,

রাজবাড়ীতে সরকারি চাল বিক্রি হচ্ছে মুদি দোকানে!

News

রাজবাড়ী : রাজবাড়ীতে একটি মুদি দোকান থেকে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (১০ টাকার চাল) ৫০ বস্তা চাল জব্দ করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (০৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে জেলা সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের মহারাজপুর মধ্যপাড়া গ্রামের শাহিন শেখের দোকান থেকে চালগুলো জব্দ করা হয়।

ঘটনার পর থেকে দোকানি শাহিন শেখ পলাতক রয়েছেন। তিনি মহারাজপুর মধ্যপাড়া গ্রামের হোসেন শেখের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে শাহিন তার দোকানে সরকারি এই চাল বিক্রি করে আসছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মীর্জা বদিউজ্জামান বাবু বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের রাজাপুরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের ডিলার মতিন দীর্ঘদিন ধরে চাল বিতরণে অনিয়ম ও গোপনে চাল বিক্রি করে আসছিলেন। আমি ইউনিয়ন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। আজ বিকেলে আমি জানতে পারি মতিনের গোডাউন থেকে ১০ বস্তা চাল ভ্যানে করে বিক্রির জন্য শাহিনের দোকানে নেওয়া হচ্ছে। এরপর আমি আমার ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে শাহিনের দোকানের সামনে এসে দেখি শাহিনের ভাই ভ্যান থেকে চালের বস্তা নামিয়ে দোকানে উঠাচ্ছে। এসময় আমরা দোকানের সামনে ভ্যানসহ চালের বস্তাগুলো আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ও থানায় খবর দেই। তখন শাহিনের ভাই তড়িঘড়ি করে দোকান বন্ধ করে তালা দিয়ে সটকে পড়েন। পরে পুলিশ শাহিনের পরিবারের সদস্য ও আমাদের উপস্থিতিতে দোকানের তালা ভেঙে ভেতর থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আরও ৪০ বস্তা চাল উদ্ধার করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাগজে কলমে রাজাপুরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের ডিলার মতিন হলেও মূলত তা নিয়ন্ত্রণ করেন রাজীব তালুকদার নামে এক ব্যক্তি। রাজীব তালুকদারই মতিনের মাধ্যমে এতোসব অনিয়ম চালিয়ে আসছেন।’

ভ্যানচালক আলাউদ্দিন বলেন, ‘রাজাপুরের মতিনের চালের গোডাউন থেকে দোকানি শাহিন আমার ভ্যানে ১০ বস্তা চাল উঠিয়ে দিয়ে তার দোকানের সামনে নিয়ে আসতে বলেন। আমি শাহিনের দোকানের সামনে আসার পর ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ ভ্যানসহ চাল আটক করেন।’

রাজবাড়ী সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফুজ্জামান বলেন, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রোজাউল করিম স্যার ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার স্যারের নেতৃত্বে আমি ও খানখানাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. শহীদুল ইসলাম স্যার শাহিনের দোকান থেকে ৫০ বস্তা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল জব্দ করে থানায় নিয়েছি। ঘটনার পর থেকে দোকানি শাহিন শেখ পলাতক রয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজাপুরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের ডিলার মতিনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার গোডাউন থেকে কারো কাছে গোপনে এভাবে চাল বিক্রি করা হয়নি। যারা কার্ডধারী রয়েছেন, সবসময় তাদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ করা হয়।’

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর