,

সর্বশেষ :
সাবেক সচিব ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার রাজবাড়ীর কৃতি সন্তান বজলুল করিম ও তার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত রাতের আঁধারে দরিদ্রদের বাড়ি বাড়ি ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দিলো ‘মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ মন্দিরের সামনে গাঁজা খেতে নিষেধ করায় প্রতিমা ভাংচুর বড় ধরণের করোনা ঝুঁকিতে রাজবাড়ী বালিয়াকান্দির নবাবপুর ইউনিয়নের ১১০০ হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে সরকারি ত্রাণ বিতরণ বসন্তপুর ইউনিয়নের ৮০০ হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে সরকারি ত্রাণ বিতরণ হতদরিদ্রদের বাড়ি বাড়ি ঈদের খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিলেন প্রবাসীরা করোনা উপসর্গ নিয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু, দুই বাড়ি লকডাউন করলেন এসিল্যান্ড রাজবাড়ীর করোনা যোদ্ধা চিকিৎসকদের N95 মাস্ক দিলেন সাবেক জেলা জজ ‘আসমা আসাদ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী ও ঈদ উপহার বিতরণ

পাংশার গৃহবধূ সাথীর রহস্যজনক মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবী

News

কাজী তানভীর মাহমুদ : রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের গৃহবধূ মোছা. সাথী খাতুন (১৯) এর রহস্যজনক মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে সাথীর পরিবার।ঘটনার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কোন রহস্য উদঘাটিত হয়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩০ মার্চ সোমবার ভোরে। এ ঘটনায় রাজবাড়ী জেলার পাংশা মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে নিহত সাথীর মা মোছা. হোসনে আরা বেগম । মামলা নম্বর ০৩।তারিখ-৩০ র্মাচ ২০২০ইং।

নিহত সাথী ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার বাড়ই গ্রামের মৃত তাহের উদ্দিনের মেয়ে। গত ৪ বছর আগে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের বড় চৌবাড়িয়া গ্রামের মোঃ আলী মন্ডলের ছেলে মোঃ আলাউদ্দিনের সাথে বিয়ে হয়ে পাংশায় বসবাস করতো।মোছাঃ সাথী খাতুন ও মোঃ আলাউদ্দিনের পরিবারে আড়াই বছর বয়সী মোঃ আইরন মন্ডল নামে এক ছেলে সন্তান রয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুসারে নিহত মোছা. সাথী খাতুন এর মা মোছা. হোসনে আরা বেগম (৫৫) অভিযোগ করে বলেন, গত ৪ বছর আগে পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের বড় চৌবাড়িয়া গ্রামের মোঃ আলী মন্ডলের ছেলে মোঃ আলাউদ্দিনের সাথে বিয়ে হয়ে পাংশায় বসবাস করতো। গত ৩০ মার্চ সংবাদ পেয়ে পাংশায় ছুটে এসে শুনি গত ২৯ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে সাংসারিক বিষয়ে আমার মেয়ে সাথী ও জামাই আলাউদ্দিনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তারা ঘুমিয়ে পরে। পরদিন ভোর ৫টার দিকে আলাউদ্দিন আমার মেয়ে সাথীকে বিছানায় না দেখে খুজতে শুরু করে। এরপর বাড়ির দক্ষিণ কোনায় একটি আম গাছের ডালের সাথে ওড়ানা দিয়ে ফাঁস লাগানো সাথির মৃতদেহ পায়। আমার ধারনা আমার মেয়ে সাথীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠ তদন্ত ও ঘটনার সাথে যদি কেউ জড়িত থাকে তাহলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাই।

নিহত সাথীর বড় বোনের স্বামী (দোলাভাই) মোঃ মমিনুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, সাথী ও আলাউদ্দিন গত ৪ বছর আগে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ে করে। এই বিয়েতে পরিবারের কেও কিছু জানতো না। বিয়ের ৬ মাস পরে জানাজানি হয়। বিয়ের পর থেকেই সাথীর স্বামী আলাউদ্দিন তাকে যৌতুকের কারনে মারধর করতো।আলাউদ্দিন সাথী কে বিয়ে করার আগেও একটি বিয়ে করেছিলো। গত ৩০ মার্চ সাথীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে আমি ও আমার শাশুড়ী (সাথীর মা) রাজবাড়ীর পাংশায় যাই। সেখানে পৌছাতে আমাদের দুপুর হয়ে যায়। ততক্ষণে লাশ পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে। লাশের শরীরে আমরা একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। আমাদের ধারনা এটা আত্মহত্যা নয় পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।আমরা ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চাই।

পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুল্লাহ জানান, ঘটনার দিন ৩০ মার্চ আমি সেখানে দেখতে গিয়েছিলাম। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়ে দেয়। এখনও রিপোর্ট আসে নি। রিপোর্ট আসলে সব জানা যাবে। এ ঘটনার বিষয়ে নিহত সাথীর স্বামী মোঃ আলাউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করতে তার মোবাইল নম্বর ০১৭০. . . ৭৬ একাধিকবার ফোন করলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

পাংশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে। এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর