,

সর্বশেষ :

বসন্তপুর ইউপির মেম্বার জানে আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ

News

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. জানে আলম ফকির মরজুর বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন ৩ জন ভুক্তভোগী।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগমের কাছে অভিযোগ দায়ের করে অভিযোগের অনুলিপি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ও বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে প্রেরণ করেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জানে আলম ফকির বসন্তপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মো. ইছাক ফকিরের ছেলে।

অভিযোগকারীরা হলেন- বসন্তপুর ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামের মো. ইউসুফ আলী শেখের ছেলে মো. আব্দুর রাজ্জাক শেখ, রঘুনাথপুন গ্রামের মৃত হোসেন মিয়ার ছেলে চাঁন মিয়া ও একই গ্রামের মৃত আজিজল মল্লিকের ছেলে রফিক মল্লিক।

লিখিত অভিযোগে মো. আব্দুর রাজ্জাক শেখ বলেন, ইউপি সদস্য জানে আলম ফকির মরজু বিগত ৮ বছর আগে আমার ভগ্নিপতি মো. ইউনুছের কাছ থেকে নগদ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে তার কাছে ৬০ শতাংশ জমি বন্ধক রাখে। শর্ত ছিলো সে প্রতি বছর উক্ত জমি থেকে ফসল উৎপাদন করে আয়ের অংশ থেকে ১৪ হাজার টাকা করে আমার ভগ্নিপতিকে দিবে। শর্ত মোতাবেক প্রথম ৩ বছর সে আমার ভগ্নিপতিকে ১৪ হাজার টাকা করে দেয়। কিন্তু বিগত ৫ বছর ধরে সে আমাদের কোন টাকা দিচ্ছেনা। বিভিন্ন সময় সে স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে টাকা পরিশোধ করবে বলে অঙ্গীকার করে। কিন্তু পরবর্তীতে সে কারো কথাই রাখে না। বিভিন্ন সময় সে ওই ৬০ শতাংশ জমি আরো অনেকের কাছে বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছে। বর্তমানে সে ওই জমিতে পুকুর কেটে লীজ দিয়ে অন্যান্য ব্যক্তিদের টাকা পরিশোধ করেছে। কিন্তু আমার টাকা সে পরিশোধ করছেনা। আমি টাকা চাইতে গেলে সে নানাভাবে আমাকে ভয়ভীতি দেখায়। সে এলাকার একজন দাগী মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সে বিভিন্ন ধরণের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরণের কাজের কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। আমি মহোদয়ের কাছে সুবিচারের জন্য জোরালো আবেদন করছি।     

মো. চাঁন মিয়া তার লিখিত অভিযোগে বলেন, ইউপি সদস্য জানে আলম ফকির মরজু বিগত ১০ বছর আগে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আমার কাছে তার ১৫ শতাংশ জমি বন্ধক রাখে। উক্ত বন্ধকী জমি আমি নিজেই চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। এভাবে প্রায় ৮ বছর আমি উক্ত জমি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেছি। ২ বছর আগে সে উক্ত জমি অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। কিন্তু সে আমার ২৫ হাজার টাকা ফেরৎ দেয়নি। আমি পাওনা টাকা চাইতে গেলে সে আমাকে মারধর করতে আসে। বিভিন্ন সময় সে স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে টাকা পরিশোধ করবে বলে অঙ্গীকার করে। কিন্তু পরবর্তীতে সে কারো কথাই রাখে না। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে সুবিচারের জন্য জোরালো আবেদন করছি।

মো. রফিক মল্লিক তার লিখিত অভিযোগে বলেন, বিগত ৪ বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে জানে আলম ফকির মরজু আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা ধার নেয়। আমি ৪০ হাজার টাকা অন্যের কাছ থেকে এনে জানে আলম ফকিরের বাবাসহ এলাকার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে তাকে প্রদান করি। তখন সে জানায় নির্বাচন শেষ হলে এক মাসের মধ্যেই সে টাকা পরিশোধ করে দিবে। কিন্তু এই ৪ বছরের মধ্যে সে আমাকে মাত্র ৮ হাজার টাকা প্রদান করে। বাকী ৩২ হাজার টাকা সে পরিশোধ করছেনা। বিভিন্ন সময় সে স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে টাকা পরিশোধ করবে বলে অঙ্গীকার করে। কিন্তু পরবর্তীতে সে কারো কথাই রাখে না। আমি টাকা চাইতে গেলে সে সে নানাভাবে আমাকে ভয়ভীতি দেখায়। সে এলাকার একজন দাগী মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সে বিভিন্ন ধরণের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরণের কাজের কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। আমি মহোদয়ের কাছে সুবিচারের জন্য জোরালো আবেদন করছি।     

এসব অভিযোগের সত্যতা জানতে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে ইউপি সদস্য জানে আলম ফকির মরজুর বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। কুলসুম বেগম নামে ষাটোর্দ্ধ এক বৃদ্ধা নারী বলেন, ৩ বছর আগে জানে আলম ফকির ভিজিডি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ২৫০০ টাকা নেয়। পরে সে আমার কার্ড করে দেয়না। আমি টাকা ফেরৎ চাইলে সে টাকাও দেয়না।

শাহানা বেগম নামে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারী বলেন, ৩ বছর আগে জানে আলম ফকির ভিজিডি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৩৫০০ টাকা নেয়। কিন্তু সে আমার কার্ড করে দেয়না। আমি টাকা চাইলে সে জানায় টাকা ফেরৎ দিতে পারবেনা।

এসব বিষয়ে বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর্জা বদিউজ্জামান বাবু বলেন, ইউপি সদস্য জানে আলম ফকিরের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে ৩ জন ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমি সেই অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি। এর আগে এই ৩ জন আমার কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করলে আমি ইউপি সদস্য জানে আলম ফকিরকে ডেকে অভিযোগের সত্যতা জানতে চাই। সেসময় তিনি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে ৩ জনের টাকা ফেরৎ দিবেন বলে আমার কাছে অঙ্গীকার করেন। কিন্তু পরে তিনি তার কথা রাখেননি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অনেকেই আমার কাছে অনেক অভিযোগ করেন। জানে আলম ফকির কারো কথারই কোন মূল্য দেননা।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলে ইউপি সদস্য জানে আলম ফকির মরজুর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাজ্জাক শেখের ভগ্নিপতির কাছে জমি বন্ধক রাখার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি প্রতি বছরই শর্ত অনুযায়ী তাকে ফসল দিয়ে আসছি। শুধু গত বছর দিতে পারিনি। ওই জমিতে আমি পুকুর কেটেছি। ভেবেছিলাম লীজ দিয়ে রাজ্জাক শেখের টাকা ফেরত দিয়ে দিবো। কিন্তু পুকুর লীজ দিতে পারিনি সেকারণে তার টাকাও ফেরৎ দিতে পারিনি। তবে চাঁন মিয়ার টাকা আমি পরিশোধ করে দিয়েছি। রফিক মল্লিকের টাকাও দিয়ে দিবো। ভিজিডি কার্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কারোর কাছ থেকে টাকা নেইনি। মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসবের সঙ্গে আমি জড়িত নই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। (সূত্র- দৈনিক মাতৃকণ্ঠ)

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর