,

সর্বশেষ :
বসন্তপুর ইউপির ৯নং ওয়ার্ডকে ‘মডেল ওয়ার্ড’ বানাতে চান কাজী লুৎফর ৩ বছরেও শেষ হয়নি বাগমারা-জৌকুড়া সড়কের উন্নয়ন কাজ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ রাজবাড়ী বাজারে দোকানে ঢুকে মালিককে মারপিটের চেষ্টা রাজবাড়ীতে তুলে নিয়ে কিশোরীকে বিয়ে, কাজিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হক’কে গণ সংবর্ধনা ফুডপ্যান্ডা এখন রাজবাড়ী সদরে বসন্তপুর ইউপির একটি মসজিদে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাজ্জাদ বিশ্বাসের অনুদান প্রদান দলীয় মনোনয়ন পেলে আবারও নির্বাচন করতে প্রস্তুত মহম্মদ আলী চৌধুরী রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে প্রার্থী হচ্ছেন কাজী লুৎফর রহমান রাজবাড়ী সদরের ইউএনও সাঈদুজ্জামান খানকে বদলি

‘বিচার শালিস করে টাকা খাওয়া টাউট-বাটপারদের জায়গা আ’লীগে হবেনা’

News

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী বলেছেন, ‘যারা বিচার শালিস করে মানুষের কাছ থেকে টাকা খায় এবং দালালি ও টাউট-বাটপারি করে তাদের জায়গা আওয়ামী লীগে হবেনা।’

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বসন্তপুর কো-অপারেটিভ হাই স্কুল নিয়ে অনেকে ব্যবসা করেছে। আমি মনেকরি স্কুল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; পবিত্র জায়গা। স্কুল নিয়ে যে বা যারা ব্যবসা করবে-টাকা নিয়ে খাবে, তারা স্কুলের কোন কমিটিতে থাকতে পারবেনা।’

সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী বলেন, ‘আমাদের সরকার উপজেলা পর্যায়ে কম্বল দিয়েছে। আমাদের ইউপি চেয়ারম্যান সাহেবরাও কম্বল দিয়েছেন। সমাজে সামর্থবান ব্যক্তি যারা রয়েছেন তারা প্রত্যেকেই যদি দরিদ্র মানুষদের কিছু কিছু করে কম্বল দেন তাহলে দরিদ্র মানুষের শীতে কষ্ট হবেনা।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারের আমলে তারা বিভিন্ন জায়গায় উন্নয়ন করার বক্তব্য দিতেন। তাদের সেই উন্নয়ন শুধু বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো; কখনো বাস্তবায়িত হতোনা। আর আমরা উন্নয়নের কথা শুধু মুখেই বলিনা; আমরা কাজ করে দেখিয়ে দেই। জামায়াত ইসলামী বিএনপির সঙ্গী হয়ে ধর্মের নামে রাজনীতি করতো। তাদের সময় একটা মাদ্রাসায়ও ভবন নির্মাণ করা হয়নি। আমাদের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমরা রাজবাড়ীর সব জায়গায় মাদ্রাসায় ভবণ নির্মাণ করে দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা বলতো আওয়ামী লীগ সরকার কখনো বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান করতে পারবেনা। আল্লাহ্র রহমতে এখন বিদ্যুতের কোন সমস্যা নেই। ধান-চালের কোন সমস্যা নেই। কৃষক তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। এরইমাঝে পেয়াজের দাম বেড়ে গেছে। তবে কৃষকরা এতে লাভবান হচ্ছে। আমাদের দেশ কৃষি প্রধান দেশ, কৃষকের দেশ। কৃষকরা তাদের শরীরের ঘাম ঝড়িয়ে ফসল ফলাচ্ছেন। সাড়ে ৭ কোটি লোক থেকে এখন বাংলাদেশে ১৬ কোটি লোক। কোন লোকই না খেয়ে নেই। আজকে আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। আমরা বিদেশেও খাদ্য রপ্তানি করতে পারছি। আজকে আমাদের সরকার বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিচ্ছে। সাধারণত একটি উন্নত দেশে এগুলো দেয়। এ সবকিছুই জননেত্রী শেখ হাসিনার চিন্তা-চেতনায় সম্ভব হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়ন সৃষ্টি করেছেন। তিনি পুরুষ এবং নারীর মধ্যে বৈষ্যম্য কমিয়ে এনেছেন। তিনি নারীদের মূল্যায়ন করছেন। নারীরা নিজেরা যাতে সাবলম্বী হতে পারেন সেজন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প চালু করেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নারীরা সঞ্চয় করে লোন নিয়ে গাভী কিনে নিজের পায়ে দাড়াচ্ছেন।’

কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে বসন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুল মান্নান গাজীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার, রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এস.এম নওয়াব আলী, উপ-প্রচার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আমজাদ হোসেন ও বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সরদার।

বসন্তপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক মুকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে- খানখানাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ শহীদুল ইসলাম, পাঁচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আলমগীর হোসেন, মুলঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুসল্লী, বসন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান মো. ফিরোজ, বসন্তপুর কো-অপারেটিভ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আদেল উদ্দিন মোল্লা, বসন্তপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর কুমার সরকার, বসন্তপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক টিটু বিশ্বাস, ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আইয়ুব আলী, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কাশেম শিকদার, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিয়ার রহমান, ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউনুছ আলী শেখ, ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী লুৎফর, সহ-সভাপতি শাহিন ফকির শাফিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্কাছ আলী ফকির, আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ গোলাপ আলী ফকির, ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান মোঃ রিয়ান, জিদ্দি ফকিরসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে বসন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুল মান্নান গাজী বলেন, ‘আমি ৪০ বছর বসন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কেউ বলতে পারবেনা আমি কোনদিন কোন শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণ করেছি। শিক্ষকদের সঙ্গে যদি খারাপ আচরণ করা হয় তাহলে তারা ক্লাসে ভালও লেখাপড়া করাতে পারেন না। তাদের মনে আনন্দ দিতে হবে। তাদের মন প্রফুল্ল রাখতে হবে। তবেই তারা শিক্ষার্থীদের ভালো পাঠদান করাতে পারবেন। কিন্তু শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও এখন আমাদের এখানে ঘটছে। ষড়যন্ত্র করে আমাকে বসন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পদ থেকে সরানো হয়েছে। আমি মনেকরি আমি হারিনি। আমি মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের কাছে বলতে চাই, আমাদের আপনি সংগঠন করার সুযোগ দিন। যারা আমাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছে তারা শিগগিরই আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদর থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে বলছি যারা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে শালিস করে টাকা খাবে, টাউট-বাটপারি-দালালি করবে। তারা কেউ আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবেনা। আমাদের এমপি মহোদয়ের মাধ্যমে সরকারের যে নির্দেশনা আসবে তা কঠোরভাবে পালন করা হবে। কোন দালালের আশ্রয় আমার কাছে নেই। আপনাদের আইনি সহযোগীতার প্রয়োজন হলে সরাসরি আমার কাছে থানায় চলে যাবেন। আমি আশাকরি আপনারা সঠিক বিচার পাবেন; কোন টাকাপয়সা লাগবেনা। আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনারা কোন দালালের কাছে যাবেন না, দালালকে টাকা দিবেন না। আপনাদের এলাকায় যারা দালালি-চাঁদাবাজি করবে, মাসোয়ারা নিবে তাদের অপকর্মের কথা অবশ্যই আমাকে জানাবেন। আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো। আইন প্রয়োগের ব্যাপারে আমার হাত উন্মুক্ত।’

বক্তব্য শেষে সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে বসন্তপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের চার শতাধিক শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর