,

সর্বশেষ :

রাজবাড়ীর কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আমিন হুজুর পঞ্চমবারের মতো গ্রেফতার

News

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী জেলার কুখ্যাত মাদক ব্যাবসায়ী আমিনুল ইসলাম শেখ ওরফে আমিন হুজুর (৩০) কে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ পঞ্চমবারের মতো গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা সদরের শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের ধুলদী জয়পুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এর আগেও ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ চারবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলো আমিন হুজুর। সে নিমতলা রেলগেট এলাকার মৃত নুরুল ইসলাম শেখের ছেলে।

রাজবাড়ী সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, ‘আমিনুল ইসলাম মাদরাসায় পড়ালেখা করেছে। এ কারণে সে মানুষের কাছে আমিন হুজুর নামে পরিচিত। বেশ কয়েক বছর ধরে আমিন হুজুর মাদকের ব্যবসা করে আসছে। তার বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে। ২০১৬ সালের ২৯ জানুয়ারি সে ২৭৫ বোতল ফেনসিডিল ও মাদক বিক্রির ৩৬ হাজার টাকাসহ নিজ বাড়ি থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়। ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ তাকে গ্রেফতার করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। ২০১৮ সালের ২২ জুন ৩০৫ পিস ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। এছাড়া ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ৫২ পিস ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করেন সদর থানা পুলিশের সদস্যরা। এরপর জামিনে বের হয়ে আমিন হুজুর আবারও মাদক ব্যবসা করতে থাকে।’

রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের ধুলদী জয়পুর এলাকা থেকে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আমিন হুজুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আমিন হুজুরের এলাকার লোকজন জানান, ছোটবেলায় এলাকার ওয়াজ-মাহফিলে সুরেলা কন্ঠে গজল গেয়ে মানুষের মন জয় করতো আমিন। এ কারণে এলাকাবাসী অত্যন্ত স্নেহও করতেন তাকে। সুরেলা কন্ঠ ও ধর্মীয় দিকে মনোনিবেশ থাকায় প্রাইমারীর গন্ডি পেড়োনোর পর রিকশাচালক বাবা তাকে ভর্তি করে দেন হাফেজিয়া মাদরাসায়। সেখানে পড়ালেখা করে ২৮ পারা কোরআন মুখস্ত করে সে। পরিবারে অস্বচ্ছলতার কারণে পড়ালেখার পাশাপাশি মানুষকে তাবিজ-কবজ দিয়ে প্রতারণার ব্যবসা শুরু করে আমিন। টাকার প্রতি চলে আসে তার লোভ। আর এই লোভই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জীবনে। এরপর পড়ালেখা বাদ দিয়ে ২০০৮ সাল থেকে কয়েকবছর তাবিজ-কবজের ব্যবসা করে সে। পরে পুরোদমে জড়িয়ে পড়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর