,

সর্বশেষ :
রাজবাড়ী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী পলাশের মনোনয়ন পত্র দাখিল, সাংবাদিক সম্মেলন ‘হারিয়ে গেছে বাবা নামক বটগাছ’ রাজবাড়ীর লাভলু হত্যা মামলার তদন্তভার পিবিআই’কে দেয়ার আবেদন পরিবারের মহান বিজয় দিবসে অ্যাড. এম.এ খালেক স্মৃতি পরিষদের শ্রদ্ধা নিবেদন রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনী গণসংযোগে প্রয়াত বিএনপি নেতা অ্যাড. খালেকের পুত্র পাভেল বঙ্গবন্ধু মানব কল্যাণ পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার কমিটি অনুমোদন পাংশায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রীকে বিয়ে, পরে অস্বীকার রাজবাড়ীতে এইচএসসি’তে ফরম পূরণ করতে না পারা শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন বসন্তপুর ইউপির ৯নং ওয়ার্ডকে ‘মডেল ওয়ার্ড’ বানাতে চান কাজী লুৎফর ৩ বছরেও শেষ হয়নি বাগমারা-জৌকুড়া সড়কের উন্নয়ন কাজ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

‘মধ্যবিত্ত বাবার জীবনী’: কানিজ ফাতেমা

News

রাজবাড়ীর কন্যা কানিজ ফাতেমা অসাধারণ লেখা ‘মধ্যবিত্ত বাবার জীবনী’। আশাকরি লেখাটি আপনাদের ভালো লাগবে।

গত ২১/০৬/২০ ইং তারিখ শ্রদ্ধেয় “বাবা দিবস” গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া থাকার সুবিধার্থে সকলে ঘরে বসেই বাবার সাথে তোলা ছবি ও মূহুর্তগুলো সকলের সাথে শেয়ার করতে পারছেন।প্রাচীনকালে যা সম্ভব ছিলোনা।এখন তা প্রযুক্তির জন্য আমাদের কাছে সহজ ও সুবিধাজনক হয়েছে। আমরা চাইলেই আমাদের সুন্দর মূহুর্তগুলো ছবি তুলে রেখে দিতে পারছি।যখন ব্যস্ততার সময় কাটিয়ে অবসর সময় যাপন করবো তখন ছবিগুলো দেখে স্মৃতি মনে পড়ে যাবে।

“মা ও বাবা ” দিবস নিয়ে আমার কখনো মাথা ঘামানো ছিলোনা।কারণ আমি মনে করি প্রতিদিন যেনো আমি আমার বাবা ও মায়ের কাছে থাকতে পারি ও পাশে থাকতে পারি আজীবন। আমার আল্লাহর কাছে একটাই প্রার্থনা তারা যেমন আমাদেরকে লালন পালন করেছেন আমিও যেনো তাদেরকে যত্ন করার সুযোগ পাই। তাহলে প্রতিদিন তাদের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করবো,কোন দিবসের প্রয়োজন হবেনা।প্রতিদিন তাদের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করতে পারবো।

“বাবা” শব্দটি অত্যন্ত প্রিয় ও আপন।বাবাকে “আব্বু” ডাকার মাঝেই প্রশান্তি খুঁজে পাই।ছোটবেলাতে যখন বাবা ছুটির দিনে আমাদের সাথে থেকে আমাদেরকে পড়তে বসাতেন,মজার মজার গল্প শোনাতেন,পাশে বসে খাইয়ে দিতেন।কতোই না আনন্দমূখর সময় ছিল,মজা নিয়ে খেতাম।বাবা যখন কোলে বসিয়ে মাছের কাঁটা বেঁছে ডিমের মতো করে গোল করে খাওয়াতেন গল্প বলে।কি যে আনন্দ! অদ্ভুত জাদু ছিলো বাবার হাতে।জুমআর দিনে বাবা মিলাদ থেকে ফিরে যখন জিলাপি নিয়ে আমার হাতে দিতেন কত যে খুশি হতাম বলার অপেক্ষা থাকেনা।আমার কাছে শুক্রবার দিনটি ঈদের আনন্দের মতো লাগতো,কারণ আমরা একটা দিনই বাবাকে কাছে পেতাম।শুক্রবার সকালে তাড়াতাড়ি উঠে সবকাজ শেষ করে একসাথে সকালের নাস্তা করা।দুপুরের রান্নার ও বাকি কাজ শেষ করে একসাথে বসে খাবার খাওয়া।বিকেলে নামাজ আদায় করে চা নাস্তা পান করে বাবার সাথে গল্প করা ও টিভি দেখার মধ্যেই দিনের সমাপ্তি।রাতে বাবা যখন দাদা – দাদি, বড় ফুফুকে নিয়ে গল্প বলতেন তখন মন দিয়ে শুনতাম বসে।কারণ দাদা-দাদি ও বড় ফুফুকে নিজের চোখে কখনো দেখিনি।তাদের ভালোবাসা পাওয়ার সৌভাগ্য হয়ে ওঠেনি।যখন বাবার মুখে তাদের গল্প শুনি সত্যি মনে তৃপ্তি ও প্রশান্তির ছাপ ফেলে দেয়।
শুনেছি বড় ফুফু অনেক গুণী ছিলেন।তার কাজের দক্ষতা ছিল প্রশংসাযোগ্য।রাতে ঘুমাতে যেয়ে মনে হয় যেনো দিনটা তাড়াতাড়ি ইতি টেনে দিয়েছে আমাদের ভালো সময়ের।এভাবেই আমাদের জীবনের প্রতিটা অপেক্ষার পর সুন্দর একটা স্মৃতি গড়ে উঠছে।

আমরা মধ্যবিত্ত শ্রেণির।ছোট থেকে দেখে এসেছি বাবার হাড়ভাঙা কঠোর পরিশ্রম। দিনশেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমিয়ে পড়া।ছেলেমেয়েদের সাথে সময় কাটানো যেনো হয়ে ওঠেনা হতভাগ্য বাবাদের।সন্তানের সারাদিনের জমানো গল্প ও শোনা হয়ে ওঠেনা বাবাদের।বাবা বটবৃক্ষ হয়ে আমাদেরকে ছায়া প্রদান করে যাচ্ছেন সবসময়।সকল সমস্যার মধ্যে থেকেও যেনো আমাদের সাথে অত্যন্ত ধৈর্য্যসহকারে নরমভাবে কথা বলেন।চেহারায় চিন্তার ছাপ আসতে দেননা তিনি।বাবা আমাদেরকে সবসময় বাস্তবতার কঠিন পাঠ দান করেন।কারণ বাবা চান আমরা সময় থাকতে এই কঠিন বাস্তবতা শিখে ও বুঝেনি।যাতে জীবনের কঠোর পরীক্ষার মাঝে পড়লে হিম-সিম না খেয়ে লড়াই করে জিততে পারি।তবেই বাবার বোঝানো স্বার্থক হবে।বাবা হাজার সমস্যার মধ্যে থেকেও ভ্রুকিটি পর্যন্ত নেই তার।আমরা বাবার পাশে যেয়ে তখন তাকে আশ্বাস দেয় বাবা নিরাশ হবেননা আমরা সবাই আছি আপনার সাথে।বাবার চোখ থেকে টলমল করে অশ্রু ঝরে পড়ে। তিনি একবুক নিঃশ্বাস নিয়ে আস্হার সাথে বলেন ইনশাআল্লাহ আমরা সকলে পাশে থাকলে সকল সমস্যার সমাধান করতে পারবো।

“বাবা” কে নিয়ে এমন ছোট বড় হাজার স্মৃতি রয়েছে যা লিখলে উপন্যাস হয়ে যাবে।”বাবা” কে দেখে কঠোর পরিশ্রমী,উদ্যোগী,সৎ ও নিষ্ঠাবান এবং কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা পাই।জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করার দৃঢ় পরিকল্পনা করি।ইনশাআল্লাহ পরম করুনাময় মহান আল্লাহর নিকট একটাই প্রার্থনা তিনি যেনো বাবা-মা কে নেক হায়াত দান করেন ও সুস্হ রাখেন।আমিন।

অল্প সময়ে “একজন মধ্যবিত্ত বাবা” র জীবনে চিত্র গল্প আকারে তুলে ধরার চেষ্টা।” বাবা” আপনার জন্য রইলো একরাশ ভালোবাসা।

লেখাঃ কানিজ ফাতেমা (রাজবাড়ী)

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর