রতারক চক্রের সদস্য সাদ্দাম অটো চালক আমিরুলের মোবাইলে ফোন করে জানায় ভুল করে তার ব্যবহৃত মোবাইলের বিকাশে ১৫হাজার টাকা চলে গেছে। তখন অটো চালক আমিনুল তার মোবাইল চেক করে দেখেন কোন টাকা আসেনি। এর কিছুক্ষণ পর সাদ্দাম আবার ফোন করে জানায় আপনি কিছু মনে করবেন না আপনার নম্বরটি আমি বিকাশ অফিসে অভিযোগ করে বন্ধ করে দিয়েছি। এরপর বিকাশ অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে একজন ওই অটো চালককে বলেন আপনার বিকাশ নম্বরটি বন্ধ আছে। এখন নতুন একাউন্ট চালু করার জন্য আমরা আপনাকে নতুন একটি পিন নম্বর দিচ্ছি। এই বলেই ওই বিকাশ কর্মকর্তা অটো চালককে ২৪৯০০ নম্বরের একটি পিন নম্বর প্রদান করে বলেন উক্ত পিন নম্বরটি সেন্ড করলে আপনার মোবাইলে ম্যাসেজ আসবে সেটা আমাকে দিবেন। তার কথা মতো তিনি তার নিজের ব্যবহৃত মোবাইলে আসা ম্যাসেজ নম্বরটি দেন। এরপর ওই ভূয়া বিকাশ কর্মকর্তা তাকে আবার ফোন করে বলেন আপনি আপনার বিকাশ নম্বরে ২৪৯০০ টাকা সেন্ডমানি করুন তাহলে আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে যাবে। তখন ওই অটো চালক তার বিকাশন নম্বরে ২৪৯০০টাকা সেন্ডমানি করেন। এভাবে বিকাশ প্রতারক চক্র ওই অটোচালকের কাছ থেকে সর্বমোট ৭৭ হাজার ৪৪৩টাকা হাতিয়ে নেয়।

রাজবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি ওই অটো চালক থানায় জানালে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল বাজার এলাকা থেকে ১০হাজা ২০০ টাকাসহ সাদ্দামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর সাদ্দাম স্বীকার করে সে নিজে ও পলাতকরা মিলেমিশে বিভিন্ন লোকের এনআইডি কার্ড ও ছবি সংগ্রহ করে ইব্রাহিম হোসেনের কাছে দিতো। ইব্রাহিম ভূয়া বিকাশ অ্যাকাউন্ট করে দিতো। পরে তারা সুবিধামত কোন ডিজিটাল সিষ্টেম বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে বিকাশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে টার্গেট ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতো।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর