,

সর্বশেষ :
খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে ‘মানবিক রাজবাড়ী’ রাজবাড়ীতে সরকারি নির্দেশনা না মানায় ৩ দোকানিকে জরিমানা খানখানাপুরকে করোনামুক্ত রাখতে নিরলস পরিশ্রম করছেন বশির ও ফরহাদ রাজবাড়ীতে অসহায় মানুষের মধ্যে খিচুরি বিতরণ পাংশায় সেই যুবকের শরীরে করোনা পাওয়া যায়নি রাজবাড়ীতে আরও কঠোর হচ্ছে প্রশাসন রাতের আধাঁরে দরিদ্রদের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিলো ‘মানবিক রাজবাড়ী’ রাতের আধাঁরে দরিদ্রদের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিলেন ‘ঢাকাস্থ খানখানাপুর সমিতি’র সদস্যরা ঢাকা থেকে পালানো করোনায় আক্রান্ত তরুণীকে পাওয়া গেল রাজবাড়ীতে বসন্তপুরে মাছরাঙা ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

বঙ্গবন্ধু মিষ্টি খাইয়েছিলেন, সে স্মৃতি আজও ভোলেননি রাজবাড়ীর হাবু

News

রাজবাড়ী: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চাচা খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেনের গোপালগঞ্জের বাড়িতে গৃহপরিচারকের কাজ করতেন হাবিবুর রহমান হাবু। বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতেও কাজ করেছেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের নিমতলা গ্রামের হাবু। আজও বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলো তরতাজা হাবুর মনে। প্রায়ই স্বপ্নে দেখেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এসেছেন তার বড়িতে।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে এই প্রতিবেদক গিয়েছিলেন নিমতলা গ্রামের হাবুর বাড়িতে। সেখানে কথা হয় তার সঙ্গে। আলাপচারিতায় উঠে আসে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার ঘিরে হাবুর স্মৃতিগুলো।

হাবু বলেন, ‘১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুর চাচাত দুলাভাই ক্যাপ্টেন বদরউদ্দিন জামানের মাধ্যমে আমার সেজ ভাই আবুল (হাবুল) বঙ্গবন্ধুর টুঙ্গিপাড়ার বাড়িতে গৃহপরিচারকের কাজ নিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে আমার সেজ ভাই আমাকে নিয়ে কাজে লাগিয়ে দেন বঙ্গবন্ধুর চাচা শেখ মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে। তখন আমার বয়স ১২ বছর। বঙ্গবন্ধু তো ঢাকায় থাকতেন। মাঝেমধ্যে তিনি গ্রামের বাড়িতে যেতেন। ওই বাড়িতে কাজ করার সুবাদে আমি বঙ্গবন্ধুকে অনেক কাছ থেকে দেখেছি।’

বঙ্গবন্ধুর চাচার বাড়িতে কাজ করার সুবাদেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতেও একসময় কাজ করার সুযোগ হয় হাবুর। সেইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুকেও তার নিজ বাড়িতেই খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন তিনি। সেই স্মৃতি মনে করে হাবু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর চাচাত ভাই শেখ কবির হোসেনের বিয়ে ছিল। ওই সময় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে একটি অনুষ্ঠান হয়। সেই অনুষ্ঠানের জন্যই ওই বাড়িতে কাজ করার সুযোগ হয়। টানা ১৮ দিন কাজ করেছি ওই বাড়িতে।

হাবু বলেন, অনুষ্ঠানের দিন আমি খাওয়া-দাওয়া শেষ করে খাবার টেবিলে বসে ছিলাম। বঙ্গবন্ধুও তখন পাশেই ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর চাচাত দুলাভাই ক্যপ্টেন বদরউদ্দিন জামান তখন আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে। বললেন, এটা হাবুলের ছোট ভাই, ওর নাম হাবু। তখন বঙ্গবন্ধু হেসে দিয়ে বললেন, হাবুল তো কালো, কিন্তু ওর ভাইটা তো ভালোই ফর্সা। এরপর বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে আমাকে একটি প্লেট ভরে মিষ্টি দিয়ে খেতে বললেন। আমি বললাম, ‘আমি তো কেবলই খাইছি। এত মিষ্টি তো খাইতে পারব না।’ তখন বঙ্গবন্ধু হেসে দিয়ে বললেন, ‘না, তুমি যা পারো, তাই খাও।’ পরে আমি কাটা চামচ দিয়ে একটা মিষ্টির অর্ধেক খাইলাম। বঙ্গবন্ধুর এই স্মৃতিটা আমি কোনোদিনও ভুলতে পারব না।

বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে কাজ করার সুবাদে শেখ পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের সঙ্গেও স্মৃতি জমা হয়েছে হাবুর। বলেন, ‘আমরা দুই ভাই বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যের মতোই ছিলাম। যে ১৮ দিন ধানমন্ডির বাড়িতে ছিলাম, কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমি শেখ রাসেলের সঙ্গে খেলতাম। রাসেলের বয়স তখন চার-পাঁচ বছর হবে। শেখ রাসেলকে কোলে করে রাখতাম। ১৮ দিন সেখানে থাকার পর আবার বঙ্গবন্ধুর গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়ায় চলে আসি।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কখনো দেখা হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান হাবু বলেন, ‘ওনারা দুই বোন তো বিদেশেই থাকতেন বেশি। আর গ্রামের বাড়িতেও খুব বেশি আসতেন না। তাই আমার সঙ্গে ওনাদের দেখা হয় নাই। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অবশ্যই তাদের সঙ্গে আমার দেখা হতো। বঙ্গবন্ধু মারা না গেলে আমরা দুই ভাই আজও শেখ পরিবারের সঙ্গেই থাকতাম।’

শেখ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হলেন কিভাবে— জানতে চাই হাবিবুর রহমানের কাছে। বললেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কয়েকদিন আগেই আমরা দুই ভাই টুঙ্গিপাড়া থেকে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলাম। তারপরই তো সেই ভয়ংকর ঘটনা, যা কেউ কল্পনাই করি নাই। পরে আর ভয়ে আমরা যাই নাই। ছোট ছিলাম, বয়স কম ছিল। ভয় কাজ করত মনে। এভাবেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম। পরে অবশ্য ২০০১ সালে বঙ্গবন্ধুর চাচা শেখ জাকিরের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়। সেসময় তিনি পরিবার নিয়ে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। কিছু সাহায্য-সহযোগিতাও করেছিলেন।’

তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক হাবিবুর রহমান হাবুর এখন স্থায়ী কোনো কাজ নেই। কখনো রিকশা চালান, কখনো কারও দোকানে কাজ করেন। এভাবেই কোনোমতে সংসার টেনে যাচ্ছেন। তবে এই টানাপোড়েনের এই যাপিত জীবনের মধ্যেও জাতির জনকের পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি কখনো ভুলতে পারেন না হাবিবুর রহমান। স্বপ্নের মধ্যেও ফিরে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু।

হাবু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারে সঙ্গে কাটানো স্মৃতি আমরা দুই ভাই কোনোদিনও ভুলতে পারব না। তাদের বাড়িতে কাজ করলেও আমরা তাদের পরিবারের সদস্যের মতোই ছিলাম। এখনো আমি মাঝে মাঝে বঙ্গবন্ধুকে স্বপ্নে দেখি। একদিন স্বপ্ন দেখলাম, বঙ্গবন্ধু আমার বাড়িতে এসেছেন। তাছাড়া প্রায়ই আমি স্বপ্নে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কথা বলি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও স্বপ্নে দেখি।’

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে কিছুদিন কাজ করার সুযোগ হলেও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে কখনো দেখা হয়নি হাবুর— তা নিয়ে আক্ষেপ আছে হাবুর। তার চাওয়া, একবারের জন্য হলেও দেখা করতে চান তার সঙ্গে। হাবু বলেন, ‘আমার জীবনে একটাই আশা আছে, আমি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চাই। বঙ্গবন্ধুকে তো মাঝেমধ্যেই স্বপ্নে দেখি, শেখ হাসিনাকেও স্বপ্নে দেখি। তার সঙ্গে দেখা হওয়ার স্বপ্নটা যেন বাস্তব রূপ পায়, এটুকুই চাওয়া।’

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর