,

সর্বশেষ :
গোয়ালন্দ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লাঙ্গল নিয়ে লড়ছেন সাংবাদিক হেলাল রপ্তানি খাতে একধাপ এগিয়ে যাবার লক্ষে ‘ডিভিশন প্রাইম গ্রীন’ এর যাত্রা শুরু রাজবাড়ী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী পলাশের মনোনয়ন পত্র দাখিল, সাংবাদিক সম্মেলন ‘হারিয়ে গেছে বাবা নামক বটগাছ’ রাজবাড়ীর লাভলু হত্যা মামলার তদন্তভার পিবিআই’কে দেয়ার আবেদন পরিবারের মহান বিজয় দিবসে অ্যাড. এম.এ খালেক স্মৃতি পরিষদের শ্রদ্ধা নিবেদন রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনী গণসংযোগে প্রয়াত বিএনপি নেতা অ্যাড. খালেকের পুত্র পাভেল বঙ্গবন্ধু মানব কল্যাণ পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার কমিটি অনুমোদন পাংশায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রীকে বিয়ে, পরে অস্বীকার রাজবাড়ীতে এইচএসসি’তে ফরম পূরণ করতে না পারা শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

‘হারিয়ে গেছে বাবা নামক বটগাছ’

News

আমার বাবু মারা যায় ২০১৭ সালে জানুয়ারি ২৮ তারিখ।

মা,বাবু,দিদি ও আমাকে দিয়ে ছোট একটা পরিবার। বাবু অনেক চুপচাপ ছিলো বেশি কথা বলতেন না।আর সবসময় কাজ নিয়ে থাকতেন। শুক্রবার বাসায় থাকতেন তিনি এই একটা দিন ও বাসার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। খুব পরিষ্কার -পরিচ্ছন্ন ছিলো আমার বাবু।নিজের কাজগুলো নিজেই করতে পছন্দ করতেন। বাবু অবসর সময়ে আমার সাথে বসে টিভি দেখতেন।বাবু সিগারেট খেতেন কিন্তু কখনোই আমাদের সামনে খেতেন না।পরে বাবু সিগারেট ছেড়ে দিয়েছিলেন আমাদের জন্য।

আমার ছোটবেলার স্মৃতি মনে পড়ে গেল,ছোটবেলায় আমি অনেক ভয় পেতাম একা ঘুমাতে। এজন্য আমি রাতে বাবু-মা’র  এর সাথেই থাকতাম। হঠাৎ একদিন রাতে ঘুমাতে গিয়ে   বাবুর নাকে  আমার পা লেগে একটু আঘাত লেগেছিল  ঘুমের মধ্যে অজান্তে। মা সকালে ঘুম থেকে উঠার পর আমাকে কথাটা বললে আমি বাবুকে  ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম।কিন্তু বাবু আমাকে কিছুই বলেননি। আমি  একটু দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম।দিদির সাজসজ্জার জিনিসপত্র জানালা দিয়ে ফেলে দিতাম।আমার অতুল বিশ্বাস নাম রেখেছে আমার দিদি।আমি দেখতে একটু গুলোমুলো ও সুন্দর  ছিলাম এজন্য পাশের বাড়ির দিদিরা আমাকে অনেক আদর করতেন।

আমার বাবু দেখতে তামিল হিরোদের মতো ছিলো  তার যৌবনকালে। মা ও দেখতে অনেক সুন্দরী ছিলেন। আমার বাবুকে আমি ও দিদি কখনোই “বাবা” বলে ডাকতে পারিনি। আমরা “বাবু” বলেই ডাকতাম। “বাবু”  ডাকটা আমাদের কাছে মধুর মতো লাগতো। বাবু ছিলেন একজন সৎ, কঠোর পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তি।সকলের মুখে বাবুকে নিয়ে প্রশংসা দেখে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়।আমি মায়ের থেকে বাবুকেই বেশি ভালোবাসতাম।বাবু আমাকে একটু বেশি ভালোবাসতেন দিদির থেকে।আমার মনে পড়ে বাবু আমাকে একবার মেরেছিলেন শুধু, কারণ আমি জিদ করেছিলাম স্কুলে যেতে চাইনি।জীবনে আর কখনোই বাবু আমাকে মারেননি।আমি মাংস খেতে খুব পছন্দ করতাম এজন্য বাবু শুক্রবারে মাছ না এনে আমার জন্য মাংস এনে দিতেন।

বাবু সবসময়ই নিজেকে দোকানের কাজে  ব্যস্ত রাখতেন। কখনো বাবু বসে থাকতে পছন্দ করতেন না সবসময় কাজের মধ্যে থাকতে চাইতেন।শুক্রবারের দিনে ও বাবু নিজের কাজগুলো করে মায়ের কাজে সাহায্য করতেন।সারাদিন কাজের পর বাবুর  বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে যেতো আমরা সবাই বাবুর জন্য অপেক্ষা করতাম একসাথে খাবো বলে।মাঝে মধ্যে আগেই খেয়ে নিতাম আমি ও দিদি।মা  বাবুর জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকতেন।মায়ের ঠান্ডার সমস্যা বিধায় খাবার শেষে বাবুুই সবকিছু গুছিয়ে রাখতেন  মাকে কিছুই করতে দিতেন না।বাবু একজন পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। তার থেকে আমার জীবনের অনেক কিছু শিখতে পারা।ধৈর্য্য  কি আমি বাবুর থেকে শিখেছি, বিপদে ভীত না হয়ে সাহসের সাথে রুখে দাঁড়ানো আমি শিখেছি, মানুষকে বিপদে পড়লে সাহায্য করা আমি শিখেছি, মানুষ ভুল করলে তাকে বুঝিয়ে ক্ষমা করে দেওয়া আমি শিখেছি, গরীব-ধনী বিভেদ না করে সকলকে সমান চোখে দেখা আমি আমার বাবুর থেকেই শিখেছি।আমার বাবু আমার পথপ্রদর্শক, আমার গর্ব,আমার অনুপ্রেরণা।


একদিন আমাকে মা রাগ করেছিলো বলে আমি জিদ করে খাবার খেয়েছিলাম না।বাবু রাতে এসে শোনার পর বাবুও  না খেয়ে বাহিরে বের হয়ে মন্দিরে গিয়ে বসেছিলেন। তারপর আমি বাবুকে ডেকে এনে একসাথে খেলাম।আমার বাবু অনেক মায়াবী ছিলেন একটু কষ্ট পেলেই বাবুর চোখের জল গড়িয়ে পড়ে। আমি ও হয়েছি বাবুর মতো অনেক মায়াবী।  দিদির বিয়ের দিন বাবুকে যেমন করে কান্না করতে দেখেছি ঐ ভাবে বাবুকে কখনো কান্না করতে দেখিনি আমি।আমিও কেঁদে ফেলেছিলাম বাবুর কান্না দেখে। দিদির বিয়ের পর থেকে আমাদের পরিবারে আর্থিক সমস্যা শুরু হয়ে যায়। দিদির বিয়ের আয়োজনটা একটু জাঁকজমকপূর্ণ ছিল অনেক টাকা খরচ  হয়ে যায়। হাতে বেশকিছু টাকা ছিলো। তার কিছু দিন পর পৌরসভা থেকে দোকান ভাঙার নোটিশ দেয়।ঐ জায়গায় আমাদের দোকান বিল্ডিং করার জন্য টাকা দিতে হয়। তারা বলেছিলেন বিল্ডিং করতে একবছর লাগবে।

বাবু বসে না থেকে অন্য জায়গায় দোকান ভাড়া নেয়।বাবুর যা পুঁজি ছিলো তা দিয়েই কাজ শুরু করেন।এক বছরেও বিল্ডিং না তৈরি হওয়াতে বাবু অনেক ভেঙে পড়েন।কিন্তু কখনো তার চিন্তা ভাবনা আমাদেরকে বুঝতে দেননি।আমার পড়াশোনার খরচ, সাংসারিক খরচ অনেক চিন্তায় ফেলে দেয় বাবুকে।বাবু মন ভালো না থাকাতে আমাকে রাগ করতেন দোকানে গিয়ে বসতে বলতেন।মাঝে মধ্যে আমি গিয়ে বসতাম। বাবু আমাকে ১০টাকা করে দিতেন আর বেশি লাগলে আমিই চেয়ে নিতাম বাবুর থেকে।আমি প্রতিদিন খুশি মনে বাবুকে সাইকেল করে দোকানে নিয়ে যেতাম।

দীর্ঘ দুই বছর কিছুদিন পর নতুন দোকানে উঠলাম।দোকানে উঠার সময় আমাদের আর্থিক অবস্হা ভালো ছিলো না।এমতাবস্থায় বাবুকে কেউ সাহায্য করলোনা। দিদি জামাই বাবুর থেকে টাকা নিয়ে বাবুকে সাহায্য করলো।আমাদের বাড়িতে আমার পিসির ছেলে ও মেয়ে থাকতেন। তারা যথেষ্ট বড় ছিলেন কিন্তু তারা আমার বাবুকে সাহায্য করেনি। তাদের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তারা সাহায্য করেনি বাবু বিষয়টা মেনে নিতে পারেনি অনেক কষ্ট পেয়েছেন।

এই অবস্থায় বাবুর পাশে দাঁড়াতে আমি একটা চাকরি শুরু করলাম।চাকরি করে আমি কিছু টাকা জমিয়ে বাবুকে দিলাম ব্যবসা করার জন্য। অভাব অনটন থাকাতে বাবু নিজের জন্য কিছুই কিনতেন না।আমার বিষয়টা দেখে অনেক খারাপ ও কষ্ট লাগে।আমি বেতন পেয়ে বাবুকে টাকা দিই নিজের জন্য কিছু কিনে নিতে। কিন্তু বাবু না কিনে বাজার করে নিয়ে আসতেন সে টাকা দিয়ে।এরপর আমি বাবুর থেকে টাকা চেয়ে নিয়ে বাবুর জন্য কিছু কিনে নিয়ে আসলাম।বাবুর চেহারায় আনন্দের হাসি দেখতে পেয়েছিলাম, খুশিতে চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছিলো।

এভাবেই   সুখ-দুঃখ নিয়ে আমাদের দিন কাটচ্ছিল। আমার দিদির দুই মেয়ে।তখন দিদির বড় মেয়ের জন্মদিন ছিলো ও দোকানের জন্য বই আনতে বাবু ঢাকাতে গেলেন। আমি বাবুকে ২০০০০ টাকা হাতে দিয়ে বললাম ব্যবসা করে আমাকে আবার দিয়ে দিও। কথাটা বলা এজন্য কারণ বাবুকে একথা না বললে বাবু টাকা নিতেন না।বাবু বললেন আচ্ছা ঠিক আছে তাই হবে।বাবু রওনা হলেন দিদির বাড়ির উদ্দেশ্য। দিদির বাসায় জন্মদিন শেষ করেই বাবু তার পরের দিন বইয়ের বাজার এ গিয়ে বই কিনে ফেললেন।দিদি বাবুকে বার বার বলেছিলো বই কেনা হলে আবার দিদির বাসাতে সেদিন থেকে পরের দিন আসতে।বাবু বই কিনেছিল ১লাখ টাকার।বাবু বই কিনে দিদিকে না জানিয়ে বাসে উঠে গিয়ে দিদিকে জানায় তিনি চলে আসছেন বাড়িতে। দিদি কথা শুনে অনেক রেগে যান।

আমি নয়টার দিকে বাবুকে ফোন দিই।বাবু বললো আমি ঘাটপার হচ্ছি।এইতো কিছু সময় পর চলে আসবো গোয়ালন্দতে আছি।আমি আবার ফোন দিয়েছি বাবু তখন চা  খাচ্ছিলেন।মহেন্দ্রের ভরে যাবার অপেক্ষায়  বাবু চায়ের দোকানে বসে ছিলেন।হঠাৎ এক ঝড় এসে যেন সব তছনছ করে দিয়ে গেলো আমাদের জীবনে। যখন কিছু সময় পর  বাবুর ফোনে শুনতে পেলাম অপরিচিত এক ব্যক্তির আওয়াজ ।আমাকে জিজ্ঞেস  করলেন, আপনি কে?আমি বললাম, আপনি কে বলছেন?তিনি বললেন, এইটা কার ফোন? আমি বললাম, আমার বাবুর ফোন।তিনি কলটা কেটে দিলেন।আমি কল দিচ্ছি তিনি ফোন ধরলেন না।আমি খুব ভয় পাচ্ছিলাম, মনে হয়েছিল যে কেউ বাবুর কাছ থেকে ফোন নিয়ে নিয়েছে না কি হয়েছে?

তারপর আবার ফোন আসলো আমাকে তিনি কিছুই বলছেন না।জিজ্ঞেস করলেন, আমার বাসায় আর কে, কে আছেন বয়স্ক। আমি বললাম কি হয়েছে? বলছেন না কেনো আমাকে। আমি বললাম মা ও কাকা আছেন।তিনি ফোন কাকার কাছে দিতে বললেন।আমি কাকাকে ফোন দিলাম, তিনি কাকাকে বললেন আপনার ভাইয়ের ছোট  একটা এক্সিডেন্ট  হয়েছে। আপনারা  তাড়াতাড়ি একটা এম্বুলেন্স নিয়ে আসেন। আমি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না  বুঝতে পারলাম কিছু হয়েছে তখন থেকেই কান্না শুরু করে দিলাম রীতিমতো। আমি ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে আমার বাবুর?তিনি বললেন, তেমন কিছু হয়নি একটু হাত-পায়ে লেগেছে ঠিক আছেন উনি।আমি ভাবলাম তাহলে উনি এম্বুলেন্স এর কথা কেনো বললেন? আমি পাশের বাসার কাকাকে বললাম কাকা এসে লোকটার সাথে কথা বললেন। তারপর বললো চলো আমরা যায় ওখানে।কাকার জামাই পুলিশ।  কাকা তার জামাইকে কল দিয়ে খোঁজ নিতে বললেন কি হয়েছে জানতে।জামাইবাবু জানালেন আমাদের একটা এম্বুলেন্স নিয়ে যেতে  হবে  সেখানে  তাছাড়া কোন সমস্যা নেই।

আমাদের যেতে রাত হয়ে গেল।আমি শুধু বাহিরে এক্সিডেন্ট এর জায়গা খুঁজছিলাম।যে পুলিশ কল দিয়েছিলেন তিনি আমাদের ডাক দিয়ে নিয়ে গেলেন যে জায়গায় আমার বাবুকে রাখা হয়েছিল। আমার বুকটা হু হু করে কেঁদে উঠলো বাবুর লাশ দেখে।আমি বিশ্বাস করছিলাম না আমার বাবু আর নেই।

জানতে পারলাম বাবু চা খেয়ে যখন রাস্তা পার হচ্ছিলেন তখনই এক্সিডেন্টটা হয়েছে। শীতকাল ছিল বাবুর কানে মাফলার জড়ানো ছিল এজন্য বাবু শুনতে পাইনি সামনে আসা বাসটার হর্ণ।বাসের আগাটা বাবুর মাথায় এসে  লেগেছিল। আমরা বাবুকে নিয়ে আসলাম বাড়িতে আমার যেন পৃথিবী উল্টে গেল।কিছুক্ষণ আগে তো সবকিছুই ঠিক ছিল।দিদি আসলো ভোরের দিকে।এসেই সে কি কান্না। দিদি আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো, ভাই আমাদের ছেড়ে কেনো চলে গেলেন বাবু। দু’জনেই কান্না করলাম অনেক।বাবুর পকেটে পাওয়া গেলো আমার দেওয়া টাকা রক্তেভেজা।বাবু  আমার দেওয়া এক টাকাও খরচ করেনি। আমাদের ওপর কষ্টের আকাশ ভেঙে পড়লো।কষ্টের সীমা রইলনা আমাদের।

বাবু চলে যাওয়াতে সবকিছু সর্বশান্ত হয়ে গেলো আমাদের জীবনে।আমি চেষ্টা করছি বাবুর দেখা আমাকে নিয়ে স্বপ্নগুলোকে পূর্ণ করতে।বাবু রয়েছেন আমার মনে প্রাণে।বাবুকে সবসময় মনে পড়ে। বাবুু মারা যাওয়ার পর আমাদের দোকানে  সব জিনিসপত্রের মধ্যে  একটা বাক্স ছিলো। তার মধ্যে  বাবুর লেখা একটা ডায়েরি আমি খুঁজে  পেলাম।ডায়েরিতে লেখা বাবুর কাটানো সারাদিনের কথা দেখতে পেলাম। এটা সম্পর্কে আমাদের জানা ছিলো না।ডায়েরিতে বাবু ভালো লাগা, খারাপ লাগা সবকিছুই লিখে রাখতেন। এর মধ্যে অনেক কথাই বাবু আমাদেরকে বলেননি। কারণ বাবু আমাদেরকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন।যদি তিনি তার চিন্তার কথাগুলো বলতেন তাহলে  আমরা   টেনশনে পড়ে যেতাম।আমাদের কাজে মন বসতো না, নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে  পারতাম না।এজন্য  বাবু কখনোই কোন সমস্যার কথা বলতেন না আমাদেরকে।নিজেই সবকিছু একলা হাতে সাজিয়ে রাখতেন।।

বাবু তোমাকে অনেক মিস করি।তোমার সাথে কাটানো প্রতিটা সময় আমাকে তাড়া করে বেড়ায়।মনে পড়ে যায় বাবুর ডাক,বাবুর সাথে শুক্রবারে  রাতের খাবার খেয়ে  টিভি দেখা, বাবুর সাথে তার দোকানে কাটানো সময়গুলো,আমার জন্য বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে রেখে দেওয়া যাতে বাহিরের খাবার খেয়ে আমি অসুস্থ হয়ে না পড়ি,বাবুর রাগ, অভিমান ও ভালোবাসা, বাবুর অনুপ্রেরণামূলক কথা,বাবুকে সাইকেলে করে দোকানে নিয়ে যাওয়া।বাবুর জামার উপরের বোতাম খুলে রাখাতে মিষ্টি রাগ করে ঠিক করতে বলা।বাবুর কষ্ট পেয়ে কান্না করা দেখে নিজেই কান্না করা, হাত দিয়ে বাবুর চোখের জল মুছে দেওয়া।বাবুর জন্য কিছু কিনে এনে হাতে দেওয়ার পর বাবুর মুখের  অমায়িক হাসি এবং আনন্দে চোখে জল চলে আসা।অতঃপর বাবুর সাথে এক্সিডেন্টের আগে বলা শেষ কথাগুলো আমার কানে সবসময় প্রতিধ্বনিত হয়।

বাবু তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তোমাকে অনেক মনে পরে আমার।তুমি আমার পৃথিবী ছিলে আমি কখনোই তা বলতে পারিনা।আশীর্বাদ করো আমার জন্য আমি যেনো তোমার দেখানো পথে চলতে পারি।ওপারে ভালো থাকো “বাবু”।গল্পটি আমার ও আমার বাবুর কাটানো সময়ের গল্প।

লেখিকা :

কানিজ ফাতেমা
বাংলা, অনার্স (৪র্থ বর্ষ)
রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর