,

সর্বশেষ :
খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে ‘মানবিক রাজবাড়ী’ রাজবাড়ীতে সরকারি নির্দেশনা না মানায় ৩ দোকানিকে জরিমানা খানখানাপুরকে করোনামুক্ত রাখতে নিরলস পরিশ্রম করছেন বশির ও ফরহাদ রাজবাড়ীতে অসহায় মানুষের মধ্যে খিচুরি বিতরণ পাংশায় সেই যুবকের শরীরে করোনা পাওয়া যায়নি রাজবাড়ীতে আরও কঠোর হচ্ছে প্রশাসন রাতের আধাঁরে দরিদ্রদের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিলো ‘মানবিক রাজবাড়ী’ রাতের আধাঁরে দরিদ্রদের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিলেন ‘ঢাকাস্থ খানখানাপুর সমিতি’র সদস্যরা ঢাকা থেকে পালানো করোনায় আক্রান্ত তরুণীকে পাওয়া গেল রাজবাড়ীতে বসন্তপুরে মাছরাঙা ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

বন্ধুর ষড়যন্ত্রে দিশেহারা প্রবাসী ইসলাম মিয়া!

News
ভুক্তভোগী প্রবাসী ইসলাম মিয়া।

রাজবাড়ী : বিশ্বাস করে ব্যবসায়ীক পার্টনার বন্ধুর কাছে নিজের নামে ইস্যুকৃত অস্বাক্ষরিত চেক বই ও ব্যবসার মালামাল গচ্ছিত রেখে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন ইসলাম মিয়া (৪৮)। প্রবাসে গিয়ে জানতে পারেন টাকার লোভে সেই চেককে পুঁজি করে তার নামে আদালতে চেক ডিজঅনারের মিথ্যা মামলা ঠুঁকে দিয়েছেন বন্ধু মজিবর শেখ (৫০)।

অবশেষে বন্ধুর ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে চেকবই উদ্ধারের জন্য বন্ধুর নামে আদালতে পাল্টা তল্লাশি পরোয়ানার (সার্চ ওয়ারেন্ট) মামলা করেন ইসলাম মিয়া। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ষড়যন্ত্রকারী বন্ধু মজিবর শেখের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সেই চেকবই উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ব্রাকপাড়া গ্রামে।

ইসলাম মিয়া খানখানাপুর ঢেঁকিগাড়িয়া ব্রাকপাড়া গ্রামের মৃত আওয়াল মিয়ার ছেলে এবং মজিবর শেখ খানখানাপুর ব্রাকপাড়া গ্রামের মৃত আদম আলী শেখের ছেলে।

ভুক্তভোগী ইসলাম মিয়া বলেন, আমি রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দমোড়ে মহাসড়কের পাশে ভাই ভাই সাইকেল ষ্টোর নামে একটি দোকান দিয়ে সাইকেল ও রিক্সা-ভ্যানের বিভিন্ন পার্টস বিক্রি করতাম। মজিবর শেখ আমার দোকানের সামনে সাইকেল ও রিক্সা-ভ্যান মেরামতের কাজ করতো। সে আমার দোকান থেকে সকল প্রকার পার্টস কিনতো। তখন থেকে তার সাথে আমার একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। একসময় আমরা ব্যবসায়ীক পার্টনার হিসেবে দোকান পরিচালনা করতে থাকি। দোকান করার সময় আমি অগ্রণী ব্যাংক আহলাদিপুর শাখায় মেডু ঋন অ্যাকাউন্ট খুলে ওই ব্যাংক থেকে ঋন নিই। আমি অগ্রণী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার পর ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আমার বরাবর মেডু হিসাব নং ১৮ এর চেক নং ৭৫৫৫৪৮২-৭৫৫৫৫০০ মোট ১৯টি পাতা সম্বলিত চেক বই ইস্যু করেন। আমি মেডু হিসাব নং ১৮ এর চেক শুধুমাত্র অগ্রণী ব্যাংক আহলাদিপুর শাখা থেকে টাকা উঠানোর কাজে ব্যবহার করতাম এবং দোকানের ড্রয়ারে রেখে দিতাম।

একসময় সড়ক বিভাগ কর্তৃপক্ষ আমার ভাই ভাই সাইকেল ষ্টোর দোকানটি ভেঙে দিলে আমি দোকানের যাবতীয় মালামাল আমার বন্ধু মজিবরের বাড়িতে তার হেফাজতে রাখি। এমনকি মেডু হিসাব নং ১৮ এর চেক নং ৭৫৫৫৪৮২-৭৫৫৫৫০০ মোট ১৯টি পাতা সম্বলিত আমার অস্বাক্ষরিত চেক বইটিও বিশ্বাস করে মজিবরের কাছে গচ্ছিত রাখি।

এক পর্যায়ে আমি মজিবরকে দোকানের সকল মালামাল, ৪১টি রিক্সা-ভ্যান ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বুঝিয়ে দিয়ে ২২/০৪/২০০৮ ইং তারিখে বিদেশ চলে যাই। সেসময় আমি বিশ্বাস করে আমার চেকবইটিও মজিবরের কাছেই রেখে যাই। তখনই শুরু হয় আমার সাথে মজিবরের বিশ্বাস ঘাতকতার পর্ব। টাকার লোভে মজিবর আমার মেডু হিসাব নং ১৮ এর চেক বই থেকে আমার অস্বাক্ষরিত 03D- ৭৫৬৫৪৮২ নং চেকে জাল স্বাক্ষর দিয়ে ১৪ লাখ টাকা অংক বসিয়ে আমার নামে রাজবাড়ীর বিজ্ঞ জুডিশিয়াল আমলী আদালতে মামলা দায়ের করে। যা বর্তমানে বিজ্ঞ দায়রা জজ বাহাদুর আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আমি বিদেশ থেকে এসে মজিবরের কাছে গচ্ছিত রাখা আমার দোকানের মালামাল ও রিক্সা-ভ্যানের হিসাব চাইলে সে আমাকে কোন হিসাব দেয়না। এমনকি একটি রিক্সা-ভ্যানও আমাকে ফেরৎ দেয়না। এছাড়া সে আমার মেডু হিসাব নং ১৮ এর চেক নং ৭৫৫৫৪৮২-৭৫৫৫৫০০ মোট ১৯টি পাতাও ফেরৎ দেয়না। এসব ফেরৎ চাওয়াতে গত ২৩/০১/২০২০ তারিখে মজিবর ও তার মেয়ে শিল্পী বেগম এবং জামাতা আবুল কালাম আমাকে মারপিট করতে আসে। এছাড়া ভবিষ্যতে এ বিষয় নিয়ে কথা বললে তারা আমার ফাঁকা চেকে ইচ্ছামতো টাকার অংক বসিয়ে জাল স্বাক্ষর করে আদালতে আরও মিথ্যা মামলা দায়ের করে আমার ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে আমি মজিবরের কাছে থাকা আমার চেক বই উদ্ধারের জন্য গত ১০/০২/২০২০ইং তারিখে রাজবাড়ীর বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মজিবর ও তার মেয়ে এবং জামাতার বিরুদ্ধে ফৌজদারী কার্যবিধি ৯৬/৯৮ ধারায় একটি মামলা দায়ের করি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে মজিবরের বাড়ি তল্লাশি করার আদেশ দেন। সদর থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে খানখানাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এসআই জাফর ইকবাল বৃহস্পতিবার মজিবরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আমার চেকবই, চেকবইয়ের একটি পাতা, ইন্স্যুরেন্সের ফাইল ও টাকা জমার বই উদ্ধার করেছেন। এখন আমি কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছি।

খানখানাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এসআই জাফর ইকবাল বলেন, ‘আদালতের তল্লাশি পরোয়ানার (সার্চ ওয়ারেন্ট) পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে মামলার বিবাদী মজিবর শেখের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অগ্রণী ব্যাংক আহলাদীপুর শাখা কর্তৃক মামলার বাদী ইসলাম মিয়ার নামে ইস্যুকৃত মেডু হিসাব নং ১৮ এর চেক বই, চেকবইয়ের একটি পাতা, ইন্স্যুরেন্সের ফাইল ও টাকা জমার বই উদ্ধার করা হয়েছে। চেকবইয়ের বাকী পাতাগুলোর বিষয়ে মজিবর রহমানকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোন সদুত্তর দেননি। উদ্ধারকৃত চেক বই, চেকবইয়ের একটি পাতা, ইন্স্যুরেন্সের ফাইল ও টাকা জমার বই জব্দ করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর