,

সর্বশেষ :
বঙ্গবন্ধু মানব কল্যাণ পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার কমিটি অনুমোদন পাংশায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রীকে বিয়ে, পরে অস্বীকার রাজবাড়ীতে এইচএসসি’তে ফরম পূরণ করতে না পারা শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন বসন্তপুর ইউপির ৯নং ওয়ার্ডকে ‘মডেল ওয়ার্ড’ বানাতে চান কাজী লুৎফর ৩ বছরেও শেষ হয়নি বাগমারা-জৌকুড়া সড়কের উন্নয়ন কাজ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ রাজবাড়ী বাজারে দোকানে ঢুকে মালিককে মারপিটের চেষ্টা রাজবাড়ীতে তুলে নিয়ে কিশোরীকে বিয়ে, কাজিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হক’কে গণ সংবর্ধনা ফুডপ্যান্ডা এখন রাজবাড়ী সদরে বসন্তপুর ইউপির একটি মসজিদে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাজ্জাদ বিশ্বাসের অনুদান প্রদান

পুলিশ ইন্সপেক্টর শহীদুলের সঠিক চার্জশিটে এগিয়ে যায় নারী চিকিৎসক ধর্ষণের ন্যায় বিচার

News
মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১৭মে সঠিক চার্জশিট দাখিলের পর ইন্সপেক্টর শহীদুল ইসলামকে নগদ অর্থ পুরস্কৃত করেন রাজবাড়ীর তৎকালীন পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ীতে নারী চিকিৎসককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার রায়ে তিন আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসক।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ‘রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম’-এর প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় ওই নারী চিকিৎসকের। ন্যায়বিচার পেয়েছেন দাবি করে তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. শহীদুল ইসলামের প্রতি।

তিনি বলেন, ‘মামলায় রায়ে আমি সন্তুষ্ট। আমি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খানখানাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (বর্তমানে পাংশার বাহাদুরপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত) ইন্সপেক্টর মো. শহীদুল ইসলামের প্রতি। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত করে সঠিক চার্জশিট না দিলে হয়তো আমি আজ এই ন্যায়বিচার পেতাম না। আমি মনে করি তার সঠিক চার্জশিটেই এগিয়ে গিয়েছে আমার ন্যায়বিচার।’ একইসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীসহ যারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন তাদের সবার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর থেকেই আমি সবসময় বাহিনীর সুনাম ও সাফল্য অক্ষুন্ন রেখে কাজ করার চেষ্টা করি। এই মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই আমার একটিই লক্ষ্য ছিলো যাতে ভিকটিমের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারি। যে কারণে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমি নিরপেক্ষ চার্জশিট দাখিল করি। এজন্য রাজবাড়ীর তৎকালীন পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি স্যার আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নগদ অর্থ পুরস্কৃত করেছিলেন। মামলার রায়ে ভিকটিম ন্যায়বিচার পেয়েছেন, এটি জেনে আমার কাছে খুব ভালো লাগছে।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই নারী চিকিৎসক ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় এসে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এসময় রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামের মৃত আবুল মোল্লার ছেলে রানা মোল্লা (২৭), একই গ্রামের মৃত মুন্নাফ সরদারের ছেলে হান্নান সরদার (৩২) ও খানখানাপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের আরশাদ মোল্লার ছেলে মামুন মোল্লা (২২) ওই নারীকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে বসন্তপুর ইউনিয়নের মজলিশপুর নিহাজ জুট মিল এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর তারা ওই নারীকে একটি বাঁশ ঝাড়ের মধ্যে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়। রাতে ওই নারী স্থানীয় একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।

পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টার দিকে তিনি র‌্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পে গিয়ে কোম্পানি অধিনায়কের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একইদিন সকাল ১০টার দিকে বসন্তপুর স্টেশন বাজার থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রানা, হান্নান ও মামুনকে গ্রেফতার করে রাজবাড়ী সদর থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। পরে ২৫  ফেব্রুয়ারি ওই নারী চিকিৎসক রানা, হান্নান ও মামুনের নাম উল্লেখ করে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯ (৩) ধারায় রাজবাড়ী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় এজাহারে তিনি গণধর্ষণের ঘটনায় রানা, হান্নান ও মামুন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনের সম্পৃক্ত থাকার কথা বর্ণনা করেন।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খানখানাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. শহীদুল ইসলাম একই বছরের ১৭মে রানা, হান্নান ও মামুনসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) বাদীসহ ১০ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে রানা, হান্নান ও মামুনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক শারমিন নিগার। এছাড়াও তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বাকী তিনজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।   

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর