,

সর্বশেষ :
সাবেক সচিব ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার রাজবাড়ীর কৃতি সন্তান বজলুল করিম ও তার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত রাতের আঁধারে দরিদ্রদের বাড়ি বাড়ি ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দিলো ‘মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ মন্দিরের সামনে গাঁজা খেতে নিষেধ করায় প্রতিমা ভাংচুর বড় ধরণের করোনা ঝুঁকিতে রাজবাড়ী বালিয়াকান্দির নবাবপুর ইউনিয়নের ১১০০ হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে সরকারি ত্রাণ বিতরণ বসন্তপুর ইউনিয়নের ৮০০ হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে সরকারি ত্রাণ বিতরণ হতদরিদ্রদের বাড়ি বাড়ি ঈদের খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিলেন প্রবাসীরা করোনা উপসর্গ নিয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু, দুই বাড়ি লকডাউন করলেন এসিল্যান্ড রাজবাড়ীর করোনা যোদ্ধা চিকিৎসকদের N95 মাস্ক দিলেন সাবেক জেলা জজ ‘আসমা আসাদ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী ও ঈদ উপহার বিতরণ

রাজবাড়ীতে হতাশায় দিন কাটছে দুগ্ধ ও গরু মোটাতাজাকরণ খামারিদের

News

রাজবাড়ী : করোনাভাইরাসের কারনে দেশের এই পরিস্থিতিতে রাজবাড়ী জেলার হোটেল ও মিষ্টির কারখানা বন্ধ থাকায় উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে না পারায় চরম বিপাকে পড়েছে জেলার ২ শতাধিক দুগ্ধ ও গরু মোটাতাজাকরণ খামারিরা।

দিনের পর দিন হাজার হাজার লিটার দুধ নিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা। লোকসানে বিপাকে পড়া এসব খামারিদের মাথায় এখন ঋণের বোঝা।

জেলার সবচেয়ে বড় দুগ্ধ ও গরু মোটাতাজাকরণ খামার সদরের আলীপুর ইউনিয়নের আলাদীপুর গ্রামের ‘এপিসোড এগ্রো লিমিটেড’।

রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে এই খামারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৩ শতাধিক গাভী দুধের ভারে নড়তে পারছেনা। শ্রমিকেরা দুধ সংগ্রহে অনিহা প্রকাশ করছে। এসব গাভীর বাছুরগুলো দুধ খেয়ে শেষ করতে পারছেনা। অতিরিক্ত দুধ সংগ্রহ করে তা ড্রামে রাখা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় দরিদ্র মানুষের মাঝে দুধ বিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এপিসোড এগ্রো লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৩ সালে ব্যাংক ঋণ নিয়ে এই দুগ্ধ ও গরু মোটাতাজাকরণ খামার শুরু করি। বর্তমানে এই খামারে ৩ শতাধিক উন্নত জাতের গাভী গরু, ২ শতাধিক বাছুর ও ২ শত ২০টি উন্নত জাতের ষাঁড় পালন করা হচ্ছে। প্রতিদিন খামারে প্রায় ৯শত লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। গত ১০ মার্চের পর থেকে জেলার সকল হোটেল ও মিষ্টির দোকান করোনা ভাইরাসের কারনে বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, এতে করে খামারে উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে পারছি না। কোন কোম্পানিও দুধ কিনছে না। এতে করে প্রতিদিনের দুধ উৎপাদন লোকসান হচ্ছে। পাশাপাশি এই খামারে ২৪জন শ্রমিক কাজ করে। তাদের খাবার ও বেতন দিবো কিভাবে তা বুঝতে পারছিনা। প্রতিদিন প্রায় দেড়লক্ষ টাকা লোকসান হচ্ছে। এরপর তো গরুর খাদ্য, ওষুধ এর সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উৎপাদিত দুধ শ্রমিক ও স্থানীয়দের মাঝে বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে।

মিজানুর রহমান আরো বলেন, আমার মত জেলার প্রায় ২শত খামারি এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে লোকসানে পরেছে। সরকারের প্রতি আমাদের আকুল আবেদন যেন খামারিদের প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়া হয়।

খামারের শ্রমিক মোঃ সাদ্দাম বলেন, আমি এই খামারে ৪ বছরের বেশি সময় কাজ করছি। এমন খারাপ অবস্থা আগে কখনও হয়নি। মালিক দুধ বাজারে বিক্রি করতে পারছেনা। তাই আমাদের ও বেতন দিতে পারছেনা। এখন আমরা দরিদ্র অসহায় মানুষ পরিবারের সদস্য নিয়ে কিভাবে বাঁচবো।

জেলা সদরের চককেষ্টপুর এলাকার তরুন গো-খামারি মোঃ জাহিদ বলেন, আমার খামারে ৫টি গাভী ও ৫টি ষাঁড় গরু রয়েছে। খাদ্য সংকটের কারনে গরুগুলোকে ভালোভাবে যত্ন নিতে পারছিনা। দুধ বিক্রি করতে চরম সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। সরকারী সহযোগীতা কামনা করছি।

রাজবাড়ী জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ফজলুল হক জানান,দেশের এই পরিস্থিতিতে খামারিরা আসলেই অসহায় হয়ে পড়েছেন। নিয়মিত মোবাইল ও এ্যাপের মাধ্যমে খামারিদেরকে নানাবিধ দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাদের কে বলা হচ্ছে উৎপাদিত দুধ দিয়ে ঘি তৈরী করে স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রি করার। পাশাপাশি ঘি সংরক্ষণ করে রাখাতে বলা হয়েছে। সরকার খামারিদের পাশে সহযোগীতার জন্য আছেন।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর